somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরোনো দিনের কবিতা

০৬ ই জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাহিত্যের লক্ষ্য কি হওয়া উচিত এ নিয়ে আমার সাথে বিভিন্ন বন্ধুর মাঝে মধ্যেই তাত্তি্বক আলোচনা হয়ে যেতো। আমি নির্বোধ মানুষ তারপরও মাঝে মাঝে ভালো ভালো কথা বলে ফেলি ভুল করে।এক বন্ধু একদিন বেশ গম্ভির মুখে বললো বাংলা সাহিত্যে হতাশার দীর্ঘস্থায়ি গ্রহন চলছে। সব খানেই বিষাদের গল্প কবিতা। সবাই মুঠো মুঠো হতাশা বিক্রি করছে সাহিত্যের নামে। আমি ওর বক্তব্য মিলিয়ে দেখলাম ভালো মানের সাহিত্য বলতে সাহিত্যবোদ্ধারা যা চালাতে চায় তা আমাদের ভেতরের অন্ধকারের গল্প। সেই রকম ভাবেই পুরস্কার পাওয়া সব উপন্যাসের ভেতরে চোরা বিষাদ থাকে। সিরিয়াস লেখা বলতে যেহেতু জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্যকে চালানো হয় তাই দুঃখি মানুষের করুন কাহিনির মধ্যে শুধু সংগ্রাম এবং হতাশা। এই হতাশার মধ্যে খাবি খায় উপন্যাসের চরিত্রগুলো এবং আমি পাঠক হিসেবে জীবনের কর্কশতায় জীবনবিমুখ হয়ে যাই। এই ফাঁকটাতে সস্তা মাপের লেখা নিয়ে অনেক সাহিত্যিক কোমল হৃদয় মধ্যবিত্তের পকেটের টাকা সাফ করে নিচ্ছে। বন্ধুর দাবি ছিলো লেখা জীবন ঘনিষ্ট হতে হলে শুধু দুঃখের বয়ান থাকবে কেনো, এই জিবনের সংগ্রামের ভিতরে একটা গড়ে উঠার বিষয় থাকবে, একটা আশাবাদ থাকবে। আমি এর পর সিদ্ধান্ত নিলাম যদি লেখায় আশাবাদ বা প্রত্যাশার বিষয় না থাকে তাহলে ভালো মাপের সাহিত্য করা সম্ভব কিন্তু এটা ঠিক যুতসই বিষয় হবে না।
আমার জীবন তেমন আনন্দ উদ্দেল নয়, সুতরাং জীবনে সুখের মূহুর্ত আসে প্রতিদিন কিন্তু এসব সুখের মুহুর্তে বড় কোনো জীবনবোধ নেই। দুপুরে ভাতের সাথে আলুভর্তার বদলে একটু আমিষ জুটলে যে আনন্দ হয় আমার জীবনবোধের আনন্দগুলো সেরকম।

কবিতা লেখা হয় না তার কারন জীবনের আড়ালে আশাবাদের বোধটা চারপাশে খুঁজে পাই না। কবিতা শুধু মাত্র ছন্দ মিলিয়ে শব্দের সাথে শব্দের সঙ্গমজাতিয় একটা বিষয় এমনটা আমার মনে হয় না। কবিতা জীবনবোধের পরিস্ফুটন, কথাটা ফুটানি শোনাতে পারে কিন্তু আমার কাছে কবিতার সংজ্ঞা এরকমই। কবিতা জীবনকে ঘিরে নির্মিত হয়, কবিতা আমার অনুভবের স্ফুটরূপ। যেহেতু সেই জীবনের পাথর ঘষে তেমন উজ্জল আলো আশে না তাই অনেক অপেক্ষা করে শব্দের ভেতরে বোধের ভেতরে আশাবাদ আনার ক্লাতি আমার হজম হয় না। সহজ কথায় বলতে গেলে আশাবাদী কবিতা লিখবো বলেই কবিতা লিখি না এখন।
এখানে যেসব কবিতা আসে সেসব এই পণের পূর্বের কবিতা। সেখানে হতাশার বানী থাকলে আমার কিছু করার নেই, যেহেতু এসব কখনই বাংলাসাহিত্যের মূল ধারায় যাবে না এবং যেহেতু এটা আমার নিজের পাতা তাই এখানে জমিয়ে রাখি আমার আশাহীনতার কালের ছবি।

সম্ভবত 98 এ লেখা একটা কবিতা-

এবং সম্ভবত প্রায় যন্ত্রনাবিহীন মৃতু্য
এবং অসংখ জট
বিচ্ছিন্নতা
সভ্যতা।

প্রায় প্রবৃত্তির মতো, প্রায় যান্ত্রিক
এবং সম্ভবত প্রশ্নবিহীন জীবন যাপনের
স্বাধীনতা
সভ্যতা।

এবং ক্রামাগত ব্যাবহৃত হতে হতে
এবং ব্যাবহৃত হতে হতে
এবং জীর্ন হতে হতে
প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পন

এবং ক্রামাগত ক্ষয়ে যেতে যেতে
ক্ষয় হতে হতে
অবশেষে
বীভৎস মৃতু্যর স্বাধীনতা
সভ্যতা


এবং এদিকে ছ আনা
ও দিকে ছ আনা
মানিয়ে নেওয়া এবং মানানো
এবং ওদিকে শাসন
এদিকে তোয়াজ
মানিয়ে নেওয়া এবং মানানো

এবং সবুজ হত্যা
এবং জলহত্যা
এবং বায়ুদুষণ
এবং শব্দ দুষণ
এবং বোধহীন
শহর এবং নাগরিক
রাষ্ট্র এবং শাসক
নেতা এবং রাজনীতি
প্রথা এবং দালালি

এবং এদিকে ছ আনা
ও দিকে ছ আনা
মানিয়ে নেওয়া এবং মানানো।

এবং মাঝরাতে সভ্যতার শবকাঁধে শ্মশানে
এবং একটা শহর চলে যাচ্ছে নিরুদ্দেশে
এবং গলি উপগলি সব ছুটছে
এবং সবাই রূপান্তরিত হচ্ছে
এবং সবাই অবশেষে
মধ্যসত্ত্বভোগী এবং পতিতা
সভ্যতা।


আশ্রয়হীন যৌনতাসর্বস্ব মানুষের
অশ্ল ীল যৌন কাতরতা
সভ্যতা
এবং সম্ভবত প্রায় যন্ত্রনাবিহীন মৃতু্য
এবং যাবজ্জিবন বিষন্নতা
সভ্যতা ।


ধর্ষণের প্রতিবেদন
----------------

অসংখ্য মিথ্যা এবং ভুল বোঝানো ছড়া
অংশ্য মৃতু্য এবং ঘুমপাড়ানি গান
" আয় ঘুম যায় ঘুম বাগদি পাড়া দিয়ে"
খোকা ঘুমানোর পর বর্গি এলো দেশে
এবং শেষ রাতে গৃহবধু ধর্ষিত হলো
এবং এর পর তার ঝলসানো মৃত দেহ
দেখতে এলো প্রশাসন

ক নেতা খ নেতা কর্মি সহকর্মি এবং সহমর্মি
আরো অনেকে এবং অসংখ্য গল্প উপকথা ঘুরছে
" ওদেরই বা দোষ দেই কেনো, মুখিয়েই ছিলো
আজ নয় তো কাল ধর্ষিত হতোই"
যেনো আমাকে ধর্ষণ করো প্লাকার্ড বুকে বেধে
এই ঝলসানো লাশ একদিন শহরের গলিতে হেটেছে

কেউ সাহস করে কোনো প্রশ্ন তুলছে না
পশুত্বের বীজটা আসলে আমাদের রক্তের ভেতরে
এবং যৌনঅতৃপ্তির ধারালো নখর লুকিয়ে
আমরা হাণনটছি,
সময় ও সুযোগমতো স্বভাবে
ধারালো এবং কৌশলি থাবার শিকার করছি নারিদেহ
নয়তো বলুন জনগন.........
কেউ কি নিজ বিছানায় স্ত্র ীকে ধর্ষণ করেন নি কোনো দিন
কোনোদিন অনিচ্ছুক সঙ্গমের পর মুখ লুকিয়ে কাঁদে নি কেউ
রাজপথে হেটেছেন এবং সঙ্গমযোগ্য কোনো কুমারিকে দেখে
গোপনে দীর্ঘশ্বা সফেলেন নি এক দিনও
এবং জীবনের স্খলিত হন নি.......
যদি এমন কেউ কেউ থাকেন
তবে শুনুন উপস্থিত জনগন
যদি আপনাদের ভেতরে এমন কেউ থাকেন যিনি
জীবনে স্খলিত হন নাই
সামনে আসুন .............

অতঃপর সবাই যে যার ঘরে ফিরে গেলো বক্তা স্বয়ং
নিজস্ব লজ্জা নিয়ে ঘষে মেঝে ধর্ষনের প্রতিবেদন লিখলেন
ধর্ষিতার ছবি সহ সেই সংবাদ পড়ে অনেকে গোপনে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন পরদিন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×