সেদিন দেরিতে ঘুমিয়ে বিখাউজ সব স্বপ্ন দেখলাম। স্বপ্নের গন্ডি এই বাংলা ব্লগ।
প্রথমেই দেখলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, একটা লুঙ্গি পরে বসে আছেন, হাতে একটা মোবাইল। আমাকে দেখে বললেন, আমার কিন্তু খাৎনা হয়ে গেছে, এ জন্যে লুঙ্গি পরেছি। এখন থেকে আমার নাম রবিউল হক তালুকদার। আমাকে আর ঠাকুর মাকুর ডাকবা না। এই কথা শোনামাত্র অনেকে খুব খুশি হলো, যাক, এখন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত তাহলে একজন মোসলমানের লেখা। রবিউল হক তালুকদার তখন একটা ছিপ নিয়ে মাটিতেই বড়শি ফেলে বিড়বিড় করতে লাগলেন, স্বপ্নেরা ধরা দিক, স্বপ্নেরা ধরা দিক ... ... একজন এসে কবিগুরুকে বললো, আপনি ব্লগে এগুলি কী ছাতামাথা পোস্ট করেন? সব তো কাটপেস্ট! লালন থেকে গগন থেকে নিয়ে পেস্ট করেন, চোট্টা কোথাকার! রবিউল হক তালুকদার খুব অসহায় হয়ে বললেন, না না, কখনো না, ওগুলি সব আমার রেখা ফ্রিডম বই থেকে নেয়া। তখন একজন বললো, ওফ ঐ ফ্রিডম থেকে ধার করা মাল পড়তে পড়তে আমার চোখ ব্যথা হয়ে গেছে।
আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কান্ড কারখানা দেখছি, একটু খারাপই লাগছিলো, তখন দেখি দুইজন মানুষকে বেঁধে আনা হচ্ছে, এরা সপ্তাহের সেরা ব্লগার। রবিউল হক তালুকদার বললেন, ওদের হাতপা বাঁধা কেন? একজন বললো, চোপ ব্যাটা, রশি আছে বানছি, তুই কথা কছ কেলেগা? রবিউল হক তালুকদার বললেন, এভাবে কথা বলছেন কেন, এটা কেমন ভাষা? আরেকজন এগিয়ে এসে বললো, এইটাই আমাগো পূর্ব বাঙ্গালার ভাছা, এইখানে থাকবি খাবি আর কথা কবি নদীয়ার ভাছায়, ঐসব গাদ্দারি চলবো না অ্যাহন থিকা, আবে চল ফোট!
রবিউল হক তালুকদার অসহায়ের মতোই লুঙ্গি মালকোঁচা মেরে চুপচাপ হাঁটতে হাঁটতে কোথায় চলে গেলেন। সাথে সাথেই দেখি মাথায় হিজাব পরা এক ফরাসী মহিলা এসে বলছেন, শুদ্ধ বাংলায়, কে তুমি পড়িছো বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহল ভরে? তারপর একই কথা বারবার বলতে লাগলেন, আমি বিরক্ত হয়ে কিছু বলার জন্যে মুখ খুলেছি, অমনি দেখি কয়েকজন লাঠি হাতে তেড়ে আসলো আমার দিকে। তাদের মধ্যে একজন আমাকে বললো, নবীকে গালি দিস, কাফের! আরেকজন বললো, কবিকে গালি দিস, কাফের! আমি তো বাঁই বাঁই করে ছুটছি, একটা রাস্তার মোড়ে এসে দেখি রবিউল হক তালুকদার প্লেটে করে গরম সিঙ্গারা নিয়ে খাচ্ছেন, আমাকে সাধলেন, আমিও কি ভেবে দৌড়ানো ফেলে বসে পড়লাম। তেলেভাজাওয়ালার চেহারাটা আমাদের হীরক লস্করের মতো, আমি বললাম, হীরকদা আপনি এইখানে কী করেন? ব্লগান না কেন? উনি বললেন, আমি ব্লগাইলে সিঙ্গারা ভাজবো ক্যাঠা, তোমার সম্মুন্ধি? আমি বললাম, আশ্চর্য, আপনিও পূর্ব বাংলার ভাষা শিখে ফেলেছেন? লস্কর বললেন, বিলাতে থাকি তো, ইংরাজগুলিরে গালি দিতে দিতে মুখটা কেমুন যানি লুজ হয়া গ্যাছে, যাউকগা, দাম দিয়া ফুটো অহন!
আমি সিঙ্গারার দোকান থেকে বেরিয়ে দেখি রাস্তায় অনেক লোক, সবাই বিড়বিড় করছে, বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, বাঁধ ভাঙার আওয়াজ। আমি গিয়ে বললাম, আমি শুনি না তো! তখন একজন এসে বললো, শুনতে চান? আমি বললাম, শোনান। তখন সে আমার গালে প্রচন্ড এক থাপড় দিলো চটাস করে, আমি শুনলাম কলকল কলকল শব্দ হচ্ছে। তো, তারপর কী যেন বলতে যাবো, ঘুম ভেঙে গেলো এমন সময়, দেখি আম্মা পিঠে চাপড়াচ্ছেন, সারারাত জাইগা থাকে সারাদিন ঘুমায়, ওঠ!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




