ডায়াজেনিসকে একবার উনিসহ আরো কয়েকজন সমসাময়িকের নাম উল্লেখ করে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো এদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ। উনি বলেছিলেন, এটি নির্ভর করে আমরা কে কিভাবে মৃত্যুবরণ করবো এর উপর।
মুনীর চৌধুরী উজ্জ্বল প্রতিভা ছিলেন; সমসাময়িকদের মধ্যে হয়তো উজ্জ্বলতম-ই। প্রেমে, মমতায়, মানবতায় আর সবমিলিয়ে শিক্ষকতায় গল্প করার মতো এক চরিত্র ছিলেন, ছিলেন সময়ের মহানায়ক। এমন অনেকেই উনার স্নেহধন্য হয়েছিলো যাদের কারণে পরবর্তীতে উনার চেতনায় হয়তো বিচ্যুতি হয়েছিলো। উনার ভুলটা ভেঙেছিলো ১৪ ডিসেম্বর, যখন ওই বিশ্বাসের অযাচিত অনুচরেরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মীরপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজের একটা অন্ধকার কক্ষে আরো কিছু ক্ষণজন্মা মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. ফজলে রাব্বীদের সাথে তাকেও মোটা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিলো। উনার মৃত্যু উনার মানবিক আর চেতনাগত সব ভুলগুলোকে শুধরে দিয়েছে অবলীলায়।
দর্শনের অধ্যাপক ছিলেন ড. জি.সি. দেব, সিলেটের গর্বিত সন্তান। সিলেটের ভাষার অকৃত্রিম কমলালেবু গন্ধের মাথা উচু রাখা ধারক আর বাহক ছিলেন। হাসতে পারতেন, হাসাতে জানতেন; রসিক দার্শনিক ছিলেন গোবিন্দ চন্দ্র দেব। অকৃতদার ছিলেন কিন্তু প্রাণ-খোলা মানুষ ছিলেন; দরিয়া দিল ছিলো।
ছাত্ররা ভালোবাসতো, বিশ্ববিদ্যালয় গর্ব করতো তাদের সক্রেটিসকে নিয়ে।
১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সার্জেন্ট শুধু একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলো, "হিন্দু না মুসলমান?" ওরা জানেনি উনি মানুষ কি না আর হলেও কতোটুকু!
শ্রদ্ধা আমরা জানাইনি; বাঙালী শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। মুনীর চৌধুরী, জি.সি. দেবদের আমরা ভুলে গেছি; আর এটাই সমস্যা-- আমরা ভুলে যাই!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



