somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটু কি সময় হবে মা-বাবার জন্য?

২৪ শে মার্চ, ২০১৬ সকাল ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সংসার আছে, কর্মক্ষেত্রে সময় দিতে হয়, ছেলেমেয়েকে পড়াতে হয়, স্কুলে নিয়ে যেতে হয়, সময় দিতে হয় স্ত্রীকে। কতো কি ব্যস্ততা। যে প্রতিযোগিতার যুগ, ছেলেমেয়েকে ঠিকমতো পড়াশুনা না করালে পিছিয়ে পড়বে, সুতরাং এদের সময় না দিলে কি চলবে? ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য কিছু সঞ্চয় করা দরকার। সোসাইটিতে তো কিছুটা সময় দিতে হয় সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। আত্মীয়স্বজন, আচার অনুষ্ঠান সব কিছুতেই তো সময় দিতে হয়। এতো সবের পর কি আর পরিবারের বয়োবৃদ্ধের জন্য সময় বরাদ্ধ রাখা যায়? এখানে সময় না দিলেও তো কেউ কিছু বলবে না। নিজের ভবিষ্যতের জন্য তো এখানে কিছুই নেই। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে এসব ব্যাপারে স্ত্রীরা খুব বিরক্ত হন। কে চায় প্রিয়তমা স্ত্রীকে অসন্তুষ্ট করতে।
নিচে একজন বয়োবৃদ্ধের ছবি দেখতে পাচ্ছি। তার পরেই শিশুর ছবি। এই বৃদ্ধও একসময় এমনই শিশু ছিলেন, তাঁর বর্ণিল শৈশব ছিল, কৈশোর, যৌবন। ছিল প্রেম, ভালবাসা আদর স্নেহ, কর্মব্যস্ততা, স্বপ্নরঙ্গীন দিন। স্ত্রী সন্তানসহ সাজানো সুন্দর সংসার। সারাটা সক্ষম জীবন কাটিয়েছেন সন্তান গড়ার পেছনে। তাঁর কঠোর পরিশ্রমে সন্তান জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁদেরও কর্মচাঞ্চল্যে যাচ্ছে সময়গুলো। বয়স্ক পিতা সংসারের ঘানী টেনে যখন ক্লান্ত, অবসন্ন। নিস্তরঙ্গ হয়ে আসছে জীবন, নিঃসঙ্গ মুহূর্তগুলো কতোটা বিষাদে আচ্ছন্ন করে রাখে তাকে, আমাদের কি একটু সময় হবে সময় দেবার?


আমরা কি কখনো দুটো জিনিস ভাবি?
১. আমাদের এই অবস্থানে আসার পেছনে কাদের অবদান সবচেয়ে বেশী? কাদের নিঃস্বার্থ ত্যগের বিনিময়ে আমরা আজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত? যাঁদের অবদানে আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি, তাঁদের জন্য কি করছি? তাঁরা তো মুখ ফুটে কখনো কিছু চাইবেন না, তাঁরা ছেলেমেয়েদেকে দিতে জানেন, ছেলেমেয়েদের থেকে কখনো নিতে শেখেননি। তারপরও কিছু চাওয়া থেকে যায়, সেটা হলো একটু সময়। একটু সময় বের করে তাঁদের সাথে কাটানো। দায়িত্ব পালন করতে নয়, ভালবেসে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে যেমন ভাবি, একটা সময় কিন্তু আমাদের নিয়ে তাঁরাও ভাবতেন, এখনো ভাবেন, আমরা কি তা বুঝি, বা বুঝার চেষ্টা করি? বয়সের ভারে হোক, রোগভোগেই হোক তাঁদের উদ্যোমী রঙ্গীন জীবন ক্রমশ ফ্যকাশে হয়ে আসে। আমরা চাইলে আদর ভালবাসা সম্মান এবং পর্যাপ্ত সময় দিয়ে যতটা সম্ভব রাঙিয়ে তুলতে পারি।


২. আমরাও সুন্দর শৈশব, কৈশোর কাটিয়ে এসেছি। আমাদের সামনে প্রৌঢ়তা, বার্ধক্য অপেক্ষা করছে, এখন যে অবস্থানে রয়েছেন আমাদের পূর্ব প্রজন্ম। আমরা কেমন ভবিষ্যত জীবন আশা করি? যেমনটা আমাদের মা-বাবাকে আমি দিচ্ছি, আমার স্ত্রী দিচ্ছেন? নাকী অন্য রকম? আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের যতো রকম শিক্ষাই দেইনা কেন, প্রকৃতির কিছু শিক্ষা রয়েছে। সেখান থেকেও ওরা কিছু শেখে। আমরা যদি আমাদের মা-বাবা আর সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেই, সন্তানরাও একই ভাবে তাঁদের মা-বাবা আর সন্তানদের সময় দিবে। আমরা যদি মা-বাবাকে সময় না দিয়ে শুধু সন্তানদের সময় দেই, তাহলে সন্তানরাও তাই করবে।
সুতরাং মা-বাবার জন্য না ভাবলেও ভবিষ্যতের কথা একটিবার ভাবুন তো?
(দ্বিতীয় ছবিটি ছাড়া অন্য ছবিগুলো নেট থেকে সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:২০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×