আবুল হাসানের কবিতা।
আবুল হাসান
----------
সে এক পাথর আছে কেবলি লাবন্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আদ্্র, মায়াবি করুন
এটা সেই পাথরের নাম নাকি? এটা তাই?
এটা কি পাথর নাকি কোনো নদী? উপগ্রহ? কোনো রাজা?
পৃথিবীর তিনভাগ জলের সমান কারো কান্না ভেজা চোখ?
মহাকাশের ছড়ানো ছয়টি তারা? তীব্র তীক্ষণ তমোহর
কী অর্থবহন করে এই সব মিলিত অক্ষর?
আমি বহুদিন একা একা প্রশ্ন করে দেখেছি নিজেকে,
যারা খুব হৃদয়ের কাছা কাছি থাকে থাকে, যারা এঘরে ওঘরে যায়
সময়ের সাহসী সন্তান যারা সভ্যতার সুন্দর প্রহরী
তারা কেউ কেউ বলেছে আমাকে -
এটা তোর জন্মদাতা জনকের জীবনের রূগ্ন রূপান্তর,
একটি নামের মধ্যে নিজেরি বিস্তার ধরে রাখা,
তুই যার অনিচ্ছুক দাস!
হয়তো যুদ্ধের নাম, জ্যোৎস্নায় দুরন্ত চাঁদে ছুঁয়ে যাওয়া,
নীল দীর্ঘশ্বাস কোনো মানুষের !
সত্যিই কি মানুষের?
তবে কি সে মানুষের সাথে সম্পর্কিত ছিল, কোনো দিন
ভালোবেসেছিলো সেও যুবতীর বামহাতে পাঁচটি আঙ্গুল?
ভালোবেসেছিলো ফুল। মোমবাতি, শিরস্ত্রাণ, আলোর ইশকুল?
রূপসনাতন
------------
এসেছিস তো কী হয়েছে? কিছুই হয়নি, দ্যাখ্
ঐতো আচ্ছন্ন ঘাস, ধানী জমি, ঐতো কোমল নৌকো,ধরিত্রী আকাশ!
এসেছিস তো কী হয়েছে? কিছুই হয়নি ড্যাখ্
ঐতো ডাকছে পাখি, জ্বলছে যৌবন, চাঁদ, ঐতো জোনাকী!
যাবি তো কাঁদিস কেন? কিছুই কান্নার নেই শোন্
শরীরে নকশী কাঁথা,মাটির কলস রইলো ফুলদানি কয়েকতি কলম!
যাবি তো থামিস কেন? কোথাওথামার নেই আর
ঐতো নৌকো যায়, মাটির কলস যায়, ফুলদানি যায়!
অসভ্য দর্শন
-----------
দালান উঠছে তাও রাজনীতি, দালান ভাঙছে তাও রাজনীতি,
দেবদারূ কেটে নিচ্ছে নরোম কুঠার তাও রাজনীতি,
গোলাপ ফুটছে তাও রাজনীতি, গোলাপ ঝড়ছে তাও রাজনীতি!
মানুষ জন্মাচ্ছে তাও রাজনীতি, মানুষ মরছে তাও রাজনীতি!
বোন তার বেনী খুলছে, যৌবনের অসহায় রোদে মুখ নত করে
বুকের ভ্রমর হাতে রাখছে লুকিয়ে - তাও রাজনীতি
তরূনেরা অধঃপাতে যাচ্ছে তাও রাজনীতি পুনরায়
মারামারি যুদ্ধ আর অত্যাচার, হত্যার আগ্রাসী খুন মানুষের
ছড়ানো বীর্যের ব্যাথ্যা, বিষন্ন মিথুন
মহিলার রক্তের ভিতরে ভ্রুন, সমস্যার ছদ্মবেশে আবার আগুন উর্বর হচ্ছে, রাজনীতি তাও রাজনীতি!
আমি পকেটে দুর্ভিক্ষ নিয়ে একা একা অভাবের রাস্তায় ঘুরছি
জীবনের অস্তিত্বে ক্ষুধায় মরছি রাজনীতি, তাও রাজনীতি আর
বেদনার বিষবাস্পে জর্জরিত এখন সবার চতুর্দিক খাঁ খাঁ , খল,
তীব্র এল বেদেনীর সাপ খেলা দেখছি আমি; রাজনীতি তাও কি রাজনীতি?
নিঃসঙ্গতা
-------
অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত শোভা, অত স্বাধীনতা!
চেয়েছিলো আরো কিছু কম,
আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে
বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিলো
মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক!
অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত হৈ রৈ লোক, অত ভীড়, অত সমাগম!
চেয়েছিলো আরো কিছু কম!
একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষঞা এখনি, চেয়েছিলো
একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী!
সম্পর্ক
------
তুমি নও তোমার ভিতরে এক অটল দ্্রাক্ষার
আসন্ন মধুর মদ, মাতোয়ারা বানায় আমাকে!
গেলাসে গেলাসে দিন-ঝড়ে পড়ি ঝর্নার আয়োজনে।
তোমাকে চিনিনা আমি, বহমান তোমার দেহকে
দীঘল তরুর মতো বুনে দিয়ে তবু তার তিমিরছায়ায়
তোমার খোঁপার মতো তুলে আনি কিছু কালো ফুল!
বাজারে বিকোবো? না হে, এখন বাজারে এই শোক
কেনার পুরুষ নেই- ওরা েকনে অন্য সব স্মৃতি ঃ
এখন প্রেমিক নেই, যারা আছে তারা সব পশুর আকৃতি!
হরিণ
তুমি পর্বতের পাশের ব'সে আছোঃ
তোমাকে পর্বত থেকে আরো যেনো উঁচু মনে হয়,
তুমি মেঘে উড়ে যাও, তোমাকে উড়িয়ে
দ্্রুত বাতাস বইতে থাকে লোকালয়ে,
তুমি স্তনের কাছে কোমল হরিণ পোষো,
সে-হরিণ একটি হৃদয়।
প্রেমিকের প্রতিদ্্বন্দ্ব ী
--------------------
'অতবড় চোখ নিয়ে,অতবড় খোঁপা নিয়ে
অতবড় দীর্ঘশ্বাস বুকের নিশ্বাস নিয়ে
যত তুমি মেলে দাও কোমরের কোমল সারস
যত তুমি খুলে দাও ঘরের পাহারা
যত আনো ও-আঙ্গুলে অবৈধ ইশারা
যত না আগাও তুমি ফুলের সুরভি
আঁচলে আলগা করো কোমলতা, অন্ধকার
মাটি থকে মৌনতার ময়ুর নাচাও কোনো
আমি ফিরবো না আর, আমি কোনোদিন
কারো প্রেমিক হবোনা; প্রেমিকের প্রতিদ্্বন্দ্ব ী চাই আজ
আমি সব প্রেমিকের প্রতিদ্্বন্দ্ব ী হবো'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



