একটা সময়ে প্রেমিকাকে ভিন্ন নামে ডাকার চল ছিলো, আমার মায়ের গোপন তোরঙ্গ খুলে মামার লেখা পুরোনো প্রেমপত্র পড়ে হেসেছিলাম, নীচে সই করা ছিলো গরীবের বন্ধু নামে।
যখন প্রেমে পড়লাম আয়োজন করে তখন সদ্য কৈশোরে, অপ্রকাশিত প্রেম ভয়ংকর প্রদাহের মতো।লুকিয়ে রাখতে হতো গুরুজনের চোখের আড়ালে। এবং এই ভাবেই বুঝলাম ছদ্ম নামের প্রয়োজনীয়তা। আমি কাব্যি করে প্রেমিকার নাম রেখেছিলাম কুন্তলা, এমন কোনো শব্দ নেই বাংলা অভিধানে, কিন্তু এই নামের পিছনে যার অবয়ব লুকানো তার এলোমেলো চুল, সদ্যস্নাত চুলের চুঁড়া, কানের পাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়া একটা পানির ফোঁটা, এমন অনেক অনেক দৃশ্য আমার ভেতরটা প্রতিনিয়ত এলোমেলো করে দেয়। এখনও করে.......
হঠাৎ এলোমেলো কাজের ভীড়ে মনে পড়লো তোমাকে
চিঠি দিও। ।
এই অবেলায় হঠাৎ মনে পড়লো তোমাকে
চিঠি দিও-
তুমি ক্যামোন আছো?
চিঠি দিও
তুমি ঠোঁট উলটে বললে ''না মশাই
ওটা হওয়ার নয়, চিঠি ফিঠি আমি দিতে পারবো না
আমার আসে না ওসব, বরং ফোন দিও কথা হবে-
তবু প্রবাসে প্রতিদিন ডাকবাস্ক খুলে প্রতীক্ষা করি তোমার চিঠির, জানি আসবে না তবু এই অপেক্ষা ভালো লাগে আমার।
মাঝে মাঝে অভিমানে
কোনো কোনো রাতে
ঘুম না আসলে লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে
আকাশের চালচিত্র দেখি
তোমার সাথে অন্তহীন কথোপকথন চলতে থাকে-
আমার ফোন না করা দিনের সংখ্যা, ফোন করার দিনগুলোর মধ্যের ব্যাবধান বাড়ে, বহুদিন হয়ে গেলো তোমাকে ফোন করা হয় নি।
শেষ বার শুনলাম তোমার বিয়ে হয়েছে-
ভালোই হয়েছে বোধ হয়, নিজস্বনির্মিত ভালোবাসার মুখটা খুঁজতে গিয়ে হয়তো পেতাম না, কষ্ট হতো তখন
তোমার কাছ থেকে দুরে এসে
আরও বেশী তোমাতে নিমজ্জিত
জানি আসবে না তবু অন্তহীন প্রতীক্ষা সেই চিঠির
এ নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া
এই নিত্য জীবনযাপনের কোথায় তোমাকে রাখি?
এর চেয়ে বরং
চলে যাবো
বেশ কিছু স্মৃতি আছে থাক
স্মৃতিভুক কীটেরা পার স্মৃতির প্রসাদ
স্মৃতির প্রাসাদ থেকে আমাকে জীর্ন করুক
জীর্ন করুক
জীর্ন করুক
কি এসে যায়?
এই যে আমি অবহেলা নিয়ে পথ চলি
প্রতীক্ষায় থাকি
দু চোখের আলো সাজিয়ে রাখি
কারো কিছুই যায় আসে না।
আগুন এসেছি তোমার কাছে
নিবিড় আলিঙ্গনে আমাকে জড়াও
হে আগুন আমাকে পোড়াও।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


