কবিতার ব্যাবচ্ছেদ সম্ভব, কবিতা খুঁড়ে কবির মনস্তত্ত্ব যাচাই করে নেওয়া চলতে পারে কিন্তু মৌলিক যে সুর কবিতার প্রান তা হত্যা করা যায় না। আমার নিজের কিছু পছন্দের চীনা কবিতা আছে-চিননাদের মতোই ছোটোখাটো এবং পরিপূর্ন। চৈনিক যুবতিদের মতোই টানটান যৌবন চৈনিক কবিতার।
অথচ আমি নিজে চীনা ভাষার চ'ও জানি না। কবিতার প্রান অনুবাদে নিহত হয় না তাই অনুবাদে কবিতা পড়েও আমি বুঝে যাই চীনা যুবতির মনের রং, চিননা যুবকের বিরহ আর প্রেম, প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের গোপন কারন। আমার ছোটো খাটো এক চৈনিক কবির সাথে পরিচয় হয়েছিলো। আমরা দুজন মাঝে মাঝে কবিতার কথা বলতাম। তার বসবাস চীনের কোনো এক শহরে যেখানে শীতকালে বরফ পড়ে, সেই কুয়াশার ভেতরে হেঁটে হেঁটে তাকে যেতে হয় কারখানায়। সপ্তাহে একদিন মাত্র ছুটি, সেই একদিনের কয়েকটা ঘন্টা আমার জন্য আলাদা করে রাখতো সেই কবিবন্ধু। তার লেখা ওসুর করা গান পাঠিয়েছিলো আমাকে আমার শোনা হয় নি। অনেক রকম জটিলতায় জড়িয়ে যাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এর পরও তার নতুন কোনো কবিতা আসলে আমাকে অনুবাদ করে পাঠিয়ে দেয়-জানি না এখন কি করছে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উকিল হওয়ার নাইট স্কুলে রাত্রিযাপন এবং দিনের বেলা কারখানায় জীবনপাত এই ছিলো তার দৈনন্দিন কাজ। সে কারখানায় নারী অধিকার নেই। মেয়েরা নিগৃহিত হয়, এইসব দুঃখের খবরও জানাতো। কিভাবে তত্ত্বধায়কের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক লাইন টুকে রাখা দিনলিপির পাতায়- কবিতার সাথে বসবাস এরকম গোপন প্রেমের মতোই। কালার প্রতি রাধার নিষিদ্ধ প্রেমের মতোই মাদকতাময় সুখ।যার আগুনে সময় পুড়ে যায় অনায়াসে। এবং আমাদের চেতনাও পুড়তে থাকে প্রতিদিন, আমরা দৈনন্দিন জীবনকে কবিতার উনুনে চাপিয়ে একএকটা অনুভব লিখে রাখি, পাঠক সেই অনুভবের ব্যাবচ্ছেদ করে। মাঝে মাঝে গালি দেয়, মাঝে মাঝে প্রশংসাও জুটে। কিন্তু এই নিজস্ব প্রেমের দায় এড়ানো সম্ভব নয়। কবিতা কবিকে গিলে খায়।
এমন একজন কবির কবিতা অনুবাদ করবো ভাবছি, উইলিয়াম ব্লেক। প্রথাবিরোধিতার চুড়ান্ত করেছেন জীবনে। জেলখানা ভেঙেছেন বন্দিদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। তার সতীর্থ কবি ও চিত্রশিল্পিদের শিল্পের শত্রু ঘোষনা দিয়ে তাদের এড়িয়ে চলেছেন। বলেছেন শিল্পে সার্বজনীন সত্য বা সার্বজনীন সৈন্দর্যবোধ বলে কিছু নেই। চেনা দৃশ্যের বিমূর্তায়ন মানুষের কল্পনার শ্রেষ্ঠ উদাহরন। সবাই মিলে একটা সাধারন সত্য পৌছানোর চেয়ে একক প্রচেষ্টায় নিজের স্বর পরিচ্ছন্ন পরিশ্রমে প্রকাশ করতে পারাটাই শিল্পির কাজ।
মানুষের ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধির চেয়ে বেশি শক্তিশালী তার কল্পনা-আমাদের কল্পনার চোখ বাস্তবের অভিঘাত এড়িয়ে সত্য নির্নয়ে আমাদের সাহায্য করে- এমন কোনো বানী হয়তো পাওয়া যাবে না ব্লেকের নিজের ভাষ্যে। কিন্তু তার মুক্ত চিন্তার সীমা পরিসীমা এমন সংলাপ তার মুখে মানানসই করে তুলে।
চিন্তার এবং কল্পনার স্বাধীনতা চাওয়া এই কবি এবং চিত্রকর তার সময়ে মোটেও জনপ্রিয় ছিলেন না। তার অবদান বোঝা গেলো তার মৃতু্যর পর এবং কবিতায় তার আপাত বিমূর্ততার ধাঁচ নতুন ধরনের কবিতার প্রসুতিকক্ষ।
যেহেতু পোষ্ট সংশোধনের কোনো ব্যাবস্থা এখনও হয় নাই। একবার সংশোধন করতে গেলেই হাজার রকম ফ্যাঁকরা বাধে তাই এর মন্তব্যে ব্লেকের কবিতার অনুবাদ ছাড়া হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




