“আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে এই বাংলায়.........”
আসার পথ তো রুদ্ধ হয়ে গেছে, আপনি আর আসবেন না জানি। আপনি বেচে থাকবেন আমাদের প্রেমে, দেশপ্রেমে, প্রকৃতিপ্রেমে। কুয়াশাময় শীতের রাতে, চাদনী রাতে অবাক বিস্ময়ে যখন হাটবে কোনো নতুন প্রেমিক, আপনিও তখন হাটবেন সাথে।
আজ জীবনানন্দ দাসের মৃত্যুদিবস। এক প্রেমিক, এক সন্যাসী, এক ভাবুক, আমার ভাষার সবচেয়ে নির্জনতম কবি। একাকী নির্ঘুম রাতগুলো উনার আচকান ধরে ধরেই কেটেছে। নীরবতাকে ভাষা দেয়ার বিদ্যাটা উনি ছাড়া আর কেউ এতো ভালো করে শিখাতে পারেন নি মনে হয়।
"মনে হয় শুধু তুমি,
আর শুধু আমি,
আর ঐ আকাশের পৌষ নীরবতা-
রাত্রির নির্জন যাত্রী তারকার কানে কানে কতোকাল কহিয়াছি আধো আধো কথা-
আজ বুঝি ভুলে গেছো, প্রিয়া!"
ভুলে যাওয়া অসম্ভব, আর তাই তো, "কোন সূদুরের তরে হৃদয়ের প্রেতপুরে ডাকিনীর মতো মোর কেদে মরে মন!"
দুনিয়া এক প্রচন্ড নেশাময় জায়গা। দুনিয়া এক বিষময় তীর্থ। এখানে "মহুয়ার, ধুতুরার স্বাদ" আমরা "জীবনের পেয়ালায় ফোটা ফোটা ধরি,
দুরন্ত শোনিতে মোর বার বার নিয়াছি যে ভরি!"। আর তার মাঝেই কবি দেখিয়েছেন আমাদের যা বাচিয়ে রাখে তা "অর্থ নয়, বিত্ত নয়, স্বচ্ছলতা নয়-", "আরো এক বিপন্ন বিষ্ময়" যা আমাদের রক্তের মাঝে প্রবাহিত হয় আর "আমাদের ক্লান্ত করে, ক্লান্ত- ক্লান্ত করে।"
পৃথিবী ঘুরতেছে ঘুরুক, সময় থমকে যাক- বয়ে চলুক, সাহিত্যে সমালোচকেরা উনাকে কতোটা জায়গা দিবেন, আদৌ দিবেন কি না, আমার কিছুই তাতে যায় আসে না। নির্জন পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আবৃত্তি করার জন্য " সব আলো নিভে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন, তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল" দেয়ার জন্য আমি কবির কাছে কৃতজ্ঞ।
" হয়তো ধানের খই ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে,....
আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে!"
হ্যাঁ, কবি থাকবেন। বাংলার উঠানের ঘাসে উনাকে পাওয়া যাবে চিরকাল!

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



