বিচ্ছেদ
------
আগুনে লাফিয়ে পড়ো, বিষ খাও, মরো
না হলে নিজের কাছে ভুলে যাও
এত কষ্ট সহ্য করো না।
সে তোমার কতদুর? কী এমন? কে?
নিজের কষ্টকে আর কষ্ট দিও না,
আগুনে লাফিয়ে পড়ো, বিষ খাও, মরো,
না হলে নিজের কাছে নত হও, নষ্ট হয়ো না!
টু্যরিজম
-------
রুখ-শ্যাম দিনাজপুরে কক্সবাজার জুড়ে
ট্রাইবাল এরিয়া ঘুরে বেড়ালে সেখানে
হাড় বজ্জাতের মতো সাঁওতাল কুমারীর সাথে
মিলেমিশে খেলে দেশী মদ,
ভাতপচা রসের হাড়িয়া খেলে,
মোরগ লড়াই দেখে দিনকাল ভালো গেলো।
ট্রেনে চড়লে, দেখলে কড়া সোনালি চুলের মাল
ইস্টিশনে সাধু বাবাদের সাথে বসে বসে
গাঁজা খেলে যত ইচ্ছা ওয়েটিং রুমের কাছে খুঁজলে রুমাল,
শহরের কাছে এক সুন্দরীর ঘরে গেলে
সুন্দরীর মাংস মজ্জা খেলে
সুন্দরীর হাত দিয়ে বানালে চিরুণী তুমি
সারা রাত শুয়ে শুয়ে চুল আচড়ালে।
খতিয়ান
------
চোখের আঙ্গিনায় নামে আয়েশী ঘুম;
স্বপ্নের মোহময়ী কারুকাজ
রঙীন ফাৎনায় নাড়ে শেফালীর ঝোঁপ।
জ্যোৎস্নায় বৃষ্টিতে ভিজে
বার বার ফিরে আসে মায়াবী শৈশব,
সারা ঘর জুড়ে বৌদির নড়াচড়া
নাচের মুদ্্রার মতও
কেবলই ইশারায় নাড়ায় সংসার।
অবজ্ঞায় ফেলে আসা আপন অতীত
আভূমি নূয়ে আছে সরল বিশ্বাসে,
কার কাছে পাওনা কতটুকু
বুঝে নেবে টাকায় আনায়।
যদি কথা দাও
----------
যদি কথা দাও তবে ফিরে আসি
তবে আর বিষপান কোরে আমিতাহলে মরি না!
আমি ফের লাগাই তাহলে গৃহে
সারি সারি সচ্চরিত্র ফলফলাদির গাছ;
ধেনো বাতাসের গন্ধে আমোদিত বৃষ্টির বিকেলে একা
ধান ক্ষেত, বাতাবি নেবুর ঝাড় উৎসবের...
যদি কথা দাও, আমি
ধান ক্ষেতে ফিরে যাই, লোকালয়ে
বিষপান করে আমি তাহলে মরি না।
এখনো ঘাতক বলে ডাক দিলে
বুকে টনটন ব্যাথ্যা, নূয়ে পড়ে
ভিতরে মানুষ দ্যাখো
এখনো ফুলের দিকে মনোযোগ, সূর্য ওঠার আগে
নদীতে স্নানের অর্থ মনমেজাজ ভালো থাকা বুঝি;
বৃষ্টিতে ভেজার পরে এখনো নিরীহ হই, ভীষণ কাতর!
বৃক্ষের মতোন সি্নগ্ধ চুপ করে থাকা ব্রত
পর-উপকার দ্যাখো আমিও শিখেছি!
যদি কথা দাও তবে ফিরে আসি লোকালয়ে
বিষপান করে আমি তাহলে মরি না,
সোনালী পাহাড়ে এক অনাদিকালের সূর্য ফিরে যাচ্ছে
গৃহস্থের মলিন ইঁদুর,
আমি তও ভুলি নি তবু রণহিংসা, রক্তপাত, বাজারে শঠতা!
যদি কথা দাও তবে ফিরে আসি, লোকালয়ে
বিষপান করে আমি তাহলে মরি না!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



