ছোটো বেলায় পাগলা কুকুর কামড়ে দেওয়ার পর থেকেই একটা শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয় কাজ করে তার কুকুরের প্রতি, ফজলে এলাহিকে তার স্কুলের বন্ধুরা এজন্য নিক নেম দিয়েদিলো ফাজলে বিলাই, ডেপো ছেলেরা অবশ্য বিলাই বলে ডাকতো না বরং স্কুলে ঢুকার পর পরই বিভিন্ন সুরে ম্যাঁও ম্যাঁও করতো। এহেন যন্ত্রনায় সে স্কুল ছেড়ে মক্তবে ভর্তি হলো, কায়দা আমসিপারা,সিপারা কোরান পড়ে অবশেষে ভর্তি হলো মাইজদিখান মাদ্্রাসায়। তার কুকুরের প্রতি শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয় শেষে ম্যানিয়ায় পরিনত হলো। মাইজদিখান মাদ্্রাসার মাঠের ওপাশে সাদা বিলডিংয়ের গেটে লেখা আছে কুকুর হইতে সাবধান, ফজলে সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা বন্ধ করে দিলো। মাঝে মাঝে ছুটিতে বাসায় যায়, স্কুলের বন্ধুরা এখন কলেজ শেষ করেছে, সামনের চায়ের স্টলে মুখ চোখ নানা ভঙ্গি করে সিগারেট ফুঁকে, এটাও ফজলে এলাহির পছন্দ না, তবে শৈশবের প্রিয় ডাক এখনও ভুলে নি তারা, তাই ছুটিছাটায় বাড়ী আসলে কোনো কারনে বাইরে গেলেই তাকে টিটকারি শুনতে হয়, এই বিলাই, সাথে সাথে কয়েক জন ম্যাঁও ম্যাঁও ম্যাঁও শুরু করে।
এজন্য এলাহি ছুটিতে বাসায় এলেও ঘর ছেড়ে বাইরে বের হয় না বিশেষ, কিন্তু জুম্মা বারে তাকে জাম এ মাসজিদে যেতেই হয়, ওখানে বড় হুজুর বড় মোলায়েম গলায় তেলাওয়াত করেন, কি মধুর বানী, খোদার বানী শুনে তার গলগন্ড ভিজে যায় জলে। আর খোতবায় তিনি বজ্রের মতো কঠিন স্বরে বলেন ইরাকের ভাই বেরাদান আজ ইহুদই নাসারাদের গোলায় মরে যাচ্ছে, হজরত আলীর মাজারে ওরা বোমা মারে, বোমা কারবালায়, হাসানের আত্মা কষ্ট পায়, আমদের মুসলমানদের রক্ত কি পানি হয়ে গেছে? একদিন অর্ধেক দুনিয়ার তখত ছিলো আমিরূল মোমেনিনের হাতে। বীর তারিক এক জাহাজ ভর্তি সেনা নিয়ে ইউরোপ দখল করেছিলো, ইহুদি নাসারারা সেই অপমান এখনও ভুলে নাই, এখনও তারা তার প্রতিশোধ নিতেছে আল্লার ঘরের সামনে বেআব্রু মেয়ে মানুষ ঘোরাফেরা করে, ঐ আমেরিকার কি এত ক্ষমতা আছে কোরানের আয়ত পড়ে ফুঁ দিয়ে দিলে গোটা সৈন্যবাহিনী প্লেগে মরে যাবে, কিন্তু আমাদের দিলে ঈমান নাই, সেই রকম ঈমানদার যদি একমুঠা বালিতে কোরান পড়ে ফুঁ দেয় তাহলে আল্লাহ র ফেরেশতা আসে ওদের উপর পাহাড় ভেঙে দিবে, ভাই বেরাদান, আপনারা সালাউদ্দিনের নাম শুনেছেন, কি মস্ত বীর, সব রাজারাজরা( অবশ্য এই শব্দ শুনলেই তার খোসপাঁচরার কথা মনে হয়, এলাহি মাঝে মাঝে গঞ্জের বাজারে গিয়ে খোসপাঁচরা বেচার মজমা দেখে পুরুষট্ববর্ধক ঔষধের বিবরন শুনে মনে হয় তার বুঝি তেমন 30 পুরুষের মতো ক্ষমতাওয়ালা পৌরুষ নাই যেমন ছিলো মহানবীর, অবশ্য হাদিসে বলছে মধু সর্বরোগহর , পুরুষত্ব বর্ধনের জন্য প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধুপান করে টয়লেটে যান, কোষ্টকাঠিন্য নেই, মাশাল্লাহ এক কোত দিলেই সরসর করে পেট পরিস্কার হয়ে যায়, আর বিশেষ মলম খুজে পেয়েছেন ইউনানি বিদ্যার বইয়ে, এক অনু পরিমান মধু, জয়তুন ফল পিষে, সেখানে জিরা মেখে খেলে আর হককানি পাহাড়ের মাটি জয়তুন কষে মাখিয়ে লাগালে উত্থান হবে টানটান, ) তার সামনে এসে থরথর করে কাঁপতো, কিন্তু আমিরূল মোমেনিনরা ছিলেন মহান পুরুষ, তাদের চেহারার জ্যোতি চকমক চকমক করতো, একবার রোমান সেনাপতির দুত এসে এই জ্যোতি দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে ফেলেছিলো, আল্লাহর নবী বলেছেন, ঈমানদারদের চেহারায় আল্লাহ আখাদা আলো মেখে দেন,তাদের অন্তরের উজ্জলতা প্রকাশিত হয় তাদের কপোলে, আমেরিকা ধংস হবে, আল্লাহ মুমিনদের জন্য আমেরিকায় এইডস পাঠিয়েছেন, ওদের ধংস হবেই হবে, এই যে সাদ্দামকে আটকায়া রাখছে এইটা কি মনে করেন, ওরা সাদ্দামকে আটকায়া রাখতে পারবে, ঐ দিকে একদল পর্যটক গিয়া হসুনে আসছে, পাহারের ভিতরে আবু হানিফার গোড়া ভীষনস্বরে গর্জন করতেছে, আবু হানিফা ছুটে গেলে কাফিরদের রক্ষা নাই সবাইকে কতল করে দিবে, ইনশাল্লাহ মুসলমানদের জয় হবেই হবে।
জেহাদই জোশ কাটে না তার, নামাজের মাঝে সালাম ফেরাতে ভুলে যায় এলাহি, ফেরার পথে আবার গলির মুখে শুনতে পায় বিলাই বিলাই, সাথে সাথে ম্যাঁও ম্যাঁও ম্যাঁও- এইসব কুকুরদের সাথে বাতচিত করে লাভ নেই, তার মাইজদিখান মাদ্্রাসার উর্দু শিক্ষকের বোল চলে আসে তার কণ্ঠে, আহা সৈয়দসাহেব, ওয়ালি মানুষ,
মাইজদিখান মাদ্্রাসার দেয়ালে বড় করে মককাশরিফের ছবি লাগানো, রসুলের কবরমুবারকের ছবি লাগানো, এসব দেখে দেখে তারও ভেতরে গোপন বাসনা এক দিন যাইবো মদিনায়, দ্্ব ীনের নবি মুস্তফায় সেই খানের রাস্তা দিয়া হাইট্যা যায়, চেহারায় নুরের ঝিলিক চোখ ধান্ধাইয়া যায়।
তিনি কাব্য চর্চা করেন অবসরে, মানে সৈয়দ সাহেবের ফুটফরমাশ খেটে তাকে মালিশ করে দেওয়ার পর যদি অবসর থাকে তবেই, ইদানিং অবশ্য শরির টাটায়, মালিশ করতে করতে করতে হুজুরের ভিতরে উপরিমহলের নির্দেশ আসে, তখন তাকে শক্ত করে ধরে রাখতে হয়, উপরের তাগাদা কমে গেলে হুজুর নিস্তেজ হয়ে যান, এর পর অবশ্য হুজুর কে তোয়ালে হাতে যেতে দেখা যায় পুকুর ঘাটে, চাঁদের আলোতে তার সফেদ দাড়ি, আর মেহেদি চর্চিত চুল ঘারে রাখা চেকের কাফতান, মিলিয়ে যাওয়ার পর এলাহি ঘরে ফিরে আসেন, এর পর যদি শক্তি থাকে তাহলে কাব্যচর্চা করেন তিনি।
বোধের কবিতা সব, এই তো কয় দিন আগেই কবিতা লিখেছেন একটা
নেকাব সরিয়ে ও আঁখি বিঁধালো মম হৃদয়ের কাবায়
নিহালের গুঞ্জরনে মনে হয় ও মুখ থেকে ভেসে এলো ওহী
যাজাকুল্লাহ খায়ের বলে গেলো বেনেকাবি
মম হৃদয়ের জয়তুন শাখা যেনো প্রমত্ত বাতাসে বিদ্্রোহী।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


