somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিরাপদ সড়ক চাইঃ সরকারের বোধোদয় হোক

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৮ রাত ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সময়ের দাবী, নিরাপদ সড়ক চাই
নিরাপদ সড়কের জন্য এই শ্লোগানটি আজ নতুন কিছু নয়। এটা কোন রাজনৈতিক দলের কোন এজেন্ডাও নয়। রাস্তায় সাধারণ মানুষের অক্ষত বেঁচে থাকার দাবী। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর, নিরাপদ সড়কের জন্য ইলিয়াস কাঞ্চন একটি সাংগঠনিক রূপ দাঁড় করিয়েছেন। তিনি একে ব্রত হিসেবেই নিয়েছেন।


শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ৩ আগস্ট শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমার সন্তানদের বলতে চাই, তোমরা একটি গাড়িও ভাঙচুর করবে না। কারণ এই ভাঙচুরের কারণে সুযোগ সন্ধানীরা ১০টি বা ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করবে। বাবারা-মায়েরা, তোমরা খেয়াল রাখবে, তোমাদের আন্দোলন কেউ যেন বানচাল করতে না আসে। তোমাদের মধ্যে যেন কোনো অপশক্তি ঢুকে না যায়, এটা লক্ষ রাখতে হবে।’
তিনি তাঁর অন্তঃসত্ত্বা কন্যাকে দেখতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে বলেন, ‘লন্ডনে আমার একটা সন্তান, আর এ দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলনে করছে হাজার হাজার সন্তান। এই কোমলমতি সন্তানদের রাস্তায় রেখে আমি কী করে লন্ডনে মেয়ের কাছে যাই? পুরো বাংলাদেশ এখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে চিৎকার করছে। থাক না আমার এক মেয়ে ওখানে। আমি আছি সমগ্র বাংলাদেশের সন্তানদের নিয়ে। স্বজন হারানোর বেদনা কতটা হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়, তা তো আমি জানি। আপাতত তাই লন্ডন যাওয়া বাতিল। তা ছাড়া অনিয়মকে নিয়মের শৃঙ্খলে বাঁধতে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, তা চিহ্নিত করার দায়িত্ব এসেছে আমার কাঁধে। গঠিত তদন্ত কমিটির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘সব অধিদপ্তর যদি তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করে দেয়, তাহলে আমার সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলব, তোমরা অবশ্যই ঘরে ফিরে যাবে, লেখাপড়া করবে। বাবা-মায়ের কাছে থাকবে। প্রয়োজনে আবারও যদি কোনো অসুবিধা হয়, তখন অবশ্যই আমরা তোমাদের সঙ্গে থেকে আবার রাজপথে নামব।’ তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের মেরুদণ্ড। আজ সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে যা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা চাই কাল রাজধানীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও সবস্তরের জনগণ আমাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। সবার প্রতি আহ্বান থাকলো, সবাই মিলে সচেতন হই যেন আর কোনো তাজা প্রাণ সড়কের অপঘাতে নিভে না যায়।
এখানে তাঁর প্রতিটি কথাই মানবিক এবং সুবিবেচিত। সরকারের দায়িত্বশীল মহলের কি এ কথাগুলো খুবই দুর্বোদ্ধ?

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক ফেডারেশনের মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ একই দিনে ঘোষণা জারী করেন, ‘সড়কে নিরাপত্তা ফিরে না আসা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বাস ভাংচুর ও ৮টি বাস পোড়ানো হয়েছে। তাই শিক্ষার্থী ঘরে ফিরলেই স্বাভাবিক চলাচল হবে।’
শিক্ষার্থীরা যুক্তিসংগত আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছে, এটা তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না। কিসের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবে, তা নিয়ে তাঁর কোন মাথা ব্যাথা নেই। কোন দুঃসাহসে, কার উস্কানিতে তিনি এই হুঙ্কার দেন? বাস ভাঙচুরএর মায়াটা তাঁর কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়, প্রতিনিয়ত রাস্তায় গাড়ির নিচে চাপা দিয়ে প্রাণ সংহারের বিষয়টা কিছুই না? পরিবহন ব্যবসা করে টাকার পাহাড়ে বসবাসকারী এনায়েত উল্লাহদের মতো পরিবহন শ্রমিকের পরিবার পরিজন কিন্তু প্রাইভেট কারে চড়ে চলাফেরা করে না, তারাওতো সাধারণ পরিবহনে সড়কেই চলাফেরা করে। তাঁদের জন্যও প্রয়োজন সড়কে নিরাপত্তা।

একটা সময় আওয়ামী লীগ জনগণের সকল দাবীর সাথে একাত্ম থাকতো। রাজনৈতিক দাবী ছাড়াও অনেক সাধারণ দাবী দাওয়ায় তাঁদের সমর্থন পেয়েছে মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতে আওয়ামী লীগ সরকারের রহস্যময় নিরবতা ও ক্রমাগত জনবিচ্ছিন্ন আচরণই পরিস্থিতিকে জটিলতার দিকে ঠেলে দেবার জন্য মুলত দায়ী। জোর করে বা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে এই আন্দোলন বানচালের অপতৎপরতার চিন্তা বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত "নিরাপদ সড়ক"এর দাবী মেনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ। নইলে হয়তো আন্দোলনকারীদের পিছে হটার সুযোগ থাকবে না।

সরকার কি এখনো অনুধাবন করতে পারছে না, জনগণ ফুঁসছে। পরিস্থিত ক্রমশঃ জটিল হয়ে উঠছে। একদিন হয়তো তাঁরাই অসহযোগের ডাক দিয়ে বলবে, সড়ক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগ দিবো না।

(তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো, যুগান্তর। ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ৩:০৫
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আদর্শের মুখোশ, নাকি অনলাইন প্রোপাগান্ডা: 'ন্যায়পরায়ণ' সাজার আড়ালে আসল রূপ কোনটা?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২২



ধর্ম, নৈতিকতা আর আদর্শের মুখোশ পরে যখন ভেতরে ভেতরে চরম অবক্ষয় চলে, তখন সাধারণ মানুষ হিসেবে মুখ বুজে মেনে নেওয়া কঠিন!
ধর্ষণের অভিযোগ এআই (AI) দাবি করা কিংবা অনৈতিক ঘটনাকে ‘দ্বিতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখী শিক্ষার্থীরাই ভালো শিক্ষার্থী, ওরাই সবচেয়ে মেধাবী

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৮

​আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা ‘মেধা’ শব্দটিকে জিপিএ-৫, গোল্ডেন মেডেল কিংবা পরীক্ষার খাতার নম্বরের ফ্রেমে বন্দি করে ফেলেছি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোচিং, প্রাইভেট আর মুখস্থ বিদ্যার যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মওলা

লিখেছেন আরমান আরজু, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:১৪

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×