এরশাদ নামা আন্দোলনের সাথে এরশাদনামার সম্পর্ক মাত্র 9 বছরের, 24শে মার্চ 1982 থেকে 6ই ডিসেম্বর 1990 পর্যন্ত যার ব্যাপ্তি। অংপুরের ছাওয়াল যখন ইয়াহিয়ার ক্ষমতা দখলের যুগপুর্তি উপলক্ষে 82তে মার্শাল ল চিফ ঘোষণা দিলেন, বাঙালি জাতি বড়ই সস্তি পেয়েছিলো। আইয়ুবের শাসন, মুজিবের ভাষন আর জিয়ার খননের পর নতুন একটা উপলক্ষ্য পেয়েছিলো আনন্দে হেসে উঠার।
বাঙালি জাতি শক্তের ভক্ত নরমের যম কথাটা মিথ্যা নয় মোটেও এখনও লোকজন ঘরোয়া আলোচনায় আবার মিলিটারি ক্ষমতায় আসবে কি না এই নিয়ে বিশ্রামালাপ করে। রাজাশাসিত গৌর যুগের গৌরিদের সাথে পরিচয় হয় নাই, তবে সেই অসীম অতীতের পর 23শে জুন 1757 তে কোম্পানি শাসন ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকে শুরু করলে বলতে হয় সেই 1757 থেকেই আমরা বিভিন্ন মাত্রায় এই জিনিষ দেখে অভ্যস্ত। 1757 থেক 1947 এই 190 বছরের পর আবার কোম্পানি শাসনের দ্্বিশত বর্ষপুর্তির পর পরই আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করলেন- তিনি বিগত হলেন 25শে মার্চ 1969এ । 25শে মার্চ থেকে 10ই এপ্রিল 1971 পর্যন্ত ইয়াহিয়া খান বাঙালির প্রেসিডেন্ট ছিলেন,এর পর মাত্র 5 বছর গেলো,7ই নভেম্বর 1975এ আবারও মার্শল ল এডমিনিস্টার হিসাবে হাজির হলেল জিয়াউর রহমান সাহেব- তিনি 76এ চিফ এডমিনিস্টার এবং 77 এ প্রেসিডেন্ট হলেন- রাজনীতিতে মিলিটারি সংশ্লিষ্ঠতা ছিলোই, লর্ড ক্লাইভের আগেও যারা রাজ্য ক্ষমতা দখল করেছে তারাও সেনাপতি থেকে রাষ্ট্রপতি হয়েছে- তবে সভ্যতার বড় গুন হলো মানুষ বৈচিত্র চায়, তাই ক্লাইভ কিংবা তার পূর্বসুরিরা যা করে নাই( পাকিস্তান রাম ছাগলদের দেশ, ওদের খেদানোর জন্য এখনও একটা জেনারেল রাষ্ট্রপতি হয়ে বসে আছে, তবে ছাগল বলার কারনটা হলো ঐ জেনারেলদের জাতিগত ভাবেই সৃষ্টিশীলতা কম, তাই আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়া উল হক হয়ে পারভেজ মুশাররফের মুশায়েরা শুনলেও টাদের কেউই কোনো রাজনৈতিক দলের জন্ম দেয় নাই) বাংলাদেশের মানুষের শালীনতাবোধ অনন্য তারা একটা পার্টি নামিয়ে ফেলে, কিংবা দলাদলির ঐতিহ্য বলেই হয়তো জিয়াউর রহমান হুট করে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নির্বাচনের খায়েশ করলেন, গর্ভস্খলন হয়ে বি এন পির জন্ম হলো। জিয়াউর রহমান খাল খুড়ে খুড়ে অসীম পাতালে চলে গেলেন 81তে, এর পর এরশাদ সাহেবের রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রগাঢ় হইলো, তিনি 24শে মার্চ 1982তে আবারও মার্শল ল জারি করিলেন। অতঃপর 1986তে তারও নির্বাচনের খায়েশ হইলো- আবার জাতিগত গর্ভস্খলন এবং জাতিয় পার্টির জন্ম হইলো।
জিয়াউর রহমান সাহেব( আদবগুজার) সংবিধানের শীর্ষে বিসমিল্লাহ আনিলেন, তারও 10 বছর পরে এরশাদ সাহেব তার সামরিক শিশ্ন দিয়ে সংবিধানের গর্ভে স্থাপন করিলেন ইসলাম, বলুন মাশাল্লাহ।
এর পর থেকেই প্রতি বৃহঃস্পতিবার রাতে তার স্বপ্ন দেখার বাতিক হলো, তিনি তার অনুগত কুকুরদল( প্রহরিসম্বলিত) নিয়ে বিভিন্ন মসজিদে হানা দিলেন, খোৎবার পরিবর্তে তার সুললিত ভাষন শুনে নামাজপরার উদ্দেশ্যে জমায়েত হওয়া কতিপয় বঙ্গ শার্দুল চটি হারানোর ভয়অতিক্রম করে হাততালি দিলো এবং দিতেই থাকিল 1990 পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে ঘুরে, পীরের দরগায় ঘুরে অনেক ইসলাম প্রচার করিলেন, তবে বাঙ্গালি জাতি বড়ই কলহপ্রিয়, সুখে থাকতে তাদের ভুতে কিলায়, রাষ্ট্রপতির ইসলামসেবা বা উপাসনার প্রচারে তারা বড়ই নাখোশ, বিভিন্ন সংবাদপত্র এ বিষয়ে নেগেটিভ খবর ছাপানো শুরু করলো। বুজুর্গ এলেম তাবলিগের স্বপ্নদ্্রষ্টা এরশাদ সাহেব অবশেষে 6ই ডিসেম্বর 1990 এ রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করিলেন।
তার আমলে জাতিয় অঙ্গ সৈষ্ঠবের যেই অলংকরন হয়েছিলো তা করতে গিয়ে তিনি নাকি ব্যাপক দুর্ন ীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন, নেমখারাম বাঙালি জাতির বিবেক নাই কোনো। তার বৈধ্য ব্যাবসাউপার্জিত সম্পদ নিয়ে এমন অপপ্রচার। তিনি রাষ্ট্রের বেতনভোগী যোদ্ধা ছিলেন, কিন্তু 90এ ক্ষমতা ছাড়ার সময় তার নামে বেমানে জড়ো হওয়া সম্পদ সবই তার রক্ত জল করা পরিশ্রমের ফসল। তার ফ্ল্যাট বাড়ী, টার ব্যাংক ব্যালেন্স সবই তিনি পরিশ্রম করিয়া অর্জন করিয়াছেন। দুর্ন ীতি করিতে যেই মেধাবি পরিশ্রম তিনি করিয়াছেন এটার কি কোনো মুল্য নাই? তাকে ধরে বেধে জেলে পুড়ে দিলো সরকার। তিনি জেল থেকে নির্বাচন করিলেন, তার বৌ-ভাই-চাচা সবারই জনপ্রিয়তা আছে, বাঙালি 9বছর যাকে খেদানোর জন্য হুলুস্থুল করলো তাকেই আবার সংসদে দেখার জন্য হয়রান হয়ে গেলো- তিনি 5টি আসনে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রবেশ করিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান বড়ই বেকুব ধরনের, একসাথে কতিপয় আসন ধরে রাখার কোনো ব্যাবস্থা নেই- আরে বাবা একজন যখন নির্বাচিত হয়েছে তাকে যখন কয়েকটা এলাকার অধিবাসি নির্বাচিত করেছে তখন তাকে নামানোর কি প্রয়োজন, তিনি যদি একসাথে 5টা এলাকার জনগনের দেখভাল করতে পারেন তাকে করতে দেওয়া হোক না।
বাংলাদেশ অদ্ভুত এক দেশ, এখানে মানুষজন তেলিয়ে চাঙ্গে উঠানোর জন্য ব্যাতিব্যাস্ত থাকে- বি এন পি লীগ 9 বছর ধরে আন্দোলন করলো, এর পর এখন সেই এরশাদ বাবাজিকে নিয়েই টানাটানি- ভাবি এবং আপার আঁচল তলে এরশাদের অবস্থা মরিচ, শিল নোড়ায় ঘষাঘষি চলছে, তাকে প্রেসিডেন্ট বানানোর জন্য মরিয়া হয়ে খুঁঝছে খালেদা জিয়া, হাসিনা আপাও তাকে খুঁজছে, মতিউর রহমান কিংবা গো আজমের সাথে এরশাদের সখ্যতা অনেক দিনের,
মেয়েরা প্রবলপুরুষ আকংক্ষা করে বলেই হয়তো, বিভিন্ন মানুষের বিবাহিত বৌ এবং তার প্রিয় বান্ধবিরা সবাই তাকে পরম আদরে ভালোবাসায় ভরে রেখেছিলো, কিন্তু প্রবল পুরুষের কাঠামোতে সামান্য খুঁত হলো তার সন্তানউৎপাদনের অকার্যকারিতা।
ক্ষমতায় আসার পর 56 বছর বয়েসে তিনি প্রথম পূত্রের জনক হন, অবশ্য পরবর্তিতে তিনি সত্ত্বত্যাগ করেন। আবারও 72 বছর বয়েসে তিনি পিতা হলেন, তবে নিন্দুকেরা ভিন্ন কথা বলে, তার অফুরন্ত যৌবন নিয়ে তিনি খেলা দেখাবেন আরও কিছু দিন- যদিও তিনি জেলখাটা আসামি হিসেবে নির্বাচনে আইনত অংশ নিতে পারবেন না, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এরশাদকে চায়, তাই নির্বাচন বিধি ভঙ্গ করে হলেও এরশাদ আবারও নির্বাচনে দাঁড়াবেন এবং অংপুরের প্রিয় ছাওয়াল হিসেবে সংসদ অলংকৃত করি করিবেন,
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




