somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জলের অংক

২৪ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি চৌবাচ্চায় 3 টা নল। একটা দিয়ে চৌবাচ্চা ভর্তি হয় 20 মিনিটে অন্য 1টা খুলে দিলে চৌবাচ্চা খালি হয় 40 মিনিটে এবং 3য়টা খুললে চৌবাচ্চা খালি হয় 60 মিনিটে। এখন কোনো এক বেকুবের বাচ্চা 3টাই খুলে রেখে গেছে, তুমি বের করো চৌবাচ্চা ভর্তি হবে কতক্ষনে? আদৌ কি ভর্তি হবে?

এই বেহুদা সমীকরণ মেলাতে গিয়ে শৈশবে প্রচুর ধোলাই খেয়ছে। এট ঝামেলার কোনো দরকার ছিলো না, আর চৌবাচ্চা না থাকায় তেমন ধারনা ছিলো না আসলে জিনিষটা কি? এখন গা গরম করা ছবি দেখে এবং ছবিতে নায়িকার বিলাসি সীমিত জলে জলকেলি দেখে সম্যক ধারনা হয়েছে আসলে চৌবাচ্চা জিনিষটা কেমন।
এক বাঘা সম্পাদক আবেদ আলি গেছেন পাবনা পাগলা গারদে, সেখানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবার বেজায় পাটিগনিত প্রেমিক। তার কাছে আবেদ আলির প্রশ্নঃ আচ্ছা আপনারা কিভাবে বুঝেন পাগল সুস্থ হয়েছে?
কর্মকর্তা বললেন, তাদের একটা পানিভর্তি গোসলের চৌবাচ্চার সামনে নিয়ে আসা হয়, তার পর সামনে রাখা হয় একটা চামচএবং একটা মগ তারপর বলা হয় এটা খালি করতে হবে।
আবেদ আলি উৎফুল্ল গলায় বলেন হুমম বুঝছি যে সুস্থ সে মগটা দিয়ে পানি ফেলানোর কাজ শুরু করে।
না যে সুস্থ সে গোসলের চৌবাচ্চার ছিপি খুলে ফেলে, কর্মকর্তা বিরস বদনে বলেন।
এই জলের অংক বুঝা সহজ নয় ভাইজানেরা বড় বেআককেল জিনিষ এই জল।
আংকিক হিসেবে আসি
জলযোগ-
জলবিয়োগ-
জলগুন-
জলভাগ-
ঘাবরানোর কিছু নাই, কাপ্তাই জলবিদু্যতপ্রকল্পে বাঁধ দিয়ে জল যোগ করা হয়, সেই জলের শক্তি রূপান্তরিত হয়ে বিদু্যত দেয়। সেই বিদু্যত দিয়ে বাংলাদেশের কোনায় কোনায় টিউব লাইট জ্বলে, কিন্তু যে পয়সা দিয়ে কেনা হয় সেটা জলে যায়, অবশ্য সরকারের সব পয়সাই জলে যায় কারন ভারতের সুরিয়া টিউব লাইটের ভীড়ে দেশী পন্য ভাতে মারা যাচ্ছে।
সেই জলজমা বিদু্যত নিয়ে হাঁউকাঁউ তো 8 জন মানুষ কনসাটে হাপিশ হয়ে যায়। এতো জলযোগের পরবর্তি হিসেব। প্রাথমিক হিসেব হলো। সেই জল যোগ করতে গিয়ে বাঁধ দেওয়া হলো, কাপ্তাইয়ের ছোটো ছোটো পাহাড়, পাহাড়ে উপজাতির বাস, তাদের 1972এ বলা হলো বাছারা এবার তোরা বাঙ্গালি হ। অনেক দিন মানুষ ছিলি, এবার বাঙ্গালি হ। কবিগুরু বলেছেন, নোবেল পাওয়া লোকের কথা বৃথা হতে পারে না, তাই তারা সভ্য ভব্য হয়ে বাঙ্গালি হওয়ার চেষ্টা শুরু করলো। এবং টাদের বসতি ডুবে গেলো , নোয়ার প্লাবন আসে নি, একেবারে মানুষসৃষ্ট আজাব। মন্ত্রিরা সব আহা উহু করেন, বললেন যা তোদের ক্ষতি পুষিয়ে দিবো। তওদের পুনর্বাসন হবে, কিন্তু এটা বাছারা স্বাধীন বঙ্গদেশ, তোদের তো বাঙালি ভাইদের সাথে মিলেমিশে থাকতে হবে। 7 কোটি বাঙালির সাথে কি আর 7 লাখ উপজাতি টিকতে পারে। আর বাঙালি তও যেনতেন বাঙালি না, সরকার সমর্থক বাঙালি। ওদের আবার পৌরুষ বেশী। ওদের প্রজননযন্ত্র সদা উত্থিত সরকারের নীতির মতো বাঙালি পতাকা দন্ডের মতো সদা সটান, ওরা যায়, যুদ্ধ জয় করে, পাহাড়ি বালিকারা উদোম গায়ে ঘুরলে ইসলামি জোশে ঝাপিয়ে পড়ে , পাহাড়িরা মনক্ষুন্ন হয়, কিন্তু সেই 100 অনুপাত 1 এর জটিল অংক এটা। পাহাড়ি ধর্ষিত হয়, পাহাড়ি নির্যাতিত হয়, সরকারি প্রেসনোট আসে, বাছারা ইাঙালি হও, বাঙালি হতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান, দেখো না মুজিবের লাল বাহিনী নীল বাহিনী পেঁদিয়ে লাল করে দিেেলা, পয়সায় পয়সায় লাল হয়ে গেলো সবাই। দেখো না সাম্যবাদের ঝান্ডা উড়ছে, সিরাজ বাহিনী আসে, গোলেমালে গোলেমালে কবুতরের মতো মানুষ মরলো। জলের সাম্যবাদ ডুবিয়ে দিলো বসতি আর নেতার বাঙালি হওয়ার মন্ত্র জপে জপে মুখে ফেনা তুলে ফেললো।
অগ্যতা অবেশেষে দেশে শান্তি বাহীনি শান্তিচুক্তি করলো। এবং কল্পনা চাকমাকে ধরে নিয়ে গেলো ? কে নিয়ে গেলো এটা বলা ঠিক হবে না।
এ গেলো জলযোগের গল্প। বাঁধের ওপারের গল্প জলবিয়োগের। সাধারন অংক এক জায়গায় জল যোগ করলে ওটাতো অন্য কোথা থেকে বিয়োগ করতেই হবে, জল সাম্যবাদি এটাও বুঝো না।
তাই ভারত জলযোগ শুরু করলো,ওদেরও সেচের জল চাই। গঙ্গার নদীর উজানে বাঁধ হলো। এদিকে জলবিয়োগের চাপে এপাশের পদ্মার বুকে পড়লো চর। আবারও সরকার মহোদয়ের চৈতন্যের গোড়ায় জল দিলে সরকার মহোদয় যান, জলচুক্তি হয়, এবং প্রতিদিন ফারাককা নির্দিষ্ট পরিমান জল বিয়োগ করে।
আসে বর্ষাকাল, জল যোগ হয় প্রতিদিন উজানে, যতবেশী জল যোগ তত বেশী জল বিয়োগের চাপ, প্রচুর পরিমানে জলবিয়োগ মানে বহুমুত্রের ঠেলায় গাইবান্ধা আর কুড়িগ্রাম ভেসে যায় জলে। সাম্যবাদি জল সব সমান করে দেয়।
ঢাকরা আনাচে কানাচে ঢুকে পড়ে জলসেনা, জলকামান দাগে, নোংরা পানির বৃষ্টি হয় শহরে। প্রথমে প্রাকৃতিক বৃষ্টি আর আশ্বিনের শেষ থেকে পৌষের শুরুতে মানবিক জল কামন থেকে নোংরা পানিবৃষ্টি হয়। এবং এই অবসরে জলযোগের পয়সা জুটিয়ে নেয় নেতাসকল, ত্রানকার্যে ঝাপিয়ে পড়ে সবাই।
জলগুন নষ্ট হয়ে কলেরামারিতে লোকজন ফর্সা। সমস্ত বাংলাদেশ জুড়ে বিশাল জলভাগ। জলের উপরে মাথা তুলে দাড়ায় ঘরের চাল। গাছের শীর্ন ডাল। বন্যার পানি নামে, জলের সাম্যবাদভুলে মানুষ আবার পরিজনতোষি হয়, স্বজনপ্র ীতি চলে, তেলা মাথায় তেল দেওয়ার নতুন নিয়মে সম্পন্ন গেরস্ত পান রিলিফের ঢেউটিন, 2 10 বস্তা চাল ডাল,
পাহাড়ের জল বড় ভালো। পাতি নেতা, বড় নেতা সবাই পাহাড় ভ্রমনে যান সাস্থরক্ষার্থে। কেউ যান সমুদ্্রের কাছে, আদিগন্ত জলভাগ দেখে চোখের সুখ, গায়ে লাগে সমুদ্্রের নোনা হাওয়া, আবারও জলকেলী মত্ত নেতার চামড়ার জমে নুন। সে নুন খেয়ে খেয়ে নিমক হারামি করেন কিভাবে। ফি বছর বন্যা চাই, ফি বছর চাই জলযোগের পয়সা,
আমরা জলের অংক মেলাতে হিমশিম। সেই পাটিগনিত মেলানো হয়।
আচ্ছা চৌব্বাচ্চা যদি না থাকে তবে কি হয়। এইতো বৈশাখ আসছে , আবার কলসি কাঁখে দাড়াবে জনগন সেনাবাহিনীর ট্রাকের সামনে, কৃষ্ণ নেই যমুনাও নেই, সেই জলে নাইতে যাওয়া নেই কলসি কাঁেখ আছে সেনাবাহিনীর ট্রাক, আসবে দুপুরে তাই নজিমন কালশিটে পিঠ ছেঁড়া আঁচলে লুকিয়ে দাড়ায় মগবাজারের রাস্তায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×