somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতন্দ্র প্রহরী (পর্ব-৮) [বাংলাদেশের অতিমানবেরা s02ch03]

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব দ্রুত আমাদের বের করে আনা হলো টাউন হল থেকে। নাবিলা শেহজাদকে দেখলাম একটা সাদামাটা গাড়িতে ঢুকতে। যদিও অতোটা সাদামাটা লাগলো না, ঝকঝকে কাচ দেখে আন্দাজ করলাম বুলেট প্রুফ হবে। সামনে একটা গাড়ি এলো। সায়মা ফরাজি আমার দিকে না তাকিয়েই ইশারায় অন্য গাড়িতে যেতে বললেন। বুঝলাম আরেকটা গাড়ি অপেক্ষা করছে।

ফরাজিদের বাড়িতে ঢোকার পর একটা বোমা ফাটলো যেনো। হাসমান সাহেব বললেন, তৃতীয় পক্ষ এসে গেছে। মোটেই সুখকর নয় ব্যাপারটা। আর নাবিলা ইচ্ছে করেই দাঁড়িয়েছে যাতে প্রথম স্ত্রী হিসেবে তার প্রতি আমার দুর্বলতা আমি প্রকাশ করি।

"প্রথম স্ত্রী"!!!

জাইমা, আমি ও হাইমান একই সাথে বলে উঠলাম।

সায়মা কোন কথা বললেন না। শুধু ভেন্টিলেটরের দিকে তাকিয়ে অভিমানে তাকিয়ে রয়েছেন।
-হ্যা, নাবিলা আমার প্রথম পক্ষের স্ত্রী।
-বিয়ে টিকলো না কেনো?
-তার বাবা আমার সব কিছু করায়ত্ত করতে চেয়েছিলো। তারপর আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর তারা নানা রকম ভাবে আমার ক্ষতি করতে চেষ্টা করে।

টিট টিট টিট।

বিগ স্ক্রিন অন হলো।

"নাবিলা শেহজাদ অপহৃত"!

-আইমান আমার গ্লোভের নতুন কিট তৈরি তো?
-হ্যা বাবা তৈরি।

দুই হাতে পয়েভ্রি ব্ল্যাংক এর দামি দস্তানা জোড়া লাগিয়েছেন। দেখতে মোটেই সাধারণ দস্তানা মনে হচ্ছে না আমার। পিঠের পেছন ধাতব গোলাকার কিছু একটা লাগানো। একটা ব্লেজার গায়ে চাপালেন।

-পিঠে কিছু একটা লাগাতে দেখলাম। ওটা কি?
-মোবাইল নিউক্লিয়ার পাওয়ার জেনারেটর। ওটা থেকে যা সাপ্লাই হয় তা যায় এই দস্তানার ইম্যুনাইজারে। লেজার বীম বের হয় হাতের তলু থেকে।

ভারি অবাক হলাম। পারমাণবিক শক্তি যে আসলেই হাতের মুঠোয় চলে এসেছে তা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। আমার হাতে একটা ট্র‍্যাকার দিলেন।
-চলেন।

আধাঘন্টা পেরিয়ে গেছে। নাবিলা শেহজাদের বাড়ির একশ গজের সামনে চলে এসেছে আমাদের গাড়ি। বেশি ক্লোজ না যাওয়াই ভালো। চুপচাপ দুজনে দেখতে লাগলাম। ডিজিএফআই, র‍্যাব, ডিবির লোকজন ভর্তি।

-হাসান, আপনাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলো নাবিলার লোকজন বলতে পারবেন?
-সদরঘাট এর কোনো একটা জায়গায়... আরে ঐ-তো! ঐ লোকটা আমাকে কিডন্যাপের পর মুখ থেকে কাপড় খুলে নাবিলার সামনে ফেলেছিলো।

হাসমান ঝটপট নেমে একটা দৌড় দিলেন। লোকটা গেটের বাইরে ছিলো। পিঠের উপর হাত রেখে হেসে হেসে কি যেনো বললেন। লোকটা মুখ গোমড়া করে হাসমানের সাথে আসতে লাগলো।

আমরা যে পথে যাচ্ছিলাম সেটা সদরঘাট না, নবাবগঞ্জের দিকে। অনেক ঘুরে একটা ভেজা ভেজা এলাকায় ঢুকলাম। শিল্প কারখানা জাতীয় এলাকা। একটা মিলের সামনে দাড় করালেন গাড়িটা।
-পথ দেখা।
লোকটা হাসলো।
-হাসলি ক্যা?

ততোক্ষণে মিলের ভেতর ঢুকে গেছি। বিপদের গন্ধ টের পেলাম। পেছন ফিরবো তার আগেই ঠাং করে বাড়ি খেলাম। হাসমানকে ডাবল দেখতে লাগলাম। তিনিও টলছেন।

জ্ঞান ফিরতেই দেখি হাসমানকে শেকল দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি চেয়ারের হাতায় রশি দিয়ে বন্দী। এক বুড়ো মতন ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে হাসছেন আমার দিকে। পাশে নাবিলা!

"ওয়েলকাম জেন্টেলম্যান"!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×