প্রত্যেক ক্রিসমাসে স্কুলে নাটক হতো
তুমি অবধারিতভাবে রাজকন্যার গুলগুল্লা রোল পেয়ে যেতে
নীরব সন্তুষ্টিতে তোমার গালে বেগুনি আঁচ লাগতো, আমি দেখতাম
আমার ভুরুর আড়াল থেকে।
আমাকে সবাই বলতো নিয়ান্ডাটর্াল হিমু
নাটকের স্যার মৃদু হেসে বলতেন, কোয়াসিমোদো ...
আমি তখনও জানতাম না ... নোতরদামের কুঁজো তো পড়বো স্কুল ছেড়ে যাবার পর,
নইলে তখনই আঁচড়ে খামচে উঠে পড়তাম স্কুলের পাশের পুরানো চার্চটা বেয়ে।
স্কুলের নাটক একেক বছর একেকটা, কিন্তু সবই লিখতেন নাটকের স্যার
সেখানে রাজকন্যা আর কুৎসিত ক্রীতদাস থাকবেই
কারণ তুমি পড়তে সে স্কুলে
আর আমিও পড়তাম
আমরা নাটক ভালোবাসতাম, দু'জনেই ...।
আমি সেই ছোট্ট তোমাকে নতজানু হয়ে কুর্ণিশ করেছি, যখন আমি সেই ছোট্ট আমি ছিলাম
হাঁটু গেড়ে বসে কতবার রাজকন্যার জুতোর ফিতে বেঁধেছি আমি ক্রীতদাস
আমার হাতে বষর্াতি আর টুপি সঁপে দিয়ে কত ভিনদেশি রাজপুত্র তোমার পদ্মকোরকের মতো নরম হাত নিজের মুঠোয় নিয়েছে এক এক বছর
আমি সেই টুপিবষর্াতির ভুলে যাওয়া ন্যাপথলিনের গন্ধ নতুন করে ফিরে পেয়ে চমকে দাঁড়িয়ে থেকেছি
কত নাটক করলাম আমরা দু'জন
কত মারপিট, অস্ত্রের হ্রেষাধ্বনি
মঞ্চে গড়াগড়ি দিলো কত সুপুরুষ স্কুলপড়ুয়া
আর তুমি জড়িয়ে ধরলে আরো সুপুরুষ কতো স্কুলপড়ুয়াকে
আমি ক্রীতদাস ছেঁড়া পাজামার হাঁটু ময়লা করে চিনে নিলাম তোমার প্রতি বছরের নাটকের জুতোর ফিতাবিন্যাস
রাজপুত্রদের বর্ষাতির বল্লরী
আর, নিথর দাঁড়িয়ে থেকে, মঞ্চে, তোমাকে।
সামনে ক্রিসমাস আসছে, রাজকন্যা
আমি, নিয়ান্ডাটর্াল হিমু, নাটকের স্যারের কোয়াসিমোদো
এবার সটান মাথা উঁচিয়ে বলবো আমার ভাঙা গলায়,
স্যার আমি আর নাটক করবো না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



