somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ম্যারেজ ওফ হ্যাভেন এন্ড হেল।

০৬ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি নরকের ছাপাখানায় গিয়ে দেখলাম কিভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জ্ঞান ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম গহবরে ড্রাগনমানব গুহার মুখের আবর্জনা সাফ করছিলো, ভেতরে অনেকগুলো ড্রাগন গুহার ভেতরটা ফাঁকা করছিলো।
দ্্ব ীতিয় গহবরে ছিলো কাল নাগিনী, পাথর এবং গুহাকে বেষ্ঠন করে, আর অন্যেরা রত্ন মানিক্যে সে গুহার অলংকরন করছিলো।
তৃতীয় গহবরে ছিলো এক ঈগল যার ডানা আর পালক বাতাসের, আর সে গুহার ভেতরটা অসীম মনে হচ্ছিল, অনেক ক'জনা যারা ঈগলের মতোই, খাঁড়া ঢালে প্রাসাদ বানিয়েছে।

চতুর্থ গহবরে ছিলো প্রজ্বলিত অগি্নর মতো এক সিংহ, যার আঁচে সব ধাতু গলে জীবন্ত তরল হয়ে গেলো।
পঞ্চম গহবরে সব নামহীন কায়ারা গলিত তরল ধাতুকে ছড়িয়ে দিচ্ছিলো,
এবং ষষ্ঠ গহবরে এইসব সংগ্রহ করে মানুষেরা বইয়ে রূপান্তরিত করছিলো এবং লাইব্রেরিতে সাজিয়ে রাখছিলো।
মহৎ মানুষেরা,যারা তাদের ইন্দ্রিয়বিলাসে এই পৃথিবী তৈরি করেছে এখন বোধ হয় শৃংখলাবদ্ধ, আর সত্য হলো, সব প্রাণোচ্ছলতা আর কর্মঠতার উৎস এই ইন্দ্রিয়বিলাস, আর শেকল হলো দুর্বলের চাতুর্য আর নির্জ ীব মনন, যা শক্তিকে অসার করে দেয়, সেই প্রবচনের মতোই, যার সাহসে ঘটতি সেজন চতুর অতি।

সুতরাং অস্তিত্বের একটা অংশ বহুপ্রজ, অন্যটা আগ্রাসী খাদক, আর খাদকের ধারনা উৎপাদক তার অনুগত দাসানুদাস, কিন্তু এটা সঠিক না, বরং খাদক তার অস্তিত্বের অংশ গ্রহন করে এবং বাকীটা তার উদ্ভট কল্পনা।
বহুপ্রজের অস্তিত্বসংকর হবে যদি না খাদক সমুদ্্রের মতো তার অতিপ্রজ অংশকে গ্রহন না করে। কেউ কেউ হয়তো বলবে একমাত্র ইশ্বরই সব কিছুর জন্ম দেয়,? আমার উত্তর ইশ্বর শুধুমাত্র জীবন্ত এবং মানবের মধ্যেই প্রতিভাত হয় এবং সেখানেই ক্রািয়া করে। এই খাদক আর উৎপাদক শ্রেনীর মানুষ সবসময়ই পৃথিবীতে জন্মায় এবং তারা পরস্পরের শত্রু, আর যারা এদের মাঝে সমঝোতার চেষ্টা করে তারা আসলে আমাদের অস্তিত্বের বিনাশ চায়।
ধর্ম এই দুই বিরোধি শক্তির সমঝোতার একটা প্রয়াস, নোটঃ যীশু এই দুই শক্তির ঐক্য কামনা করে নাই, বরং তাদের আলাদা রাখতে চেয়েছে, যেমন ভেড়া আর ছাগলের গল্পকথায় প্রতিভাত হয়, এবং বলেছেন, আমার আগমন শান্তি কল্যানের জন্য নয় বরং আমি একটা তরবারী দিতে এসেছি।
পরিত্রাতা বা শয়তান বা এই অনুভবআমাদের শক্তি সম্পর্কিত অতিপ্রাচীন ধারনা।
এক দেবদুত এসেছিলো আমার কাছে, এসে বললো, ওহে অর্বাচীন যুবক, কি ভয়ানক! কি বীভৎস অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছো তুমি এই শিল্পের চর্চা করে ,অনন্ত অগি্নকুন্ডে আজীবন দগ্ধ হওয়ার অমিত সম্ভবনা জাগাচ্ছো তুমি তোমার শিল্পসাধনায়,।
আমি বললাম, হয়তো তুমি আমাকে আমার অনন্ত পরিনতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাও, আর আমরা দুজনই প্রতীক্ষা করবো সেই অনন্ত পরিনতির এবং অতঃপর দেখবো কার পরিনতি কার কতটা কাম্য,
তাই সে আমাকে নিয়ে গেলো আস্তাবলে,সেখানে থেকে গীর্যায়, গীর্যার সিন্দুকের শেষে শস্যকল, সেই শস্যকলের ভেতর দিয়ে অবশেষে গুহার সামনে, িেস গুহার অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে আমদের ক্লান্তিকর ভ্রমনের শেষে আমদের পায়ের নীচে অসীম আকাশের মতো সীমাহীন শুন্যতা, আমরা কোনোমতে গাছের শেকড় ধরে ঝুলে আছি সেই শুন্যতার উপরে, আমি দেবদুতকে বললাম যদি তোমার মর্জি হয় তাহলে আমরা এই অসীম গহবরে আমাদের নিবেদন করতে পারি, দেখা যাক এখানেও ইশ্বরের বিধানপ্রচলিত কিনা? ধৃষ্টত া দেখিও না অর্বাচীন যুবক, এই অন্ধকার কেট গেলেই তোমার নিয়তির দর্শন তুমি পাবে- দেবদুত আমাকে জানালো।
আমি ওকের বাঁকাচোরা শেকড়ে বসে নিয়তির প্রতীক্ষারত, আর সে ছত্রাকাকের গোড়া ধরে ঝুলে ছিলো।
******
ইচ্ছা ছিলো এ সপ্তাহেই শেষ করবো এই যন্ত্রনা, মধ্যযুগীয় ইংরেজি গিলতে কষ্ট হয়। অনেক শব্দই এখন ডিকশনারি থেকে হারিয়ে গিয়েছে, অনেক শব্দই ব্যাবহৃত হয় না বলে মৃত। এই সব মৃত শব্দের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অনুভুতি হচ্ছে, আবার অনেক সময়ই মনে হচ্ছে আক্ষরিক অনুবাদটা সঠিক না, মানে সম্পুর্ন ভাবটার সাথে শব্দের অনুবাদটা ঠিক যায় না। যেমনটা এখানে- আস্তাবল- চার্চ, চার্চের ভেতর দিয়ে শস্যকল, শস্যকলের ভেতর দিয়ে বিস্তৃর্ন শুন্যতা- আমার ভাবনায় বলে আস্তাবল এসেছে যীশুর জন্মস্থান হিসেবে, যেখানে যীশুকে দেখতে হাজির হলো প্রাচ্যের বিজ্ঞেরা, সেখান থেকে চার্চের পথ, চার্চের সিন্দুক মানে মূল কথার আড়ালে আসলে জীবনকে ফলবান করে তোলার একটা প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা, সেই ফলবন্ত হওয়ার ইচ্ছার সাথে কিভাবে শুন্যতা চলে আসে সেই অন্ধকার চেতনার গুহা, সেখানে পথ হাতড়ে বেড়ানো মানুষ অবশেষে শুন্যতা খুঁজে পায়, মানে প্রচলিত প্রার্থনায় ইশ্বরের বিধান নেই, ইশ্বরের সম্পুর্ন ধারনাটাই একটা ফাঁকি- হয়তো সত্যি, অন্ধকার একটা অনুবাদ হচ্ছে এটা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



"ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস"

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে "কোচ" শব্দটা মানেই ছিল ঝড়!

রাসেল ডোমিঙ্গো, হাথুরুসিংহে-
Phil Simmons (2024–present)
Chandika Hathurusingha (2014–2017, 2023–2024)
Russell Domingo (2019–2022)
Steve Rhodes... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×