somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পের খসরা

০২ রা মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খামরুজ্জামান লোকটার উচ্চতা কত হবে, বড়জোড় 5 ফুট 7, গায়ের রং দাবা, ঠিক কালো বলা যাবে না, তবে শ্যামলায় কয়েক পোঁচ ময়লা লাগালে যেমন হবে তেমন গায়ের রং, গালে কাঁচাপাকা দাড়ি, সুন্দর করে ছেটে রাখা, চর্চিত দাড়ি, মাথায় বাহারি কিস্তি টুপি, চোখে সুরমা, কানের লতিতে আতর ছুইয়ে মিহি গলায় ডাকলেন, সুরাইয়া, বিবিজান ,সুরাইয়া, আপনি একটু অন্দরে আসেন,
সুরাইয়া, তার 3য় পক্ষ, পর্দা সরিয়ে অন্দরে আসেন, পড়নে সিল্কের শাড়ী, বয়েস 30 এর কোঠায়, গায়ের রং শ্যামলা, চোখের নীচে সামান্য কালিমা চেহারার মোহনীয়তা বাড়িয়েছে কয়েকগুন, বলেন চৌধুরি সাহেব, কি জন্য ডাকলেন?
আজ জুম্মা বার, বেলা বাজে 12টা , কাওয়ালি কোথায়?
কাওয়ালি তার প্রথম পক্ষের 3য় সন্তান, বয়েস 21, আদব ঝোজ শিখিয়েছেন, বড়দের সামনে নম্রস্বরে কথা বলে, তবে একটু কেমন যেনো অন্তর্মুখী। সারাক্ষন নিজের ঘরে বসে থাকে, বিকেলে খেলতে যায় না, তার আদতে কোনো বন্ধু নেই বোধ হয়,
আচ্ছা ডেকে দিচ্ছি বলে চলে যান সুরাইয়া বেগম।

অম্বরি বেগম, মনে পড়ে খমরুজ্জামানের কাশীনাথ গ্রামের খাঁ বাড়ীর কন্যা, মাদ্্রাসা শেষ করে তিনি কাশীনাথ গ্রামের পাশের রায়েরগঞ্জে গিয়েছিলেন আলেম ই মুলুক কলিমুল্লাহ নিয়াজির শিষ্যত্ব বরন করতে, খাঁ সাহেব ছিলেন তার বন্ধুস্থানিয়, সেখানেই রাত্রিযাপন, ভোরে মোশওয়াক করতে করতে খিড়কির পেছনের পুকুরে দাড়িয়েছিলেন, তখন শীত পড়তে শুরু করেছে, দেখলেম ভেজা শাড়ী পড়ে উঠে আসছে একজন, তিনি হা করে তাকিয়ে দেখেন, ভেতর মহলে একটা গোলমাল হয়ে যায়, মোশাওয়াক ছেড়ে তিনি কোনো এক অজানা আকর্ষনে পুরুক ঘাটে যান,
অম্বরি বেগমের চিৎকারে বাসার সব লোক ছুটে আসে, খাঁ সাহেব রুষ্ট হন ভীষন তবে কলিমুল্লাহ সাহেবের শিষ্যকে প্রচলিত শাস্তি দেওয়া মানে বন্ধুত্বের অবমাননা, আর এছাড়াও গ্রামের 10 জন জানে কি হয়েছে, মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সমস্যা হবে, তাই তিনি সকালেই ছুটে যান রায়েরগঞ্জ, দুপুরের মধ্যে বিয়ে, সন্ধ্যায় তাদের বিদায় দিয়ে খাঁ সাহেব ঘরে ফিরে আসেন, রায়ের গঞ্জ থেকে ট্রেনে চেপে তিনি নামেন শমসের নগর, সেখান থেকে শ্যামপুর ঘাট, ওখান থেকে শরিয়তপুর, সেখানে এক মাদ্্রাসায় মাস্টারি জুটে যায়, অম্বরি বেগম কখনই মেনে নিতে পারেন নি বিয়েটা , তবে পতিব্রতা স্ত্র ীর মতো তিনি সারা জীবন সেবা করে গেছেন স্বামির।
ক্রমে ক্রমে খমরুজ্জামানের বিত্ত বাড়ে, খাঁ সাহেব মারা যাওয়ার পর তার একমাত্র উত্তারাধিকারিনী হিসেবে অম্বরি বেগম পেয়েছিলেন বিপূল পৈতৃক সম্পত্তি, সেই জোরে খমরুজ্জামান সমাজে মান্য গন্য একজন হয়ে উঠেন, এরশাদের উপজেলা ঘোষনার পর তার রাজনীতিতে আগমন, সেখান থেকে ক্ষমতার সিড়িঁ বেয়ে শরিয়ত পুরের চেয়ারম্যান হলেন, এর মধ্যে প্রথম বিবি গত হয়েছেন, প্রথম পক্ষের 3 ছেলে মেয়ে, আমিরূল জাহান, শরিফুন্নেছা, আর গোলাম কাদের কাওয়ালি, তিনি হাদিসে পড়েছেন ছোটোদের সহবত শেখাতে হবে, আদর্শ মানুষ করে তুলতে হবে,
এর পর এ দের দেখাশোনার জন্য তিনি 2য় বিয়ে করেন, মাগি বড় ছেনাল ছিলো, খালি পর পুরুষের দিকে নজর, পর্দা করতে চাইতো না, আর কথায় কথায় বাপের বাড়ী যেতো, তাকে তালাক দিয়ে 2 বছর হলো তিনি সুরাইয়াকে ঘরে তুলেছেন,
সুরাইয়া পীর জাদা বদরউদ্দিনের মেয়ে,
শরিফুন্নেছার বিয়ে দিয়েছিলেন অল্প বয়েসে, বালেগ হওয়ার পর পর, পোয়াতি মেয়েটা বিয়োতে গিয়ে মরে গেলো। আমিরুল জাহান বাবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এখন ঢাকায় থাকে, সেখানে সে কি করে বাসার কেউ জানে না,
মসজিদে যান খমরুজ্জামান সাহেব, তাকে সসম্মানে সামনের কাতারে যেতে দেয় মুসুল্লিরা, তিনি কাওয়ালিকে নিয়ে খোৎবা শুনেন,
বিশ্বের মুসলিম বেরাদানেরা আজ নাসারাদের চক্রান্তের শিকার, সব খানে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে জেগে উঠেন, কোথায় গেলো আলির জুলফিকার, কেউ কি নেই, কাওয়ালি খোৎবা শুনতে শুনতে উত্তেজিত হয়ে যায়, তার উত্থান হয়, পরনে সফেদ পাঞ্জাবি, সুতির পায়জামা, সেই উত্থান চেপে রাখা সম্ভব হয় না পাতলা কাপড়ে, তার পায়জামার জোড়া লক্ষনীয় ভাবে ফুলে উঠে,
উত্থিত তিন পায়ে কাওয়ালি নামাজে দাড়ায়।


কাওয়ালি ঘরের দরজা বন্ধ করে মাসিক মদিনা পাঠ করে নিবিষ্ট মনে, তার ঘরে আসবাব কম, একটা খাট, পড়ার টেবিল, চেয়ার, বস্তুত সমস্ত বাড়ীর সাথে এ ঘরের যোগাযোগ সবচেয়ে কম, এখানে নিরিবিলিতে তার ঐসলামিক চেতনা শানিয়ে উঠে, সে একমনে নিবন্ধ লিখে,
আজকালকার মুসলমান উম্মাহর যীষন দুর্দিন, তারা পথভ্রান্ত, কোরান হাদিসের শিক্ষা মেনে নিতে চায় না, বাহাস করে, উপহাস করে , দেশের মেয়েরা পর্দা করে না, এটাই দেশের যুবসমাজের অধপতনে যাওয়ার কারন, এর প্রতিকার কি হতে পারে এ বিষয়ে 101টা তরিকা বাতলায়, কিভাবে নবীজির সুন্নত আর ইসলামি খেলাফত আনা যাবে এ নিয়ে তার বিভিন্ন পরামর্শ ছাপা হয় মদিনায় চিঠিপত্র বিভাগে,
মাদিনার সম্পাদক তাকে বিশেষ স্নেহ করেন, তার সাথে নিয়মিত পত্রালাপ হয় কাওয়ালির। তিনি কাওয়ালিকে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ করতে বলেন, কাওয়ালির ইসলাম জ্ঞান ক্রমশ চুড়ায় উঠে যায়,
দেশে কোরানের শাসন চাই, এই সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে একমাত্র হাতিয়ার হবে কোরানের আলো,
মাঝে মাঝে ঘরের নিরালায় মুষ্টিবদ্ধ হাতে শ্লোগান দেয় কাওয়ালি, এবং বয়েসের কারনে সময়ে অসময়ে উত্তেজিত হয়, এবং মুষ্টিবদ্ধ হাতে সেই উত্তেজনার উপশম করে,
তার প্রথম চিঠিটা ছিলো 14 বছর বয়েসে লেখা, হঠাৎ একদইন রাতে সে স্বপ্নে দেখে নাজিয়া তার ঘরে এসেছে, এই ঘরে এমন নির্জনে নাজিয়াকে দেখে তার গলা শুকিয়ে যায়, তারপর কিভাবে যেনো নাজিয়া হাত রাখে তার শরীরে, এরপর কোনো এখ অজানা উত্তেজনায় কেঁপে উঠে , শরীর কুকড়ে যায়, এবং ঘুম ভেঙ্গে লক্ষ্য করে তার লুঙ্গির মাঝে বেশ একটা বড় জায়গা ভেজা, কাউকে বলা যায় না এই লজ্জার কথা, তার কি কোনো গোপন অসুখ হলো, ম্রিয়মান হয়ে যায়, এবং আরও বেশি উপাসনারত, তবুও মাঝে মাঝেই এ ঘটনার পুনারাবৃত্তি ঘটে, তার এই বিষন্নতায়বিচলিত হন খমরুজ্জামান, ছেলের সাথে খোলাখুলি আলোচনা বাধে, ছেলে বড় হচ্ছে, এখন শরীরের নানারকম পরিবর্তন হবে, কিন্তু এ নিয়ে কথা বলবেন কিভাবে , তিনি সল্প কথায় বুঝিয়ে বলেন, এটা স্বাভাবিক একটা বিষয়, শরীরের পরিবর্তন হবে, তবে ওসব নাযায়েজ কাজ করার দরকার নেই, একবার করলে একটা চড়াই পাখির সমান রক্ত চলে যায়।
কাওয়ালি হতভম্ব দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুনো এবং কোনো কিছুই অনুধাবন করতে পারে না, অবশেষে মোকছেদুল মোমেনিন পড়ে তার জ্ঞানদৃষ্টি খুলে যায়, আহা কি সুন্দর করেই না বলা আছে সেখানে এ পরিবর্তনের কথা, নবীজি ফরজ গোসল করতে বলেছেন, তাই এখনও মাসে 6 /7 বার তাকে ফরজ গোসল করতেই হয়,

শনিবার রাত ঃ
আধুনিক যুবকেরা কেন ইসলামবিদ্্বেষি এ নিয়ে একটা নিবন্ধ লিখছিলো, তাদের বেশবাস, সহবত , ইসলাম উপেক্ষার ক্ষতইকর দিকগুলো কলমের শানিত ধারে কেটে কেটে তখন আগুনের হলকায় পুড়ছে শরীর,

কোনার ঘর থেকে বাহির হওয়ার সময় সে খমরুজ্জামানের মুখোমুখি পড়ে যায়, সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকেন খমরুজ্জামান, কি ব্যাপার সালেহার ঘরের দরজা থেকে বের হলে তুমি?
হতবুদ্ধি কাওয়ালি কোনো কথা না পেয়ে বলে উঠে আব্বাজান আপনি এত রাতে,
খমরুজ্জামান বুঝেন সবই, আপন অধিকারভুক্ত দাসীতে উপগত হওয়া কোরানসিদ্ধ, তবে বাবার উপগত হওয়া মেয়মানুষ হারাম, কাওয়ালি হারাম কাজ করেছে ভেবে শিউরে উঠে,
কিন্তু একসময়তো বাবার অধিকারভুক্ত দাসি তারও অধিকারভুক্ত হবে, তবে কে দোষি, কে হারাম কাজ করছে?
খমরুজ্জামান সাহেব চর্চিত দাড়িতে আঙ্গুল দিয়ে বিলি কেটে প্রশ্ন করেন তুমি কি কনডম ব্যাবহার করেছিলে?
কাওয়ালি তাকিয়ে থাকে, উত্তরবিহীন, মাথা উপরনীচে করে,
তাহলে সমস্যা নেই, সরাসরি স্পর্শ লাগে নি, তাই তুমি আসলে উপগত হও নি সালেহার উপর।
বলে সালেহার দরজা খুলে ঢুকে যান খমরুজ্জামান।
আসলেই কি এটা সত্য? এ প্রশ্নের সামনে দাড়িয়ে থাকে কাওয়ালি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×