
নতুন বছরকে স্বাগত জানানো আমাদের মজ্জায় এমনভাবে গেঁথে আছে যে অবচেতন মনেই আমরা বাংলা সন বা খৃষ্টীয় সালের শুরুতে বেশ আড়ম্বরে স্বাগত জানিয়ে পরস্পরকে শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়ে থাকি। বিগত বছরের সব গ্লানি দূর করে নতুন বছরে নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলার সংকল্প করে থাকি। সময় সুযোগ হলে হয়তো কেউ কেউ রমনায় যাই, ঘরে-বাইরে পান্তা ইলিশ খাই, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উপভোগ করি। তারপর যা আছি তা-ই হয়ে যাই। ঘুষ খেয়ে সম্পদ বাড়াই, অপরের সম্পদ কুক্ষিগত করার ধান্ধায় মেতে উঠি, বিলাসিতায় গা এলিয়ে দেই, পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে সমগ্র দেশকে দখলের পাঁয়তারায় মানুষের শান্তি বিনষ্ট করি। কতো কি-ইনা করে নিজের কর্তৃত্বকে অধিষ্ঠিত করার জন্য বেপরোয়া হয়ে থাকি। কেউবা দেশে ধর্মীয় শাসনের স্বপ্নে জিহাদী হয়ে উঠে অন্যের জীবন, পরিশেষে নিজের জীবনটাকেও বিপর্যস্ত করে তুলি। আবার কেউ ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজে আনন্দে পুলকিত হয়ে অন্যের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলি। বছরের পর বছর ধরে একই ধারায় চলে আসছে এসবের ধারাবাহিকতা। আবার কেউ কেউ উল্টোস্রোতে নীতি আদর্শ নিয়ে শান্তির বাণী ছড়িয়ে জীবনকে সার্থক করে তুলি।
জীবনের জয়গান, মানবতার জয়গান দিয়ে শুরু যে নতুন বছরটা, তা পুরাতন হতে লাগে মাত্র ৩৬৫ দিন। আর একটা জীবন পুরাতন হতে সময় লাগে কতোটা? জগত সংসারের ইঁদুর দৌড়ে ক্লান্ত হয়ে জীবনের সায়াহ্নে হিসেবে বসলে কী পাই? যা দিয়েছি মানুষের জন্যে, পাওয়ার হিসেবে তা-ই ফিরে ফিরে আসে। আর যা ভোগ করেছি, তা প্রাতঃকৃত্যের মতোই খরচের খাতায় চলে যায়। তাহলে লাভটা কীসে?
আমরা কি এ বছরটাকে নিজের জীবনে অনন্য একটা বছর হিসেবে ধরে নিয়ে এই একটা বছর সৎ জীবন যাপন করার চেষ্টা করতে পারি? এই একটা বছর নিজের কর্মক্ষেত্রে কোন ফাঁকি দিবো না, ঘুষ নিবো না, অন্যের সম্পদ দখলের পাঁয়তারা করবো না, এই একটা বছরের আয় থেকে উদ্বৃত্তের কিছুটা অংশ মানব কল্যানে ব্যয় করবো। ধর্মের ঝাণ্ডা তুলে ধরতে গিয়ে অপরের জীবনের শান্তি বিনষ্ট করবো না। কাউকে শহীদী দরজা দেখানোর জন্য উস্কানি পরিহার করে যার বিশ্বাস বা ধর্ম তার মতোই পালন করার সুযোগ দিবো। পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ফতুয়া দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভক্তির উদ্রেক করবো না।
বিবেককে শানিত করে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্যকে নিষ্ঠার সাথে পালন করার ব্রতই হোক ১৪২৫ সন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




