আমি আমেরিকার সাথে হাত মেলাতাম বন্ধুত্ব করতাম, বন্ধুত্ব করতাম ইসরায়েলের সাথে তবে হ্যাঁ, এরদোগানের মত দুচারটি ফাকা বুলি ছাড়তাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আর বেশি কিছু না । আমি আমার দেশকে ভালবাসি। আমেরিকা ও ইসরায়েল বিরোধী হওয়ার কারণে আমি আমার দেশের উপর অবরোধ চাই না ! আমি চাই আগে আমার দেশের উন্নতি তারপর সময় সুযোগ হলে অন্যদের জন্য চিন্তা করব, এটা ঠিক যদিও আমার দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যথেষ্ট উন্নতি করেছে যা কোনো মুসলিম বা তৃতীয় বিশ্বের দেশ করতে পারেনি কিন্তু এতই সন্তুষ্ট না আমি আরো আরো দ্রুত উন্নতি চাই । আমি চাই আমার দেশ একটি বিশ্ব পরাশক্তি হোক -অর্থনীতিতে ও সামরিক উভয় দিক দিয়ে এবং আমি এটা চাই মাত্র ১০ বছরের মধ্যে। এবং আমি বিশ্বাস করি আমার দেশের নেতাদের সেই দেশ প্রেম ও চেতনা আছে কিন্তু তাদের যা নেই তা হল স্বার্থপরতা। ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমাদের কথা্ বলে কি লাভ ? ফিলিস্তিনিরা সুন্নী কিন্তু যেখানে ওদের সুন্নী ভাইয়েরা ওদের জন্য কিছু বলে না সেখানে আমরা শিয়া হয়ে কেন তাদের সহায়তা করব ? আর কথা হল ওরা তো বেশিরভাগই শিয়াদের কাফের মনে করে !এই চলমান গাজা যুদ্ধে হামাস যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে সেসব কাদের তৈরি ও কোনো দেশের প্রযুক্তির ? আমাকে দেখান কোনো সুন্নী দেশ হামাসকে সহায়তা করেছে ? আজকে হামাস যদি ঐ প্রতিরোধ না করতে পারত তাহলে হামাস নি:সন্দেহে টিকে থাকতা না, গাজাবাসী আজকে মাটির সাথে মিশে যেত কিন্তু ইরানই একমাত্র এগিয়ে এসেছে শুধু খাদ্য, ওষুধ নয় হাই ক্লাস অস্ত্র,মিজাইল ও টানেল প্রযুক্তি দিয়ে ? যার জোরে তারা এখন ইসরাইলকে নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে।এখানে ইরানের স্বার্থটা কি ?
শিয়ারা যখন সুন্নীদের সম্পর্কে বলে তখন তারা বলে আমাদের সুন্নী ভাই, আর যখন সুন্নীরা শিয়াদের সম্পর্কে বলে তখন সুন্নীরা বলে শিয়া ধর্মাবলম্বী আবার অনেকেই বলে শিয়া কাফের !!! ইরান মুসলিম ঐক্য নিয়ে এপর্যন্ত যতগুলো আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে, সেই সম্মেলনগুলিতে বাংলাদেশ থেকেও অনেক সুন্নী আলেম যোগ দিয়েছিল বা দেয় এপর্যন্ত কোনো সুন্নীদেশ, সুন্নী সংস্থা, সুন্নী সমাজের কেউ তার ১ শতাংশও করেনি !!! রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইরান জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নেওয়ার দ্রুত আহবান জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের কয়েকবার ত্রাণ দিল এমনকি মিয়ানমারে ইরান সংসদীয় প্রতিনিধি দলও পাঠিয়েছিল মিয়ানমার সরকারের সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলার জন্য , এমনকি রোহিঙ্গাদের সরাসরি টাকাও দিয়েছে ইরান !! তেমনি সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষ পীড়িতদেরও ইরান যথেষ্ট সহায়তা করেছে যা কোনো আরব রাস্ট্র করেনি !! অথচ এরা সবাই সুন্নী !!! ইরান সুন্নীদের জন্য যা করেছে ও করতেছে সেই তুলনায় সুন্নীরা শিয়াদের তুলনায় কি করেছে ? হ্যাঁ, সুন্নীরা যা করেছে তা হল এরবিনিময়ে শিয়াদের তারা হত্যা করেছে !!!আপনারা এত্ত সুন্নী দেশ-অথচ একটি রাস্ট্রও এমন নেই যে আমেরিকা, ইউরোপ ও ইসরায়েলর দালালি করে না !!! আমি দেখেছি সুন্নী আলেম ও শিয়া আলেমের মধ্যে আকাশ জমিন তফাৎ !!তারা শুধু ধরা বাধা কিছু জিনিস গলাধঃকরণ করে আর সারা জীবন তা উগড়ে দেয়,মুসলিম উম্মাহর ইউনিটি নির্যাতন,সাইন্টিফিক অগ্রগতি, মডার্নাইজেশন নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। যেখানে বাংলাদেশের আলেম বলেন ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট লিখে, আরব আমিরাতের আলেম ফতুয়া দেয় মঙ্গল গ্রহে যাত্রা হারামসহ আরো কতকি সেখানে ইরানের মত একটি অত্যন্ত আধুনিক ও বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগতভাবে তুলনামূলক অনেক উন্নত একটি দেশ পরিচালনা করতেছে আলেমরাই !!!
তুরস্ক, মিসরের মত সেক্যুলার শাসন ব্যবস্থা ইরানেরও ছিল, তারচেয়েও জঘণ্য ছিল কিন্তু ইরানি আলেমরাই বিপ্লব ঘটিয়েছেন এজন্য তারা যেমন মুরসি, এরদোগানের মত সেক্যুলার সংবিধানে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি তেমনি আইএসআইল, আল কায়েদা, তালেবানদের মত নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ হত্যা করেও ক্ষমতায় আসেনি বা বিপ্লব ঘটায়নি !! ইরান ইচ্ছে করলেই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে পারে যেমনটি দিয়েছে সুন্নী তুরস্ক, জর্ডান ও মিসর । এতে ইরানের কোনো ক্ষতিই নেই বরং লাভ হবে ইরানের উপর একটি অবরোধও থাকবে না। আপনারা যেমনটি বলেন এরদোগান কৌশল নিয়েছে আমার মনে হয় ইরানেরও তেমন কৌশল নেওয়া উচিৎ -ফিলিস্তিনিরা মরে মরুক তাতে ইরানের কি ? ইরানের উচিৎ আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে হাত মিলিয়ে গর্দভ আরবদের শায়েস্তা করা ! ইরান ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করতেছে ভবিষ্যতে ইরান এর থেকে কোনো উপকারই পাবে না, তার প্রমান ইতোপূর্বে হামাস দিয়েছে। যে হামাসকে দুধ কলা দিয়ে পুষতেছে ইরান সেই হামাস সিরিয়া ইস্যুতে ইরানের কথা শুনেনি ! সিরিয়ার জঙ্গীদের পক্ষ নিয়েছিল যাদেরকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সিরিয়া পাঠিয়েছে আমেরিকা, সৌদি, তুরস্ক ও ইসরায়েল ! ভবিষ্যতে ইরানের সাথে কোনো আরব দেশের যুদ্ধ বা কোনো সংকট সৃষ্টি হলে আমি নিশ্চিত এই হামাস বলেন আর ফিলিস্তিনি বলেন এরা ইরানকে কোনোমতেই সাপোর্ট করবে না যদিও ইরান ন্যায়ের পথে থাকে ! এর প্রমান পাওয়া গেছে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ! ইরান আক্রান্ত ও ন্যায়ের পথে থাকার পরেও কোনো সুন্নী রাস্ট্র ইরানকে সমর্থন করেনি !! শুধু তাই নয় আরব রাস্ট্রসহ সুন্নী রাস্ট্ররা ইরানকে ধ্বংস করতে সাদ্দামকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছিল !! আর এজন্য অবরোধ থাকলে হবে না। শুধু অবরোধ প্রত্যাহার নয় আমাদের দরকার কিছু কৌশলী নীতি গ্রহন। আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইউরোপ সবার সাথেই আমাদের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও কুটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে। আমরা যদি বিশ্ব পরাশক্তি হই এই সুন্নীরাই সেদিন আমাদেরকে মুসলিম ভাই বলে বুকে টেনে নিবে । যেদিন তাদের আর কোনো প্রয়োজন আমাদের হবে না সেদিন তারা আমাদের পাশে এমনিতেই থাকবে। কারণ সেদিন আমরা হব মনিব আর ওরা হবে আমাদের ভৃত্য !! আজকে যেমন ওরা এবং ওদের নেতারা, শাসকেরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের দালালি করতেছে সেদিন ওরা আমাদের দালালি করবে, আমাদের গোলামি করবে !!! কারণ ওদের নীতি, নৈতিকতা বলে কিছু নেই তবে ওরা শক্তিকে ভয় পায়। এজন্য কাতারে অবস্থানরত বিখ্যাত সুন্নী আলেম ইউসুফ আল কারজাভি সিরিয়ার আসাদের বিরুদ্ধে জেহাদ করা ফরজ ফতুয়া দিল !! অথচ প্রায় ১ মাস ধরে গাজায় ইসরায়েলী আক্রমন !! উনি চুপ !!! কেন ? কারণ আসাদ ইসরায়েল ও মার্কিন বিরোধী তাই আসাদের বিরুদ্ধে ফতুয়া দিতে কোনো সমস্যা নেই !!! সৌদি ও মিসরীয় আলেমের ফতুয়া তো শুনেছেন ! আজকে ইরান যেভাবে ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করতেছে তা অকল্পনীয় !! এই যে পরশুদিন ইরান গাজা গণহত্যার প্রতিবাদে ন্যাম সম্মেলন করল তেহরানে !! ওআইসি কি করল ? আরব লীগ কি করল ? একটা বৈঠক করেছে ? একটি সম্মেলন করেছে ইসরায়েলের নিন্দা জানাতে ? হামাসের সব অস্ত্র ইরানের তৈরি ও ইরানি প্রযুক্তির ! ইরানি সহায়তায় যদি ফিলিস্তিন কোনোদিন মুক্তও হয় আমার মনে হয় না এই অকৃতজ্ঞরা অন্তত সেদিনও ইরানের প্রশংসা করবে !!! এই সুন্নীরা দাড়িয়েছে ভ্রান্ত বিশ্বাস ও নীতির উপরে !! এদের সৎ, সাহসী, ত্যাগী নেতা পাবেন না , এদের নেতা হল সৌদি বাদশাহ, কাতারের আমীর, তুরস্কের এরদোগান !!!! এদের নেতা হল সাদ্দাম ! এদের নেতা হল মোল্লাহ ওমর, এদের নেতা হল ওসামা বিন লাদেন, এদের নেতা হল আইমান আল জাওয়াহেরী ! এদের নেতা হল আবু বকর আল বাগদাদি !!! এদের নেতা হল বোকো হারামের আবু বকর শেকাউ ! এরা সবাই এদরে ইসলামিক নেতা !!! আর এই নেতারা সবাই আমেরিকা ও ইসরায়েলের পা চাটতে ব্যস্ত !!!
মিজানুর রহমান মিলন
৭, ৮ , ২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


