পুরান ছাগার গল্প এটি।
নন্দন কাননে বাস করতো আদি ছাগা রামু আর আদি ছাগী মাওয়া। রামুর আগে পাঁচ পা ছিলো, একা একা ঘুরে বেড়াতো বেচারা, তাই ছাগেশ্বর তার একখানা পায়ের হাড় থেকে সৃষ্টি করলেন মাওয়াকে।
রামু আর মাওয়া নন্দনকাননে ঘুরে বেড়ায়, ঘাসপাতা খায়, ব্যা ব্যা করে আলাপসালাপ করে।
একদিন এক পাজি শয়তান ফুসলি দেয় মাওয়াকে, বলে জ্ঞানবৃক্ষের পাতা খেয়ে দেখতে। মাওয়া প্রথমটায় রাজি হয় না, ছাগেশ্বরের কঠোর নিষেধ আছে, কিন্তু শয়তান মাওয়ার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে রাজি করিয়ে ফেলে, মাওয়া কচকচিয়ে খায়। খেয়ে দেখে বাহ, বেশ স্বাদু জিনিস। তার বুদ্ধিও খোলে অনেকটা, সে রামুকে গিয়ে বলে চেখে দেখতে। রামু পেছনের দু'পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে জ্ঞানবৃক্ষের গুঁড়িতে ভর করে অনেকখানি জ্ঞানবৃক্ষের পাতা খেয়ে ফেলে।
পাতা খেয়ে রামু আর মাওয়া দু'জনেই কিঞ্চিৎ তপ্ত বোধ করে। রামু অকারণেই মাওয়ার গাল চেটে দেয়, মাওয়া শিং দিয়ে আলতো গুঁতো দেয় রামুকে। খুনসুটি করতে করতে এক সময় রামু মাওয়াতে উপগত হয়।
আর এ সময় স্পয়েলস্পোর্ট ছাগেশ্বর এসে হাজির। রামু আর মাওয়ার কীর্তি দেখে উদর্ুতে হুঙ্কার দিয়ে ওঠেন তিনি, শিং নেড়ে আর দাড়ি নেড়ে, "ইয়ে কেয়া চল রাহা হায়?"
রামু তাড়াহুড়ো করে সামনের দু'পা মাটিতে নামিয়ে আনে।
ছাগেশ্বর বলেন, "কিসনে খায়া ইয়ে ইলম কা পেড় কি পাত্তে? বোলো!"
রামু বিষন্ন গলায় বলে, "ম্যাঅ্যাঅ্যায়!"
ছাগেশ্বর তৎক্ষণাৎ রামু আর মাওয়াকে বহিষ্কার করেন নন্দন কানন থেকে। পাতা খেয়ে মাথা গরম করে সঙ্গমের অপরাধে পৃথিবীতে নির্বাসিত হয় রামু আর মাওয়া।
সেই থেকে পৃথিবীতে রামছাগলের বাস। কালক্রমে রামছাগল নানা রূপে বিবর্তিত হয়, একটি প্রজাতি আরেকটি পা খুইয়ে তিন বাহু বিশিষ্ট হয়ে ঘুরে বেড়ায়, অনেকে বলে এরা রাম নয়, শামছাগল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



