তখন দুপুর। মধ্যহ্নের কড়া রোদে ঝা ঝা চারিদিক। মেঘ দৌড়ে আসছে। ঢেকে ফেলবে হয়তো সূর্যটাকে। সিরাজুল ইসলাম বসে আছেন মিশুর পাশে। চেয়ে আছেন ক্ষতগুলোর দিকে।
-হাহহা!
-আস্তে আস্তে।
উঠে বসলো মিশু। জানালা দিয়ে তাকালো বাইরের দিকে। মেঘ এসে ঢেকে গিয়েছে। আলোছায়ার ভেতর দিয়ে সূর্যকিরণ নেমেছে ধরণীতে।
-আসবেই। আনমনে বলে উঠলো।
-কি আসবে? বিজ্ঞানী বললেন।
- সত্যের আলো। মিশুর কন্ঠ গম্ভীর হয়ে উঠছে।
-তুমি কি প্রতিশোধের পথে হাটবে?
-আমার সাথে যা হয়েছে তাতে বসে থাকা চলবে না। অনেক কিছু করার বাকি। বিজ্ঞানীর দিকে তাকিয়ে মাথা আবার ঘোরালো।
বিজ্ঞানী অপ্রস্তুত হয়ে উঠলেন। যে কোন পুরুষ প্রতিশোধপরায়ণ। যতই সাধাসিধে হোক না কেনো বদলা নেয়ার প্রকৃতি তার থাকবেই।
-তুমি প্রোগ্রামার তাই না?
-হুম। হ্যাকারও।
-ওরা ক্রেডিট কার্ড হ্যাকের জন্য তোমাকে মেরেছে? নাকি আরো কিছু?
-ওদের বিজনেসের অনেক গোপনীয় তথ্য আমি জেনে যাই।
-কি ধরণের গ্রুপ এটা?
-মব। মাফিয়া। স্মাগ্লিং,নারী পাচার অনেক বড় কিছুর সাথে ইনভলভড।
আরো অনেক কিছু জানতে চাচ্ছিলেন বিজ্ঞানী। কিন্তু কেনো যেনো বলতে চাচ্ছিলো না মিশু। ডিস্ট্র্যাকড করতে চাইলেন না। চিন্তা করলেন কিছুক্ষণ।
-ওকে। তোমার সাথে আছি। টিম ইজ অন।
-টিম? কিভাবে?
-তোমার প্রতিশোধ নিতে যত রকম সাহায্য দরকার আমি দেবো।
-স্বার্থ ছাড়া কেউ কাজ করেনা। আপনার স্বার্থ কি?
-দেশের স্বার্থ।
-ওকে।
দ্রুত আরোগ্য হওয়ার টনিক অনেক আগে বের হয়েছে। তবে এবার বিজ্ঞানী নিজেই কিছু প্রতিষেধক বানিয়ে খাওয়ালেন মিশুকে। নাহিদ সকালেই দু ব্যাগ রক্ত জোগাড় করেছিলো। যদি ও এতো দ্রুত না তবু যথেষ্ট শক্তি যোগালো। তিনদিনে মোটামুটি সেরে উঠলো।
-মিশু।
-হুম? স্ক্রীনে তাকিয়ে থেকে বললো।
-আজ সেই রাত।
-কিসের?
-তোমার প্রস্তুত হওয়ার। নিচে সেলারে একজন ট্রেনার অপেক্ষা করছেন। তোমাকে কুংফু শেখানো হবে।
-সত্যি? আজ উত্থানের দিন।
-আজ উত্থানের রাত। এই রাত সেই রাত যে রাতে মহান মানুষটি লড়তে শুরু করেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


