somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাম নিয়ে ত্যানা প্যাঁচাই

২১ শে মে, ২০০৬ দুপুর ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নাম নিয়ে খুব ত্যানা প্যাঁচানো হচ্ছে ব্লগে। ভাবলাম আমিও কিছু লিখি। আজকাল খালি চোথা মারতে ইচ্ছা করে। মৌলিক কিছু লিখে উঠতে পারি না।

আমার এক বন্ধুর খুব হাত ঘামে। তার বাগদত্তারও হাত ঘামে নাকি, বললো একদিন। আমার এক বন্ধু রায় দিলো, তোদের বাচ্চা তো পিছলে হাত থেকে পড়ে যাবে। তো, সেই অনাগত পোড়াকপালিয়া বাচ্চার নাম হয়ে গেলো "দ্য ফল গাই।" বন্ধুর নাম হয়ে গেলো ফল গাইয়ের বাপ।

ঐ একই বন্ধু একটা পুরনো গাড়ি কিনেছে এক কাজিনের কাছ থেকে। গাড়িটা পুরনো, বহুল ব্যবহৃত, কিন্তু কন্ডিশন ভালো, চড়েও আরাম। একদিন গুজগুজ করছিলো ব্যাটা, গাড়িটার একটা নাম দেয়া দরকার। আমি ছিলাম কাছেই, বললাম, "মাসি" হলে কেমন হয়? বেশ মনে ধরলো ওর, আমরা ওর গাড়িকে মাসিই ডাকি এখন।

আমাদের আরেক বন্ধুর নাম শুরু হয়েছে "না" দিয়ে। বিশালদেহী লোক, প্রায়ই আমাদের ছুঁড়ে ফেলে এদিক সেদিক। একবার এক রিকশা ওর সাথে ধাক্কা খেয়ে তুবড়ে গিয়েছিলো। সঙ্গত কারণেই ওকে আমরা ডাকি নাল্ক। রাগে একেবারে সবুজ হয়ে যায় ব্যাটা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরকৌশল বিভাগের এক বন্ধুর নাম ছিলো গন্ধে মাতরম। নামখানা ফল গাইয়ের বাবার দেয়া। সেই বন্ধু রাতবিরাতে ব্যায়াম করে ঘুম দিতো, সকালে উঠে গোসল না করেই ক্লাসে চলে আসতো। ওর শুষ্কঘামের প্রবল বাসে প্রায়ই অনেকে টলে পড়ে যেতো। একই বিভাগের আবুল বাশারকে তার নিরীহ স্বভাবের জন্য আবাল বাছুর ডাকা হতো। নাম বলা যাবে না এমন এক সহপাঠিনীত্রয়ীর নাম ছিলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আবার যন্ত্রকৌশলের এক জুনিয়র বালিকার নাম ছিলো ভি-টু।

আমার ক্লাসে দুই বন্ধু, দুজনের নামই শিবলি। তাই তফাৎ করার জন্য উপসর্গ যোগ করতে হলো। একজন বগা শিবলি, অন্যজন মোটু শিবলি। কিছুদিন পর শিবলি নামটাই মাঠে মারা গেলো, একজন বগা আরেকজন মোটু। বগা আবার বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে নিষিদ্ধ মাংস ও পানাভ্যাসের কারণে বেশ মোটাসোটা হয়ে ফিরে এসেছে, এখন মোটু বলে ডাকলে দু'জনেই সাড়া দেয়। মুসিবত।

কলেজে শিক্ষকদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে নানা নাম দেয়া হতো। যেমন জাহাঙ্গীর যাঁর নাম, তিনি হয়ে গেলেন জাইঙ্গা। নীরদবরণ রায় নামের একজন এসেছিলেন, তাঁকে নিরাবরণ হয়ে যেতে হলো আমাদের পাল্লায় পড়ে। তবে সবার ব্যাপারে এতো উদার ছিলাম না আমরা, আজেবাজে নামই দেয়া হতো বেশি। গন্ধরাজ, এক শিক্ষক যাঁর দাড়িতে প্রবল দুর্গন্ধ ছিলো, কয়েক হাত দূর থেকে পাওয়া যেতো।

স্কুলে থাকতে ঠকেছিলাম, আমাদের এক মৌলবি স্যার ছিলেন, ভীষণ ফর্সা, সফেদ পায়জামা পাঞ্জাবি আর চোখা টুপি পরতেন, ওনাকে যে ডে শিফটের ছেলেরা দূর থেকে "মোমবাতি" ডেকে ক্ষ্যাপাতো আমি কি আর তা জানতাম? এক বন্ধুর অনুরোধে সরলচিত্তে ওঁর কাছে গিয়ে গলা খাঁকরে সজোরে বলেছিলাম, মোমবাত্তি! উনি চোখের পলকে তেড়ে এসে পটাং করে এক চড় বসিয়ে দিলেন গালে :(। বেরসিক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×