somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহবাগের চেতনা

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহবাগ আন্দোলনের কিছু পর্যবেক্ষণ লিখেছি, ব্যক্তিপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং এর স্থানিক সীমাবদ্ধতাটুকু মেনে নিয়ে নিজের ভাবনাগুলো একটা জায়গায় রেখে দেওয়ার ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়তা থেকে লেখা বক্তব্যে অনেকের অনেক ধরণের ভিন্নমত থাকবে, সেই ভিন্নমতকে মেনে নিয়েই নিজের পর্যবেক্ষণ লিখে রাখা উচিত। সাধারণ একজনের পর্যবেক্ষণ চুড়ান্ত সত্য না বরং ব্যক্তিগত আয়নায় প্রতিফলনমাত্র।

গত দুই সপ্তাহে প্রতিদিনই নিয়ম করে শাহবাগ যাই, সেখানে রাস্তায় হাঁটি, মানুষের মুখ দেখি, আশেপাশের মানুষের কথা শুনি, বুঝতে চেষ্টা করি আসলে কি ঘটছে এখানে।
গত পরশু দেখলাম সেই গণজোয়ারে ভাটার টান লেগেছে, এখনও কেন্দ্রে সে টান আঘাত করে নি কিন্তু পরিধির পুরুত্ব কমে যাচ্ছে প্রতিদিনই। গতকাল রাতে হেঁটে কেন্দ্রের যতটুকু কাছে যাওয়া যেতো আজ যাওয়া গেলো তার চেয়ে বেশী।কেউ কেউ বলছে আন্দোলনকে টেনে আরও লম্বা করবে তারা, তারা ঠিক কি বিবেচনায় এমনটা ভাবছে ...আমি জানি না, কিন্তু গরুর ল্যাজে জেট ইঞ্জিন বাঁধলেও গরু গাড়ী চাঁদে যায় না, সব কিছুর একটা অন্তর্গত সীমাবদ্ধতা আছে। এ আন্দোলন স্বতঃস্ফুর্ত একটা দাবীর বাইরে বিস্তৃত হয় নি এবং সে দাবীটা আইনী প্রতিকারের দাবী হওয়ায় সেটার বিল উত্থাপিত হওয়ার পরেই আসলে অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা ক্ষীন হয়ে যায়। তারপরও হুট করে চলে আসা শোভন না বিধায় কোনো না কোনো উপায়ে মাঠ ধরে থাকা।

এখন যদি এ আন্দোলনকে আরও কয়েকদিন বাড়াতে চাওয়া হয় তাহলে সেটা আওয়ামী লীগকে নিজস্ব কর্মী দিয়ে আগলে রাখতে হবে, সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এখান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আন্দোলন আওয়ামী লীগ নিজের কর্মীতে আগাতে চাইলে সেটা রাজনৈতিক বুমেরাং হয়ে আঘাত করবে আওয়ামী লীগকে, ফলে শাহবাগের অরাজনৈতিক চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ হবে, এমন কি এ আন্দোলনের যা কিছু অর্জন সবই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এই আন্দোলনের অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হলে আওয়ামী লীগ এ মুহূর্তে আন্দোলনের ফলে যে সাময়িক সুবিধা পাচ্ছে ভোটের রাজনীতিতে সেটা আর পাবে না ।

সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যে আস্থা স্থাপন করলে মেনে নিতে হবে সরকার গণজাগরণ মঞ্চ থেকে উত্থাপিত দাবীগুলো মেনে নিয়ে সেসব বাস্তবায়নে আন্তরিক কিন্তু নানা ধরণের প্রশাসনিক জটিলতা দেখিয়ে তারা টাল বাহানা করবে, অনেক ধরণের রাজনীতির হিসাব করবে তারা। শাহবাগ আন্দোলনের পালটা প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন কোনো ব্যানারে ইসলাম বিপন্ন, সরকার ধর্মবিদ্বেষী এবং সরকার ইসলাম ও মানুষের ঐসলামিক জীবনযাপনে হস্তক্ষেপ করছে অভিযোগ নিয়ে, কোরান সুন্নাহর বানী নিয়ে মাঠে নামবে। সেটা কিভাবে প্রতিহত করা হবে সে ভাবনাও ভাবতে হবে, শাহবাগে অবস্থান ধরে রাখলে আসলে সে ভাবনা ভাবা সম্ভব না।

শাহবাগ গণজাগরণ আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক হিসেবে এক ধরণের ধাক্কা হিসেবে এসেছে, তবে একই সাথে আওয়ামী লীগ উপলব্ধি করেছে তারা গণবিচ্ছিন্ন একটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে,

তাদের গুটিকয়েক মন্ত্রী এমপি, যার ভেতরে আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীও আছেন, এর বাইরে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধিরই কোনো গ্রহনযোগ্যতা নেই। তারা নিজেদের স্বনির্বাচিত কারাগারে জনবিচ্ছিন্নতার সাধনা করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বর্মাচ্ছদিত তারা রাস্তায় চলাফেরা করেন। জনবিদ্বেষ কিংবা জনগণের দুয়োধ্বনি যেনো শুনতে না হয় তারা চোখে ঠুলি কানে তুলো গুঁজে নিজের কাজে যান। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্ম মূলত এদের উপস্থিতি ও ক্ষমতাকে নাকোচ করে দিয়েছে। এই দ্রোহী তরুণদের তোয়াজ করতে হবে আবার একই সাথে আত্মবিশ্বাসহীন অবস্থায়ও একটা সাহসী চেহারাও তাকে ধরে রাখতে সুতরাং ইদানিং তিনি তারুণ্যের জয়গান গাচ্ছেন, জিকির করছেন শাহবাগ শাহবাগ, তিনি গতকাল ওসমানী মিলনায়তনে দেওয়া ভাষণে বললেন তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে

যখন হাক্কানী পাবলিসার্সকে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র পুনরায় প্রকাশের দায়িত্ব দেওয়া হলো সে সময়ে মুক্তিযুদ্ধের দলিল পত্র বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটে তুলে দেওয়ার কিংবা আরও সাশ্রয়ী মূল্যে সবার জন্যে উন্মুক্ত করে দিতে বাংলা একাডেমীকে প্রকাশনার দায়িত্ব দিতে অনুরোধ করেছিলাম। ডিজিটাল বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হলে স্বাধীনতার দলিলপত্র ডিজিটাল সংরক্ষণের প্রকল্প উদ্বোধন করতেই হবে। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের সব গবেষকদের বেতন ভাতা, ছাপার খরচ দিয়েছে জনগণ, অথচ নিজের দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে জনগণের অধিকার নেই, ইতিহাস জানতে পারার সামর্থ্য তার নেই। যদি মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র তারা অন লাইনে আপ করতো তাহলে অনেক ধরণের বিভ্রান্তির হাত থেকে বাঁচা যেতো।

গতকাল দ্যা অবজারভারে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে,

সুলিখিত এই নিবন্ধে চমৎকার একটা প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে, বলা হয়েছে শাহবাগের তরুণ যোদ্ধারা বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারে উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক অগ্রসর। তারা সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের নামে ধর্মীয় উগ্রবাদিতা, চরমপন্থার রাজনীতিকে অস্বীকার করেছে।

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মতবাদের সহাবস্থান মেনে নিয়েও র‍্যাডিক্যাল ইসলামিস্টদের প্রতিরোধের ডাক দিচ্ছে শাহবাগের মঞ্চ। কিন্তু একই সাথে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো সেখানেই বলা হয়েছে
The murder of Hindus and Christians, the flight of refugees and the chance to weaken Pakistan pushed Indira Gandhi into one of the finest actions of her murky career. She sent the Indian army to liberate the tortured land.

বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিছকই ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ সেখানে ভারত ত্রাতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলো, সেই যুদ্ধ করে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত করেছে আমাদের।

কথাটা একেবারেই মিথ্যা, প্রাথমিক প্রতিরোধ থেকে শুরু করে চুড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত তীব্র প্রতিরোধ করেছিলো বাঙালী সাধারণ মানুষ। আমাদের ইতিহাসবিদগণ স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্কে যতটা মনোযোগী ছিলেন, বাঙালী না বাংলাদেশী বিতর্কে যেভাবে দিবারাত্রি চিৎকার করেছেন তার কিয়দংশ যদি তারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং এর নেপথ্যে সাধারণ বাঙালী জনগণের অবদান প্রসঙ্গে ব্যয় করতেন তাহলে বারংবার পাক-ভারত যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে অপপ্রচারটা আমাদের শুনতে হতো না।

ঢাকা শহরে প্রতিরোধ গড়ে তোলা মানুষেরাই ঢাকা এবং আশেপাশের মানচিত্রে সাম্ভাব্য আক্রমণের পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, তারাই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা করেছে এমন কি ভারত ৩রা ডিসেম্বর যখন যুদ্ধের ঘোষণা দিলো তার আগেই দেশের অন্তত এক তৃতীয়াংশ অঞ্চল নিজেদের ক্ষমতায় স্বাধীন করে ফেলেছিলো এই মুক্তিযোদ্ধারা।

বিজয় হয়তো সামান্য দীর্ঘায়িত হতো কিন্তু চুড়ান্ত বিজয় হতো মুক্তিযোদ্ধাদের। ভারত আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে এ সত্য অস্বীকার করছি না, কিন্তু তারাই আমাদের স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছে এ মিথ্যাচারের প্রতিবাদ আমি করি।
এটা যে আকস্মিক কোনো প্রচারণা এমন না বরং ১৯৭২ সালে কিংবা ১৯৭৩ সালেও এমন প্রচারণা হয়েছে, সে সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা স্পষ্ট জানিয়েছেন তারা নিজেরাই এ দেশকে মুক্ত করতে পারতেন।
নতুন প্রজন্ম অনেক কিছুই করেছে, এবার আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কলংকমুক্ত করার লড়াইটাও আমাদের করতে হবে। আমাদের আন্তর্জাতিক মহলকে প্রমাণসহ জানিয়ে দিতে হবে আমরা আমাদের মুক্তির লড়াইটা নিজেরাই সমাপ্ত করতে পারতাম। আমাদের যে ক্ষমতা ও সামর্থ্য ছিলো। আমরা আমাদের পরিকল্পিত আক্রমণ এবং তীব্র দেশপ্রেম দিয়ে অক্টোবরেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে তাদের ক্যাম্পের ভেতরে বন্দী করে ফেলেছিলাম, এ সময়ে তারা সংঘবদ্ধ নির্মমতা চালালেও সেটা আমাদের প্রতিরোধক আরও বলিষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ভারত পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আর তাদের সহযোগীদের এক ধরণের নিরাপত্তাই দিয়েছে, তারা না থাকলে আমরা তাদের ক্যাম্পে পিষে মেরে ফেলতাম, ভারতীয় সেনাবাহিনী না আসলে আমাদের লোকক্ষয় হতো নিশ্চিতই কিন্তু একটা পাকিস্তানী সৈন্য এবং তাদের সহযোগীরা জীবিত ফিরে যেতে পারতো না লড়াইয়ের ময়দান থেকে।

তা সম্ভব হয় নি। আমরা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের উপরে ঘটে যাওয়া নির্মম অত্যাচারের আইনী প্রতিকার করতে পারি নি, গত ২ সপ্তাহ ধরে আজকের তরুণেরা সেই প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবীতে আন্দোলন করছে।

চলমান এই আন্দোলন তার প্রথম পর্যায় শেষ করেছে কিন্তু এটা সূচনামাত্র, প্রতিরোধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ জ্বেলেছে তারুণ্যের গণজাগরণ তবে সমাপ্তি এখানে হবে না। প্রতিটি প্রজন্ম নিজের দ্রোহে সমাজকে একটা নির্দিষ্ট কক্ষপথে নিয়ে যেতে চায়, ১৯৫২ সালে ভাষা এবং সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার লড়াই শুরু করা প্রজন্ম সে লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় স্বাধীকার আন্দোলনে জড়িয়েছে, সে সময়ে তাদের ভেতরে স্বাধীনতার দাবী স্ফুরিত হয় নি কিন্তু এরাই ১৯৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের ন্যয়বিচারের দাবীটা ১৯৯২ এর আন্দোলনের ধারাবাহিকতামাত্র কিন্তু এই প্রজন্ম আরও কিছু অর্জন করবে ভবিষ্যতে। আমরা ধর্মীয় বৈষম্যহীন, মানবিক যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম ১৯৭১ এ যুদ্ধাপরাধের পাপ মুছে এখন সে রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে।

১৯৭১ এর চেতনা এখন নিছক রাজনৈতিক বুলি না, বরং এই প্রজন্ম সে চেতনার আলোয় আলোকিত। স্বাধীনতার ৪২ বছরে অনেক ধরণের আবর্জনা জমেছে আমাদের মননে, সামষ্টিক ভাবে সে আবর্জনা পরিস্কার করে নতুন পথে যাত্রা শুরুর সময় এখন। কারো অবদানই ন্যুন নয় বরং সকলে মিলে আমরা একটা দ্রোহের স্বর, সকলে মিলে আমরা একটা প্রতিরোধের দেয়াল।

দেশের প্রতিটি অঞ্চলে, প্রতিটি জেলায়-উপজেলায় তরুণেরা একটা দাবীতে একাট্টা হয়েছে, তারা অন্যায়কে অন্যায় বলতে শিখেছে, আমাদের অপরাজনীতির সংস্কৃতিতে অপরাধের ভয়াবহতার তুলনায় অপরাধকারীর রাজনৈতিক চরিত্র গুরুত্ব পেয়েছে বেশী। অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় অন্যায় আর অপরাধের জঞ্জাল বেড়েছে কিন্তু অপরাধকে অপরাধ হিসেবে স্পষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া এই প্রজন্ম অপরাধ অন্যায়ের প্রতিকার করতে পারবে।
তারা নিজের হাতে আইন তুলে নেয় নি, তাদের আইনমান্যতাকে শ্রদ্ধা জানাই। তাদের শৃঙ্খলাবোধ এবং অপরাপর মানুষের প্রতি তাদের ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধকে অভিনন্দন জানাই। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে জমায়েত হওয়া মানুষগুলোর ভেতরে কোনো লৈঙ্গিক আগ্রাসন ঘটে নি। নারী হিসেবে কোনো শাররীক আগ্রাসনের কিংবা নিপীড়নের শিকার হন নি কেউই, তরুণের এই বোধটুকু আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে।
আমাদের সমাজে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কিংবা তার স্বাধীন অস্তিত্বের স্বীকৃতি আছে প্রমাণ করেছে তরুণ সমাজ। আমরা এখন জানি যেইসব যৌনকাতর পশুরা রাস্তায় নারী নিগ্রহ করে তারা এই তারুণ্যের কেউ না।

আমাদের বোরখা হিজাব তাবিজ দিয়ে নারীকে ঘরে বন্দী করে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে না, নারীকে তার ভিন্নতাস্বত্ত্বেও নিজেদের আন্দোলনে গ্রহন করতে পারে এই তরুণেরা। তাদের প্রতি কোনো অশোভন যৌনকাতরতা নেই এদের। প্রেয়সীর প্রতি প্রেম, দেশের প্রতি ভালোবাসা আপ্লুত এই প্রজন্ম আমাদের সামনের পথপরিক্রমায় আমাদের নতুন একটা সম্মানের আসনে নিয়ে যাবে।

মনে রাখতে হবে আমরা শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে আন্দোলন করছি না বরং একই সাথে যুদ্ধাপরাধী সংগঠনগুলোর রাজনীতির অধিকার নিষিদ্ধের দাবীতে আন্দোলন করছি। সরকারের বিবেচনা এবং গত ৩৫ বছরে পরিপুষ্ট যুদ্ধাপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাঙ্গগঠনিক বিস্তৃতি সবই হিসেবে নিতে হবে। যুদ্ধাপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করলেই হবে না বরং যে সামাজিক পরিস্থিতিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বিকশিত ও পরিপুষ্ট হওয়ার সুযোগ পায় সেই সামাজিক পরিস্থিতিকে বদলে দিতে হবে। এটা সূচনা কিন্তু এটাকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে অসাম্প্রদায়িক মানবিক অনুভুতি ও চেতনা তৈরির দুরহ কাজটা আমাদের করতে হবে। যে যার জায়গায় থেকে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া জরুরী।


আমাদের শাহবাগ চেতনা এটাই। শাহবাগ চেতনার জয় হোক।



৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- (চৌত্রিশ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:০১


ছবিঃ আমার তোলা।

গতকাল রাতের কথা-
সুরভি আর ফারাজা গভীর ঘুমে। রাতের শেষ সিগারেট খাওয়ার জন্য চুপি চুপি ব্যলকনিতে গিয়েছি। দিয়াশলাই খুঁজে পাচ্ছি না। খুবই রাগ লাগছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় জীবন.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৫:৫৮

প্রিয় জীবন......

জীবন তোমা‌কে কষ্ট দিতে চাইলে তু‌মিও জীবনকে দেখিয়ে দাও- তু‌মি কতটা কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা রাখ। তু‌মি হয়তো এখন জীবনের অনেক খারাপ একটা সময় পার করছ অথবা অনেক আনন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় নাগরিক সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী! ক্ষমতাশীনদের বিশেষ সম্প্রদায় তোষণের একটি উদাহরণ!

লিখেছেন দেশ প্রেমিক বাঙালী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৬

যিনি বাংলাদেশে অবস্থান করে ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করবেন তিনি নিঃশ্চয় বাংলাদেশী না তিনি ভারতীয় একথা সকলেই একবাক্যে মেনে নিবেন। কিন্তু কি করে একজন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশী হিসেবে বহাল তবিয়তে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM ব্যবহার করার রহস্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৪২

ছবি, Click This Link হতে সংগৃহীত।

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM ব্যবহার করার রহস্য

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM কেন ব্যবহার করা হয়, এর কারণটা জেনে রাখা ভালো। আমমরা অনেকেই বিষয়টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাছ-গাছালি; লতা-পাতা - ০৭

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫০

প্রকৃতির প্রতি আলাদা একটা টান রয়েছে আমার। ভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় বেড়াতে গিয়ে নানান হাবিজাবি ছবি আমি তুলি। তাদের মধ্যে থেকে ৫টি গাছ-গাছালি লতা-পাতার ছবি রইলো এখানে।


পানের বরজ


অন্যান্য ও আঞ্চলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×