রাস্তার গুণাগুণের মানামান নিয়ে তো অনেক বকলাম। এবার ঝাল।
ঝালে ঝালে তুলনা করতে গেলেও লাগবে শিব্রামের অঙ্ক সাহিত্যের যোগফল। কত ঝাল? ঝালের একক কী হতে পারে?
রাস্তার গুণকে যেমন বেতের বাড়ির এককে মাপা যায়, ঝালকেও তেমনি মাপা যায় মাইলেজে। গল্প বলি শুনুন।
এক কাবুলি তার গাধা নিয়ে এক বাঙালি ডাক্তারের কাছে হাজির। গাধার বিমার হয়েছে, নড়তে চড়তে চায় না। ডাক্তার তো চটে আগুন, এতোবড় সাহস, গাধার অসুখ হলে তার কাছে নিয়ে আসা! কিন্তু কাবুলি নাছোড়বান্দা, আদমি আর গাধার জন্য দুরকম চিকিৎসা কেন লাগবে বুঝতে সে নারাজ। শেষমেশ ডাক্তার বুঝলেন, কাবুলির জন্য যা খাটে, তা গাধার জন্যও খাটবে, এমন কি ঊনিশ বিশ? তিনি বার করলেন এক বাঙালি খাটো মরিচ। কাবুলির হাতে দিয়ে বললেন, তিরিশ মাইল।
কাবুলি তো কিছুই বুঝলো না। ডাক্তার সব জল করলেন ভেঙে। বললেন, মরিচটা ভেঙে গাধার পাছায় গুঁজে দাও। গাধা তিরিশ মাইল দৌড়ুবে ঘন্টায়।
কাবুলি ডাক্তারকে লম্বা সেলাম ঠুকে বেরিয়ে এসে তা-ই করলো। পাছায় গুঁজে দেয়া মাত্র গাধা বিকট এক চিৎকার করে দিলো দৌড়। কাবুলি গাধার পেছনে ছুটতে গিয়ে হয়রান হয়ে শেষমেশ আবার ডাক্তারের কাছেই ফিরে এলো।
বৃত্তান্ত শুনে ডাক্তার আরেকটা মরিচ বার করলেন। এটা নাগা মরিচ, পূর্ব ভারতের ইশপিশাল। কাবুলির হাতে দিয়ে বললেন, পঞ্চাশ মাইল।
কাবুলি কিছুই বোঝে না। আবার ডাক্তারকে ভেঙে জল করতে হয়। বললেন, এটা ভেঙে নিজের পাছায় গুঁজে গাধার পেছন পেছন ছোটো। পাকড়াও করতে পারবে।
সেই থেকে কাবুলি খেতে বসে হামখোরাক [মানে যার সাথে খেতে বসা আরকি, ইনজিরিতে যাকে বলে কনভাইভ না কী যেন, বাংলা করলে দাঁড়ায় সহভোজী] লোকজনকে শুধায়, হাতে ওটা কী, মরিচ নাকি? কত মাইল?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




