বিজ্ঞানী ওমর আলি, ও. আলি নামে যিনি বিজ্ঞানী মহলে প্রচন্ড পরিচিত মারমুখো গবেষক হিসেবে, নিন্দুকে বলে তিনি গবেষণার চেয়ে মারপিট করতেই ভালোবাসেন বেশি, আঁতেলেকচুয়াল বোলচাল আর শারীরিক গোলমাল দুটিতেই তিনি পারদর্শিতা দেখাতে চান, একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন টেস্টটিউবটা হাতে নিয়ে।
টেস্টটিউবের ভেতরে একটা ময়ূরকনঠী নীল রঙের জেলি [কেউ যদি ভাবেন আমি সত্যজিৎ রায়ের ময়ূরকনঠী জেলির অনুকরণে কিছু লিখছি, তাহলে মুড়ি খান], থকথকে রঙ, জেল্লা বেরোচ্ছে তা থেকে। বিজ্ঞানী ও আলির সুদীর্ঘ তেইশ বছরের গবেষণার ফসল এটি।
আজই টের পাবে ঐ বিবর্তনবাদী দুম্বাগুলো, মনে মনে হাসেন ও. আলি, মুহুহুহুহুহু ... বিবর্তন যে একেবারেই ভুয়া একটি তত্ত্ব, সেটি তিনি বলেন না। তাঁর মতবাদ হচ্ছে, দুনিয়ার সবকিছু বিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু মানুষ বিবর্তিত হয়নি। মানুষ তো আদমের সন্তান, আর আদমকে বানানো হয়েছে মাটি থেকে, এইসব বান্দরের হাড্ডিগুড্ডি দেখিয়ে বিবর্তনের সমর্থকরা কী বোঝাতে চায় তাঁকে, বিজ্ঞানী ওমর আলি ওরফে ও. আলিকে?
ও. আলি দাঁতে দাঁত ঘষেন। তিনি দেখিয়ে দেবেন এসব গাধার দলকে। পারলে তো বেসবল ব্যাট দিয়ে পেঁদিয়ে বারোটা বাজাতেন সবার, কিন্তু পুলিশি হুজ্জতে পড়তে চান না তিনি। গ্যালোবার প্যারিসে এক জার্মান বিজ্ঞানীর সাথে হাতাহাতি করে বড্ড ঝামেলায় পড়েছিলেন তিনি, হাজতে দেড়দিন ছারপোকার কামড় খেতে হয়েছিলো।
এই ময়ূরকনঠী জেলি পান করে তিনি বিবর্তনের পথে পিছু হটে ফিরে যাবেন পাঁচ মিলিয়ন বছর আগে। মানে, সময় থাকবে এই 2006 সালেই, কিন্তু তাঁর শরীর প্রতিবিবর্তিত হয়ে ফিরে যাবে পাঁচ মিলিয়ন বছর আগে যেমনটা ছিলো, তেমনটায়। ও. আলি জানেন, ঔষধটা খাওয়ার পরও তিনি যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন, পরিবর্তন হবে না একচুল, কারণ তিনি আদমসন্তান, কোন বিবর্তনপথু বানর থেকে তিনি আসেননি।
ও.আলি আয়নায় নিজেকে দেখেন। ডোরাকাটা একটা গেঞ্জি, আর সাদা ফুলপ্যান্ট পড়ে আছেন তিনি। কী ভেবে একটা ডোরাকাটা টুপি পড়ে নেন তিনি, তারপর আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে চোখ টিপে ঢকঢক করে গিলে ফেলেন সেইময়ূরকনঠী জেলি!
কী একটা প্রবল ঝাঁকুনি লাগে তাঁর শরীরে, ও. আলি তাল সামলাতে পারেন না, টেবিলটা আঁকড়ে ধরার ব্যর্থ চেষ্টা করে মাটিতে আছড়ে পড়েন।
জ্ঞান ফেরার পর তিনি টলতে টলতে আয়নার সামনে দাঁড়ান। অমনি তাঁর গায়ের রোম সব দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু ... কিন্তু এত রোম তো তাঁর গায়ে আগে ছিলো না! ও. আলি ভালো করে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেন, আয়নায় একটা শিম্পাঞ্জী কুঁৎকুঁতে চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে!
ও. আলির মাথায় কী যেন ওলটপালট হয়ে যায়, কু কু কু কু শব্দ তুলে তিনি ছুটে যান এক কোণায় পড়ে থাকা বেসবল ব্যাটটার দিকে ...।
এমন সময় ধড়াম করে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে তাঁর সহকারী শ্রাবণ দত্ত, হাতে একটা পুরানো পেনট্যাক্স ক্যামেরা ...।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



