দুঁদে গোয়েন্দা ছাগুরামের কদর বেরেছে, বিশেষ করে ব্যাবরানো বাবর যখন প্রতিমন্ত্রি হলো তখন তার সাথে ইগনরেজি স্পিকিং ক্লাশে যে কয়জন এডুকেশন লাভ করেছিলো তাদের মধ্যে ছাগুরামকে তার বন্ধুস্থানীয় বোধ হতো।
রঙ্গদেশে স্বজনপ্র ীতি চলতো বেশি তাই ছাগুরামকে গোয়েন্দাবিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
ছাগুরাম আর ব্যাবরানো বাবরের জুটি দিনে দিনে দর্শনীয় হয়ে উঠলো, তখন দেশ জুড়ে বোমাতঙ্ক, ছাগুরামের দায়িত্বে সব তদন্ত কমিটির ভার, ভারবাহী ছাগুরাম ফাইলের ভারে হাপিয়ে উঠেছিলো প্রায়, তাই ব্যাবরানো বাবরের কাছে খোলা খত লিখিত ছাগুরাম-
স্যার
মাই বডি ডুইং নট গুড আই য়্যাম নিডিং ফুটরেস্ট। আই য়্যাম গন টু আউটসাইড ফিল মাই সেল্ফ লাকি, প্লিজ গ্রান্ট মাই ছুটি।
ছাগুরাম
বাবর এই করুন আর্তিভরা খত পড়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছাগুরামের ছুটি মঞ্জুর করিলেন। ছাগুরাম চরিতে গেলো গোবিন্দপুর, সেখানে গাছভরা কাঁঠাল পাতা,, নদীর ধারে কাশবন দেখে যখন ফিরছিলো তখন তাকে কামড়ে দিলো মাছি, মাছি কামড়ে তার ঘাড়ের রগ ফুটো করে ফেললো, এবং এই জীবানু সংক্রামনে তার ফোবিয়া ফোবিয়া হয়ে গেলো। এটা নতুন ধরনের এক মানসিক বৈকল্য, মানসিক চিকিৎসকেরা এটার উৎস নির্ণয় করার জন্য ছাগুরামকে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষনে রাখার অনুরোধ করিলেন সরকার বাহাদুরের কাছে।
সরকার বাহাদুর এই প্রার্থনা মঞ্জুর করিলেন, এবং ছাগুরামের আবাস হইলো 324/1 যে কে লেন, অবশ্য তার প্রাচীন হিপোপটোমনোসট্রোসেসকুউপপেডালিফোবিয়া ছিলো আগেই। যাকে সংক্ষেপে বলে বড় শব্দভীতি, তাই যাযাকুল্লাহ খায়ের লেন কে সে সংক্ষেপে যে কে লেন বলে, এমন অনেক প্রয়োজনীয় শব্দ কেঁটে ছেঁটে সে নিজের মতো সাজিয়ে নিয়েছিলো।
যত দিন যায় ছাগুরামের অবস্থা ততই গুরুতররূপ ধারন করে, একদিন অন দি ফিলড ওফ একশনে ছাগুরাম আকাশের দিকে টাকিয়ে দু কান ঢেকে মাটিয়ে মুখ গুঁজে ফেললো, সঙ্গিসাথীরা বিভ্রান্ত-
গেট ওন উয়োর নিডস ইডিয়েটস, কালপুরুষের কাছা খুলে গেছে? মুখে গ্যাঁজলা তুলে ছাগুরাম জ্ঞান হারালো। তকে চামড়ার চটিজুতা শুঁকিয়ে ধরাধামে নিয়ে আসা হলো। সে উঠেই আবার আটেনশন ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আকাশের দইকে তাকিয়ে শুরু করলো, সামিয়ানা টাঙ্গাও জলদি সামিয়ানা টাঙ্গাও, এফ বি আইয়ের গোয়েন্দা প্লেন উড়ছে, আমাদের সবাইকে এখন লুকিয়ে থাকতে হবে, দেশের বর দুঃসময়। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্যাবরানো বাবর এই অবস্থায় তাকে 3 মাসের বিনাশ্রম বিনা বেতন ছুটি দিলেন। এই অবসর সময়ে সে বাংলা ব্লগে লেখা লেখি শুরু করে।
কি হয়েছিলো ছাগুরামের এটা নির্ধারন করার জন্য তার বিশিষ্ঠ সহপাঠি এবং বন্ধু ব্যাবরানো বাবর একটা 4 সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন, দুর্ভাগ্যক্রমে এই অধমও সেই তদন্ত কমিটির সাথে যুক্ত ছিলো। এটা সেই তদন্ত রিপোর্টের খন্ডিত অংশ
.......................................
ছাগুরামের ডায়েরি হতে
আজ 6ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা 7টা। আমি ব্যাবরের সাথে ডিনারে গিয়েছিলাম মতাহির প্লাজা। তখনই আশ্চর্য ঘটনাটা ঘটলো, আমি কি মনে করে পূর্বাকাশের দিকে তাকালাম, ঐ যে মাঘী নক্ষত্রের পাশে কুকুর নক্ষত্র, আর তার পাশেই কালপুরুষ, আমি স্পষ্ট দেখলাম কালপুরুষের বেলটের মাঝের তারা খসে পড়লো। না খসে পড়ে নাই ঠিক, আমার মনে হলো ওটা হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলো। যদি কালপুরুষের প্যান্ট ঝুলে পড়ে তাহলে তো ও হাতের টানটান ধনুক ফেলে দিবে, তার সেই ধনুকের মাথায় লাগানো তারা তীর যদি পৃথিবীকে তাক করে ছোড়া হয় তাহলে তো কেয়ামত আসন্ন। সবাইকে সাবধান করে দিতে হবে, কালপুরুষের প্যান্ট খুলে যাচ্ছে কালপুরুষের প্যান্ট খুলে যাচ্ছে, এরিয়েন'স প্যান্টস আর ড্রপিং, এমি সি আই এ কে একটা ই মেইল ফরোয়ার্ড করলাম।
****সি আই এ থেকে গতরাতে একটা প্রেস রিলিজ ছাড়া হয়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রির দেহ রক্ষি তার প্যান্টের বেলট লাগিয়ে দেন। অন্য দিকে এফ বি আই এজেন্ট ফক্স মোলডার স্ক্যালিকে নিয়ে তোরাবোরার পাহাড়ের চুঁড়ায় হাজির হয় এলিয়েন ধরার জন্য। ****
12ই ফেব্রুয়ারি
আমি আজকে সকালে আমার এক নাস্তিক বন্ধুকে দীক্ষা দিলাম। ওরা নষ্ট হয়ে গেছিলো, ব্লু ফ্লিম দেখতো ক্লাব ড্যান্স করতো, আমি ওদের কোরানের আয়াত ধরে ধরে শিক্ষা দিলাম, স্টিফেন হকিংএর সাথ আজ অনেক ক্ষন চ্যাট হলো কোরান নিয়ে, এই যে মহাবিশ্বের সমপ্রসারণ নিয়ে তার যত থিওরি এইসব নিয়ে আমার পরিস্কার ধারনা দেখে সে মুগ্ধ, বলেছে তার 2য় বৌএর সাথে আমার ডিনারের ব্যাবস্থা করবে। কিন্তু আমি তো অনৈসলামিক কিছু করবো না, ইসলামে যা যা নিষিদ্ধ আমি সে সব কাজ করি না।
14ই ফেব্রুয়ারি
আজ ভালোবাসা দিবস, মনটা বিষন্ন, সকলাে কাঁঠাল পাতা চিবিয়ে সুখ পেলাম না, অন্ডকোষে কেমন একটা শুন্যতা অনুভব করছি, বোধ হয় সার্জারিটা ঠিক মতো হয় নি, এখনও খুরের জায়গায় অস্ত্রোপচার করে বসানো হাতটাতে ব্যাথ্যা করে, ব্যাবরানো বাবরের সাথে আজ দেখা হলো, মাঝে মাঝে আমার এমন হয়, কিছুই ভালো লাগে না।
আমার উপর ব্যাক্তিগত আক্রমন করেছে তোপখানার ছাগল। সকালে যাওয়ার সময় দেখলামসাইনবোর্ড থেকে ভেংচি দিচ্ছে আমাকে, আমি ঢিল ছুড়ে মেরেছি। অবশ্য হোটেল মালিক খেপেছে।
19শে ফেব্রুয়ারি
আজকে একবন্ধুর সাথে কথা হলো, ওর গার্লফ্রেন্ড ওকে ছেড়ে চলে গেছে, ওকে অনেক বুঝালাম,সারারাত আমার এখানে ছিলো, এই সব তরুন তরুনী আবেগের বশে চলে, নিজেদের ভালোমন্ড বিচার করতে পারে না, আইচ্ছা মাইয়া মানুষ কোনো কামে লাগে, ওগোর কাম হইলো বছর বছর হাসপাতালের লেবার রূমে 2 পা তুইল্যা বাচ্চা পয়দা করবো আর ঘরের কাজ করবো, এইটাই ওদের আসল জায়গা, আর বাকী যেসব সার্ভিস পাওয়া যায় ঐগুলা উপরি পাওনা। আমি অবশ্য রসুলের আদর্শে বিশ্বাস করি, তাই এখন সচিত্র আরব্য রজনী দেখে কামকলা শিখতেছি, আমার মর্ডার্ম নাস্তিক বন্ধুরা বলেছে বাৎসায়নের কামসূত্র না কি আরও ভালো কিন্তু ঐসব নাস্তিকরা শুধু মোনাফেকি করে, মুমিনদের ঈমান নষ্ট করতে চায়।
আরও অনেক অনেক রহস্যময় গুঢ় কথা ছিলো অতটা পড়ার সময় হয় নাই, এইটা বায়োলজিক্যাল হ্যাজার্ড একে সময়মতো কোয়ারেন্টাইন না করলে এটা মান সমাজের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে যাবে এমনটাই আমার বিশ্বাস। আমি আমার রিপোর্টের একটা কপি দিয়ে আসলাম ব্যাবরানো বাবরকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

