somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আশেকূল ঈমান- শুধুমাত্র বড়দের জন্য

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সদা প্রভু ও উপস্থিত জান্নাতবাসী আমরা আমাদের জীবনের আমোদ প্রমোদে নিজেদের নিমগ্ন রেখেছি, আমাদের কোনো অভাব নেই, কোথাও উত্তরন নেই, আমাদের জীবন কতিপয় অনুশাসনের অঙ্গিকারে বন্দি, অথচ আমরা এই সত্যটা দেখছি না, আমাদের এখানে কোনো শিশুর জন্ম হয় না, আমাদের সঙ্গমনিমিত্তে উপস্থিত বালকগুলোর বয়স বাড়ে না, আমাদের নারীরা চিরকালীন অক্ষতযোনী , আমরা অন্তবিহীন একটা চক্রের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছি।

উপস্থিত জনতা চারপাশে তাকায়, সত্যিই এখানে কোনো জন্ম নেই, অনন্ত বসন্ত দিনের মাঝে সামান্য ব্যাতিক্রম হয়ে আছে মসজিদুল আকসার দেয়ালে লিপিবদ্ধ মৃতের তালিকা এবং লোবানের ঘ্রান। আজও পশ্চিম কুঠির জয়নব সুন্দরির জানাযা হলো, এর পর সবাই এসেছে বিচার সভায়।সেখানে এমন সহজ একটা অকপট সত্য উচ্চারিত হওয়ায় উপস্থিত সবার ভেতরে ক্ষনিক গুঞ্জরণ সৃষ্টি হলো।

আমরা একই রকম কাজ করছি, নিয়মিত আহার, বিহার, এখানে শিক্ষালাভের সময় এই বিষয়টা অনুধাবন করার পর আমি মসজিদুল আকসা গ্রন্থাগারের পুস্তিকা খোঁজা শুরু করলাম। এখানে এই সম্পর্কিত কোনো তথ্য নেই, নির্দেশিকা নেই, কোথাও বলা নেই এখানে শিশুর জন্ম হতে পারবে না। এমন কোনো স্পষ্ট বিধি নিষেধ না থাকা সত্ত্বেও আমাদের এখানে কেনো শিশুরা জন্মায় না? আমরা কি সবাই অনন্তকামুক জীবন যাপন করবো? যদি তাই হয় তাহলে কেনো আমাদের আজন্মকাল বহ্মচর্যের বিধান দেওয়া হলো, বলা হলো কেনো কামনা ও দৃষ্টি সংযত করো। এই পরলৌকিক জীবন যাপন অর্থই শুধু সঙ্গম এবং সঙ্গম অহর্নিশি? আমরা কখনই প্রার্থনা করি না, আমাদের কেউই ইশ্বরচিন্তায় সময় কাটায় না, আমরা শুধু বেঁচে থাকি।
আমাদের চারপাশে দেবশিশুরা জন্মায়, বেড়ে ওঠে, তাদের জনক বা জননি নেই, শুধু মাত্র একটা আলোর বিভ্রম হতে পারে তারা, আমি নিশ্চিত নই।
উপস্থিত জনগনের ভেতরের দ্্বিধা বেড়ে যায়, তাদের আশে পাশে দাঁড়ানো ফেরেশতাকুলকে আরও খুটিয়ে দেখে, শুধুমাত্র সচ্ছতা বাদ দিলে তাদের সাথে গঠনে তেমন কোনো পার্থক্য নেই, কিন্তু ফেরেশটাকূল শরীরের আকৃতি বদল করতে পারে, যেকোনো সময় যেকোনো বেশ ধারন করতে পারে। তারা স্পষ্টত আমাদের চেয়ে ব্যাতিক্রম, এবং তাদের কামনা বাসনা নেই। তারা ইশ্বর উপসনা করে, তাদের জীবন যাপনে ত্রুটি নেই, বরং নিয়ম শৃংখলা বিদ্যমান।

অবশেষে একদিন ইন্দ্রপুরীর সন্ধান পেলাম, এখান থেকে পশ্চিমে খাড়া মাইলটাক গেলেই ইন্দ্রপূরী, সেখানে দেবতারা থাকে ,সেখানে জীবন জন্মায়, সেখানে নিয়ম অনিয়ম আছে, আর সেখানে পরিশ্রমের প্রয়োজন আছে। সেখানে গিয়ে বহুবিধ গঠনের সুন্দরী দেখলাম, গড়নে, হাস্যে, লাস্যে তাদের তূল্য কেউ নেই, তাদের জীবন্ত মনে হয় আর তারা অক্ষয় যৌবনা নয়,মেনেকার বয়েস হয়েছে, তবুও এখনও চামড়া টানটান, ভ্রুভঙ্গি আর ভ্রুকুটির কি তেজ, একবার তাকলে শরীরে কামনার বান আসে, এখানের নারীদের ন্যাংটা দেখলেও আজকাল শরীর সাড়া দেয় না, সেখানে গিয়ে আমার মনে হয় না আমি কোনো অপরাধ করেছি, বরং নতুন একটা বিষয় জেনেছি, বুঝছি আমরা কি স্বর্গসুধা হতে বঞ্চিত, আমাদের যেখানে রাখা হয়েছে এটা সস্তা দরের হোটেল, এখানে তেমন কিছুই নেই, আমাদের সাথে প্রতারনা করা হয়েছে, আমাদের বলা হয়েছিলো এখানে আমরা যা চাবো তাই পাবো কিন্তু আমাদের ইচ্ছা আসলে পুরণ হচ্ছে না, এটা নিশ্চিতই কোনো দ্্ব ীতিয় শ্রেনীর হোটেল কক্ষ, এটা জান্নাত নয়।
আশেকুল ঈমান মনোযোগ দিয়ে শুনছে সব কথা, তার এই ছোটো জীবনে এমন ঘটনা আর ঘটে নি, এমন ভাবে ভাবতেও শিখে নি সে, তার কায়দা, আমপারা, ভাষার অলংকার শেখার ভেতরে কোনো প্রশ্ন ছিলো না, বরং বলা হয়েছিলো জগত নিয়মশাসিত, এখানে উচ্চারনের নিয়ম এমন তাই এভাবে পড়তে হবে, বস্তুত সে ভেবে দেখলো তাদের কখনই প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেওয়া হয় নি।
এখানের দাপ্তরিক কাজের জন্য মাঝে মাঝে অন্য জগতের মানুষেরা আসে, তারা এসে এখানের ইনফরমেশন সেন্টারে গিয়ে রীতিমতো নাট সিটকায়, এমন আদ্যিকালের জিনিষপত্র সব, বাইরে সবাই পেন্টিয়াম 4 ব্যাবহার করছে এখানে এখনও 386 মডেলের জিনিষঃ, তাও হার্ডডিস্কের ক্যাপাসিটি5 মেগাবাইট, ওখানে এখন 1000 গিগা বাইটের হার্ডড্রাইভ চলে এসেছে, অনেক বার অনুরোধ করেছে এই মডেলের জিনিষ এখন ওখানে অচল, ওখানে এসব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয় শুধুমাত্র মাদ্্রাসায়, অন্য সব প্রতিষ্ঠানে এখন 386 মডেলের কম্পিউটারের কোনো জায়গা নেই, তবে এটা ভালোই হয়েছে, মাদ্্রাসা পাশ করে সবাই একটা কর্মক্ষেত্র পেয়েছে, নিয়মিত বিগড়ে যায় এই পুরোনো মডেলের জিনিষগুলো, জিব্রাঈল শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একদল লোকের কাছেই বহন করে নিয়ে আসে এই খবর, তার বিনিময়ে জিব্রাঈলকে কয়েকদিন শেরাটনে থাকার সুযোগ দেওয়া হয় ,সে স্বর্গে থাকতে থাকটে বিরক্ত, ওখানে ঠিক মতো আয়েশ করা যায় না, ঘরের লাগোয়া টয়লেট নেই,সুইমিংপুল নেই, গরম পানির ঝর্না নেই,
সেখানে জমা রাখা তথ্যগুলোকে ওলোট পালোট করে অনেক লোকের নাম তুলে দেওয়া হয়েছে, অনেকরে পূন্যের হিসাবে গোঁজামিল দেওয়া হয়েছে, এ জন্যও তারা পৃথিবীর মানুষের কাছে টাকা নেয়।
আশেকুল তাদের কাছে এসব শুনেছে, তবে ভয়ে কাউকে কিছু বলে নাই, এখানে শুধুমাত্র মানুষেরা অমর, অন্যসবার জরা,ম ৃতু্য আছে, আর এই চক্রান্তের শেকড় অনেক দুর পর্যন্ত, আশেকূল ঈমান শুনেছে, স্বয়ং ইশ্বরের পেশকারও এ কাজের বিনিময়ে মাঝে মাঝেই মেনেকার সাথে রাত্রবাস করে। অতএব আশেকূল ঈমান মুখ বুঁজে চলতে শিখেছে।

লিখিত জবানবন্দি পাঠের পর জান্নাতুল বুরবকের ভীষন রকম বিশৃংখলা শুরু হলো। সুসুথ সুন্দর জীবন যাপনের অধিকার চেয়ে সবাই জান্নাতুল ফেরদৌস অভিমূখে মিছিল নিয়ে রওনা হলো, যাওয়ার পথে ইডেন পার্ডেনের উপর দিয়ে একচোট ঝড় বয়ে গেলো, সেই বর্ষিয়ান গন্ধম গাছের পাতা ছিড়ে নেওয়া হলো নির্মম ভাবে, আব্রু হারিয়ে সেই গন্ধম গাছ লুকিয়ে গেলো অন্যসব গাছের আড়ালে।
এমন অবস্থায় ইশ্বর আশ্বস দিলেন ঠিকাছে, তোমাদের দাবীর প্রতি সুনজর রাখবো আমি, আমি সর্বাপেক্ষা ন্যায় বিচারক, আমার বিচারে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাবে না।
হারগিলে একজন শীর্ন কণ্ঠে আপত্তি জানালো, তাতো দেখতেই পারছি, তোমার সুবিচারের নমুনা, সবাই আয়েশী জীবন যাপন করছে আর আমরা সেকেন্ড ক্লাশ একটা হোটেলে পড়ে আছে, পড়ার জন্য একটা ভালো পত্রিকা নেই। আর ইন্টারনেট লাইন এমন স্লো, একটু মনখুলে পর্নো সাইট ভিজিট করতে পারি না। সবাই থমকে যাওয়ার পর ইশ্বর তার হিসাবের খাতা খুলে সবাইকে জানানোর চেষ্টা করলেন-
জানা গেলো লোকটা দৈনিক সংবাদের প্রদায়কের কাজ করতো, তার কাজ ছিলো রম্য পাতায় কৌতুক জমা দেওয়া, এ কাজের জন্য লোক হাসিয়ে যতটুকু পূন্য লাভ করেছিলো সে সেই পূন্যের জোড়ে তার জান্নাতবাস হয়েছে,
তার একটা নমুনাও আছে, দম ফাটানো হাসির কৌতুক শিরোনামে ছাপানো কৌতুকটা উচ্চকণ্ঠে পড়া হলো, কে না জানেঝাসি মানুষের রাগকে দ্্রবীভুত করতে পারে।
কোনো এক গ্রামে এক ছাগল বেড়া চিবাচ্ছিলো, তার মালিক তাকে ডেকে বললো - কি রে ছাগল বেড়া খাস ক্যানো, ঘাস নাই।
ছাগল বললো ঘাস কিভাবে থাকবেথুজুর ওটাতো আপনি খেয়ে শেষ করলেন।
উপস্থিত জনতার থমথমে মুখ দেখে ইশ্বর গম্ভির মুখে বললেন আপনারাই সিদ্ধান্ত দিন- আপনাদের পাঠানো প্রতিনিধি যাবে বহ্মার কাছে, সেখানে গিয়া স্বর্গপূরি ঘুরে দেখবে, তার বিবরন দিবে, আমি সে রকম জান্নাতের ব্যাবস্থা করবো আপনাদের জন্য।
উপস্থিত জনতা আশেকুল ঈমানকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করলো।

আশেকূল ঈমানের পাঠানো রিপোর্টঃ
আমি এখানে আসার আগে ইতিহাস বই ঘেঁটে জানলাম বহ্মার সাথে ইশ্বরের চুক্তি হয়েছিলো তার অতিপুরোনো জাঁকজমকপূর্ন স্বর্গপুরীর কোনো খবর সে ফাঁস হতে দিবে না, এ জন্য আসলে বিশাল এক দেওয়াল নির্মিত হয়েছিলো এই 2 জনের শাসিত অঞ্চলের মধ্যে, তবে নারদ বলে এক পাপিষ্ঠ সেই দেয়াল ভাঙে ফেলে, এবং সবাইকে উস্কানি দেয় সামনে ইশ্বরের জান্নাতে হানা দেওয়ার জন্য। কেউ রাজি হয় নি, শেষ পর্যন্ত উৎকোচ দিয়ে নারদ জান্নাতে প্রবেশ করে এবং মসজিদুল আকসায় তাদের বিজ্ঞাপনের 20 কপি রেখে চলে যায়, সেই সময় সেখানে ছিলো সালেকীন ও মাই দুল ইসলাম, তারা সে বিজ্ঞাপন দেখে অনুপ্রানিত হয়ে সেখানে যায়, এবং তাদের প্ররোচনায় অবশেষে একটা মধুচক্র গঠিত হয় জান্নাতুল বুরবকে।
এখানে আসার পর আমাকে প্রথমে এক গ্লাস পানীয় দেওয়া হয়, স্থানীয়রা বলে ইহার নাম ভাং বড়ই আশ্চর্য জিনিষ, এ জিনিষ আমি জান্নাতে উপভোগ করি নাই, হালকা মাদকতা আছে, একটু কেমন য্যানো লাগে তবে এর পরের অনুভূতি বড়ই মনোরম।
একটা চারকোনা বাস্ক দেখলাম, সেখানে অনেক মানুষ নাচানাচি করছে, তবে তাদের কাউকেই বাইরে বের হতে দেখলাম না, ভেতরে কোথায় লুকয়ে থাকে মানুষগুলো আমি জানি না, তারা কাপড় বদলে ফেলে, সেখানেই আমি একজনকে দেখলাম বলছে-
আপনার মাথা ব্যাথা, ওষুধ এখন হাতের নিকটে। এক্সট্রাস্ট্রং নিরোধ, মাথা ব্যাথ্যার একান্ত সঙ্গি।
সেখান থেকে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো বিশাল এক হলরূমে, ইশ্বরের দিব্যি, এমন হলঘর আমি আগে কখনও দেখি নি, বহুমূল্য মানিক্য সজ্জিত এক একটা দেয়াল,হীরা চুনি পান্না খচিত গম্বুজ,টেরাকাটার দেয়াল, উজ্জল তামাটে বর্ণের। আমি মুগ্ধ, অবশেষে সেই সব বিশাল বিশাল প্রাসাদ পেরিয়ে পৌঁছালাম ইন্দ্রপুরীতে।
তখন সেখানে খেয়াল গাইছিলো রম্ভা, আহা আহা কি জংঘা তার, মসৃন, কি কোমড়, কি সুন্দর পুরু ঠোঁট, আহা মরি মরি , কি কিন্নর কণ্ঠ তার সেনো হাজার বীনার ঝংকার, আমি কখনই জান্নাতে এই সুর শুনি নাই, এ সুর এ জগটের অন্য কোথাও এ সুর পাওয়া যাবে না।
ইন্দ্রপুরীর তাপমাত্রা নাতিশীতোষ্ণ, এয়ার সার্কুলেশন ভালো, সারাক্ষন মৃদু বাতাস বয়ে যাচ্ছে,
সেই হালকা বাতাসে উড়ছে আঙরাখা তার, গোলাপী স্তনযুগলের সুডৌল গঠন, চেপে বসা বন্ধনি ঠেলে উপড়ে উঠে আছে, একেবারে হট।
তার চাঁপা কলি আঙ্গুল , আহা সে আঙ্গুল শুধু রম্ভার হয়-
ভুল ভাঙলো ,চারপাশের সখীদের কেউই কারো চেয়ে কম যায় না, এ বলে আমাকে দেখো, ও বলে আমাকে দেখো। সুন্দরীদের মেলা বসেছে য্যানো, ঝাককাস সব রূপসীরা বসে আছে, সেখানে আমি হলফ করে বলতে পারি জিব্রাঈলকে দেখেছি।
এর পর শুরু হলো মুল আয়োজন, আহা কি সুন্দর দৃশ্য, অলৌকিক,অপার্থিব, এর পরে সবাই কাপড় খুলে রতিক্রিয়ায় মগ্ন হলো, এবং সভাস্থল জুড়ে শুধু শীৎকার, উঁচু উঁচু গম্বুজে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো। কত নানাবিধ আসন, কত রকম সুখের আর আনন্দের উপকরনসেখানে।
আশেকূল ঈমান ফিরে এসেছে নির্ধারিত সময়ের আগে, তার উপর অর্পিত দায়িত্ব বিন্দুমাত্র অবহেলা না করে পৌঁছানো মাত্রই বায়তুল মোকাদ্দাসের ছুটে গিয়েছে সে। সেখানে পৌঁছে রিপোর্ট ও জমা দিয়েছে।
আশেকূল ঈমানের রিপোর্ট গম্ভির মুখে পড়ছিলেন ইশ্বর, এ বছর বাজেটের টানাটানি যাচ্ছে, যে রকম বর্ননা দিয়েছে তাতে এ রকম করতে গেলে তার হাজার বছরের বাজেট ব্যায় করতে হবে। আশেকূল ঈমানকে নির্জনে ডেকে নিয়ে গিয়ে ইশ্বর বললেন, আচ্ছা তোমাকে যদি ফেরেশতাকূলের সর্দার করে দেওয়া হয় ক্যামোন হবে? তুমি যুবক মানুষ, তার উপর সব বিষয়ে পারদর্শি, এমন একজন নেতার প্রয়োজন আমার, তবে এর বিনিময়ে আমার সামান্য কাজ করে দিতে হবে। এই রিপোর্টটা আমাকে দিয়ে দিতে হবে, আর আমি যে রিপোর্ট দিবো তা সবাইকে দিতে হবে হবে আগামী কাল।
অবশ্য এই চৌকোনা বাস্কের রহস্যময় পুরুষকে চিনতে পেরেছেন ইশ্বর, তার অজানা কিছু নেই, তিনি বললেন ওতো আমাদের মহাবিভাজন, আমার এখানেই কাজ করতো, এক দিন কি য্যানো হলো, খুব মাথা ব্যাথা,বোধ হয় মস্টিষ্কবিকৃতি ঘটেছিলো তাই সোজা একটা গাছের কোটরে াকম সেরে ফেললো। সেই অভিযোগ দাখিল করেছিলো গাছেরা সম্মিলিত ভাবে, মহাবিভাজনের হাতে কেউই সুরক্ষিত নয়, প্রায়ই বিশেষাঙ্গ উত্থিত করে গাছের আশে পাশে উদ্দেশ্যমূলক ঘোরাফেরা করে।তার জন্য আতংকিত জীবন কাটাচ্ছে গাছেরা, তিনি নিজেও দেখেছেন এমন দৃশ্য, মহাবিভাজন, যে কি না এই উদ্যানের মালী ছিলো তাকে দেখা মাত্রই একটি সদ্যযুবতী ফুলন্ত গাছ আর্ত চিৎকার দিয়ে ফুল সব ছিটকে ফেলে ডালপালা দিয়ে নিজেকে আবৃত করলো।এর পর তাকে জান্নাত থেকে বহিস্কার করা হয়। মহাবিভাজন হাসি মুখে বের হয়ে গেলো। আপনার এখানের অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কাজে আসবে,এখন সে ওখানে বিশাল নিরোধের ব্যাবসা খুলেছে।
এ খবর পেয়েও তিনি কিছু বলেন নি, সৃষ্টির জীব নাখোশ হলেও তার ব্যার্থতা তাকে সঠিক যৌণবিজ্ঞান শেখানোর কোনো ব্যাবস্থা রাখা হয় নি এখানে। মহাবিভাজনের ঘটনার পরই এখানে বাধ্যতামূলক যৌন শিক্ষার কোর্স চালু করলেন তিনি, য্যানো সবাই বুঝতে পারে কোনটা ভোগ্য কোনটা অভোগ্য মানুষের।
আশেকূল ঈমান দ্্বিধায় সময় কাটাচ্ছে, এমন মিথ্যাচারের বিনিময়ে তার জান্নাতের ফেরেশতাকুলের নেতা হওয়ার হাতছানি আছে, রাজী হলে রাজত্ব লাভ, অবশ্য রিপোর্টের একটা অংশ চেপে গিয়েছে সে, এটা নিয়েও ভেতরে কাঁটা খচখচ করছে,
একজন প্রমোদবালা কে জিজ্ঞাসা করেছিলো সে-
সে বলেছে ও তোমাদের জান্নাতের পুরুষ, ওরাতো সব ঢ্যামনা নির্বিজ পুরুষ,হাজার বছর হাজার নারীর সাথে শুলেও তাদের কোনো সন্তান হবে না, ঐ যোগ্যতা নেই তাদের।
অতঃ এব এক দল নির্জিব মানুষের লজ্জা, ইশ্বরের প্রস্তাব এবং স্বর্গে গিয়ে মাথাব্যাথার ঔষধ বেচা, যার প্রস্তাব তাকে দেওয়া হয়েছে, কোনটা গ্রহন করবে, কোনটা প্রকাশ করবে এ নিয়ে নিদ্্রাহীন রাত কাটছে তার।
(উৎসর্গ হিমু ও গোধুলীকে)

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×