দন হুয়ান দি মার্কো আমার খুব প্রিয় একটা সিনেমা। শুধু জনি ডেপ আর মার্লোন ব্রান্দোর অসাধারণ অভিনয়ের জন্যেই নয়, মাইকেল কামেন এর চমৎকার কিছু গানের জন্যও। জনি ডেপ এক মানসিক রোগীর ভূমিকায় সেখানে অভিনয় করে, যার জীবনে অনেক কালো ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো তাকে তাড়া করে ফেরে, শেষ পর্যন্ত সে বনে যায় বায়রনের দন হুয়ান কবিতার দন হুয়ানের মতো, তার কারবারে আকৃষ্ট হয় যে কোন নারী, মনোচিকিৎসক মার্লোন ব্রান্দো বসে বসে শোনে তার আজগুবি চাপাবাজি, সেই গল্পের মোড়ে মোড়ে ভালোবাসা আর জৈবিক আকর্ষণ এর ঝিলিক, মনোচিকিৎসক সেই গল্প শোনেন আর নিজের দাম্পত্য জীবনে হারিয়ে যাওয়া সেই শিখাকে একটু একটু করে জ্বালিয়ে তুলতে চান। ফে ডানাওয়েও চমৎকার অভিনয় করেছিলেন মনোচিকিৎসকের স্ত্রীর চরিত্রে।
ভুয়া দন হুয়ানের গল্পগুলো অনুসরণ করে কবিতার দন হুয়ানকেই, কিন্তু তারই ভাঁজে ভাঁজে তার নিজের জীবনের গল্পগুলো কিভাবে যেন কাহিনীতে যুক্ত হয়ে যায়। মূল দন হুয়ান কবিতাটিতে তার নিজের জীবনের কবিতাও গেঁথে যায়। মনোচিকিৎসক তাকে আত্মহননের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে তার গল্প শোনেন, রোগের ঔষধগুলো অস্পৃষ্ট পড়ে থাকে, রোগী আর চিকিৎসক দুজনেই গল্পে ডুবে যান।
সিনেমার কাহিনীর শেষাংশ বলে দিয়ে ক্লাইম্যাক্স মাটি করতে আমার ভালো লাগে না। আমার এ পোস্টে তা বলাও প্রাসঙ্গিক নয়। মাহমুদুল হাসান রুবেল আর তার মিথিলার কান্ড কারখানা দেখে আমার মনে পড়ে গেলো অনেকদিন আগে শেষ দেখা সিনেমাটির কথা। রুবেল দন হুয়ান দি মার্কোর মত পটু গল্প বলিয়ে নয়, তার মিথিলার আচরণে অজস্র ভুল, তারপরও সে প্রিয় হয়ে ওঠে অনেক ব্লগারের। অনেকে তার সাথে চ্যাট করে, তার আরোগ্য কামনা করে, বন্ধুত্বের আহবান জানায়।
রুবেলকে গালাগালি করবো না। সে কৈশোর পার হওয়ার পর সাময়িক একাকীত্বে ভুগছে, ব্লগে আড়ালের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সে হয়তো নিজেকেই বিনোদিত করছে ছায়াপ্রেয়সীর মুখে কথা যুগিয়ে। যদি অন্য কোন বস্তুতান্ত্রিক পরিকল্পনা তার থেকে থাকে, তাহলেও এখন তা চরিতার্থ করার সুযোগ তার হাত ফসকে গেছে।
তবে ধিক্কার জানাই যারা জেনে বুঝে বোকা সাজেন তাদের। কাল্পনিক চরিত্রের লাশের আড়ালে যারা গা ঢাকা দেন, শ্মশানের ধোঁয়া যারা চারদিকে ছড়িয়ে গর্তে লুকান, তাদের পাছার চামড়া ডুগডুগি নির্মাণের জন্য অযোগ্য নয় বলেই বিবেচনা করি। ইয়াবাখোর ইনসমনিয়াক ধান্ধাবাজদের মায়রে বাপ।
সামহোয়্যার ইন ব্লগের কর্তাব্যক্তিদের আরো অনুরোধ করবো, দয়া করে ব্লগে টাইম ডোমেইন বার বসান। একজন ব্লগারকে দিনে সীমিত সংখ্যক পোস্ট প্রথম পাতায় প্রকাশের সুযোগ দিন। এতে করে হয়তো আমরা কিছু সুলিখিত পোস্ট পাবো, হয়তো হাসবো, কাঁদবো, চটে উঠবো সেইরকম। হয়তো মিথিলার চেয়ে বড় কোন মিথ্যিলা এসে আমাদের বিষণ্ন করে তুলবে কয়েকদিনের জন্য। কিন্তু আমরা অন্তত রাতজাগা ধান্ধাবাজদের অগণিত বালছাল থেকে নিষ্কৃতি পাবো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







