আইনের বিষয়টা জটিল, ধারা উপধারা, প্রায়োগিকতা এবং প্রজোয্যতা সব মিলিয়ে অনেক লম্বা ফর্দ আর এই ফর্দে আড়ালে থাকে বাগ্মিতা, উকিল পেঙ্গুইন কোট ঝুলিয়ে ইওর অনার বলে অনেক লম্বা চওড়া কথা বলে আইনের ফাঁক ফোকর বুঝে অপরাধিকে দোষমুক্ত করেন কিংবা দোষিপ্রমানের চেষ্টা করেন-
ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আইন আছে, এখনও বলবত আইন, প্রকাশ্যে কোনো ছেলেকে কোনোে মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখা গেলে 25 পয়সা জরিমানা, এই 25 পয়সা জরিমান গুনে 1921 কিংবা 1950 এর লোক জন প্রেম করতো, এর পর নানা রকম আন্দোলনের সময় ছেলেতে মেয়েতে কথা হয়েছে, এবং একটা পর্যায়ে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু মেয়ে নেত্বরত্ব তৈরিও হয়, কিন্তু এই আইন রদ করার কোনো চেষ্টা করে নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, 73এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসনে আইন পাশ হয় সম্ভবত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো পুলিশি কার্যক্রম চালাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিভাবক ভাইস চ্যান্সেলর সাহেবের অনুমতি লাগবে এবং এই কাজে সহায়তা করার জন্য আইন প্রয়োগকারি অংহস আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের, প্রক্টরিয়াল বডি তত্তাবধান করে এই সব বিষয়,
আনোয়ারুল্লাহ সাহেব যখন ফাঁকতালে ভিসি হয়ে গেলেন তার ছেলের সাথে পরিচয়ের সুত্রে একবার সেই বাসায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো, আহা বড় আলিশান মাকান, এবং অবস্থা কলোনিয়াল, বাসার জন্য মালি, রান্নার জন্য রাধুনি, অর্দালি, সে হেভি জাকজমকের জিনিষ, আমার পরিচিত অনেকগুলো ভালো মানুষের একটা হইতেছে মিতুল, চমৎকার ছেলে, সেতার বাজায়, মাঝে বেহালা বাজানো শুরু করেছিলো, এবং আশাতীত রকমের ভদ্্রলোক, তার বাজনা শুনেছি, মাঝে কয়েকবার আড্ডাও হয়েছে, কিন্তু আনোয়ারুল্লাহ সাহেবের কাজ কারবার আমার পছন্দ হয় নাই, শামসুন্নাহার হলে পুলিশি লাঠিচার্জে আমার কিছু বন্ধুও আহত হয়েছে, সেই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনের সুযোগ হয় নাই, কিন্তু সমর্থন জানানো পর্যাপ্ত সুযোগ ছিলো, আমরা সেই নির্বিচার লাঠিচার্জের আগের দিন বিকালেও সবাইকে ঠিকমতো হলে উঠিয়ে দিয়ে এসেছি, রাতে লাঠিচার্জ বিকালে এসে শুনি আগাদের সাথে ঘনিষ্ঠ 2জনকে পুলিশ পেঁদিয়ে লাল করে ফেলেছে, এবং তারও পরদিন সকালে পেপারে দেখলাম এক বান্ধবির ছবি, পুলিশের লাঠি তার পিঠের উপর পড়বে পড়বে অবস্থা। সব ঠিক ঠাক হয়ে গেলো, আনোয়ারুল্লাহ সাহেব মেয়ে পিটানোর এবং দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার পেলান, তাকে বাহারাইনের রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। বাহারাইন তাদের বাসায় সুইমিং পুলের গল্প শুনলাম বন্ধুর সুবাদে বন্ধুর কাছে। পুলিশের লাঠিচার্জের অনুমতি এবং হল তল্লাশির অনুমতি দিয়ে ভিসি খুব খারাপ কাজ করেছেন মনে হয় না, ছাত্রদলের নেত্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো, সেই নেত্রির সাথে আবার বিভিন্ন ছাত্রনেতা এবং সাংসদের ভালো সম্পর্ক অকথা কুকথা শোনা যায়, তাই তাকে রক্ষার জন্য ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতা পুলিশি হামলার আগের সন্ধ্যায় ভিসির বাসায় মিটিং করে আসে, সেখানে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষকরাও ছিলো, আনেয়ারুল্লাহ বাহার সাহেব সরকারের নির্দেশে পদত্যাগ করে ভালোই করেছেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টের এর দক্ষ রাজনৈতিক ভারপ্রাপ্ত ভিসি হয়ে গেলেন, তবে মৃত্তিকাবিজ্ঞানের মাটির কাছাকাছি মানুষগুলোর পদলেহনক্ষমতা আরও ভালো, তাই এখান থেকেই একজন পরবর্তিতে রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলো এবং অন্য একজন হলো ভিসি।
বাংলাদেশের মজাদার আইন নিয়ে তেমন কিছু রেকর্ড পাওয়া যায় না তবে আমেরিকায় টেক্সাস বড় অদ্ভুত জায়গা, ওখানে মজার মজার কিছু আইন আছে-
যদি দুইটা ট্রেন কোনো ক্রসিং এ সামনা সামনি চলে আসে তবে 2টাকেই থামতে হবে এবং একটা অন্যটাকে অতিক্রম না করা পর্যন্ত অন্যটা চলা শুরু করতে পারবে না, এই বিষয়টা কিভাবে সম্ভব হবে জানা নেই আমার কিন্তু আইন বলে কথা, অন্য একটা আইন হলো গাড়ী চালানোর সময় চালকের হাত পৌছায় এমন দুরত্বে এলকোহল থাকা চলবে না, এমন কি যদি পাশের সীটের যাত্রির রক্তেও এলকোহলের পরিমান স্বাভাবিক পরিমানের বেশি হয় চালককে জরিমানা করা হবে। টেক্সাসে মাতালদের রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া ভালো, মাতাল পাশে নিয়ে গাড়ী চালালেও জরিমানা হওয়ার সম্ভবনা।
তবে বুশের মতোই নির্বোধ একটা আইন আছে, জনস্বার্থে পাশ করানো আইন যেখানে বলা আছে
অপরাধ সংগঠনের 24 ঘন্টা আগে অপরাধিকে নোটিশ পাঠাতে হবে ভিকটিমের কাছে, অপরাধের ধরন ক্ষআয়ক্ষতির পরিমান বিস্তারিত লিখে,
উইন্ডশিলড ওয়াইপার ছাড়া গাড়ী চালানো নিষেধ, এমন কি যদি উইন্ডশিলড নাও থাকে তার পরও ওয়াইপার লাগবে। ওয়াইপার থাকাটাই নিয়ম।
টেক্সাসের মানুষজন ধর্মপ্রাণ, তারা আদালতে মামলা করেছিলো পাঠ্যপুস্তক থেকে ডারউইনের মতবাদ উঠিয়ে দিতে হবে, কিংবা ডারউইনের মতবাদ পড়ালে ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন পড়াতে হবে। সেখানে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা নিষইদ্ধ করা হয়েছে কারন এই বইতে বীয়ার তৈরির নিয়ম কানুন বর্ননা করা আছে।
হিউস্টন শহরে একটা আইন আছে, সেখানে রবিবার মধ্যরাতের পর কোনো মদ কেনা যাবে না, কিন্তু সোমবার মদ কেনা যাবে।
অন্য এক শহরের আইন আছে ছেলেপেলারা যদি উদ্ভট চুলের ছাঁট দেয় সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ,
অন্য একটা মজার আইন হলো, যদি কেউ ঘোড়া চালিয়ে যেতে চায় রাস্তা দিয়ে রাতের বেলায় তাহলে সেই ঘোড়ার পিছনে বাতি থাকতে হবে।
তবে এই আইনটার উপরে কোনো আইন আমি পেলাম না, যদি কোনো ভদ্্রমহিলা প্রধান রাস্তায় গাড়ী চালিয়ে যেতে চায় তবে তার স্বামীকে গাড়ীর আগে লাল পতাকা হাতে ছুটতে হবে এবং জন গনকে সাবধান করে দিতে হবে।
শহরের মাঝে খালি পায়ে হাটার জন্য পাস কিনতে হবে সেই পাসের দাম 5 টাকা।
আরও আইন আছে মজার আইন, পরে লিখবো,
কানেটিকাটের একটা শহরে ছিলাম সেখানে খুবই অদ্ভুত নিয়ম, শহরের ভেতরে কোথাও মদ বিক্রি হয় না, মদের নির্দিষ্ট দোকানে মদ কেনা যায় এবং প্রকাশ্যে মদপান নিষিদ্ধ, সেই শহরের এক দোকানের মহিলা মজার কথা বলেছিলো, এটা সমাধিক্ষেত্র, এখানে জীবনের আনন্দ বলে কিছু নেই, আমি এক মত এ বিষয়ে। অবশ্য আমার কাছে এটা বিশাল এক জেলখানা মনে হয়, এখানের প্রতি 100 জনের একজন বর্তমানে জেলে আছে, কিংবা কোন না কোনো সময় জেল খেটেছে। এই জেলখাটার হারে এরাই সমচেয়ে এগিয়ে, পিছিয়ে আছে ফ্রান্স প্রতি হাজারে এক জন জেল খাটে সেখানে, বাংলাদেশের অবস্থা কততম এটা জানি না, তবে 14 কোটি মানুষের দেশে জেল হয় না এমন অপরাধির সংখ্যাই বেশী, বরং হুদা জেল খাটা মানুষের সংখ্যা অনেক। আমাদের েেরসিডেন্ট সাহেব জেলখানায় বরই গাছ লাগিয়েছিলেন, সেই বরই গাছ ফলবান হয়েছে কিংবা ফলবতি, এরশাদ সাহেব সেই বরই খেতে যেতে চাচ্ছেন না, বিদিশাকে তালাক দিয়ে, তার উপর চুরির অভিযোগ এনে, হেনেস্থা করে জেলের ভয় দুর করেছেন, এমন কি তিনি মুখে রাজা উজির মারলেও প্রকাশ্যে বি এন পির বিরুদ্ধে যেতে পারছেন এই বরই কাঁটার ভয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


