somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছাতা দরকার বলেছেন রাইসু

৩০ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে একটু ঝামেলায় ছিলাম, তাই সাক্ষাৎকার নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ফুরসত পাই নি, আজ পঞ্চক আন্দোলনের জনক জনপ্রিয় ব্লগারু আমাদের পাঞ্চাল রাইসু নীড়পাতার শীর্ষাসনে উবদা হয়ে ঝুলছেন, আমি হাতের শত কাজ ফেলে রেখে সাক্ষাৎকার নিতে ছুটলাম বনানী। রাইসু যথারীতি সেখানে নেই, তাকে খুঁজে খুঁজে পেলাম গুলশানের মরা লেকের পাশে বস্তায় ঢুকে ভ্যাবদা হয়ে বসে আছে। তার পাশে উবু হয়ে বসলাম।
বললাম প্রথমেই অভিনন্দন, অবশেষে স্বপ্ন হলো পূর্ন, আপনার অনুভুতি?
রাইসুর চাউনিতে আগুন কিন্তু মুখে স্মিত হাসি, বললো আমি বাক্যহারা, অনির্বচনীয় আবেগে আমার গলা বুজে আসছে, আমি কিভাবে ধন্যবাদ দিবো, কি ভাষায় ধন্যবাদ দিবো বুঝতে পারছি না।
আমি বললাম থাক আর কষ্ট করতে হবে না, এমনিতেই দেখি আনন্দে আউলা হয়ে বস্তাবন্দি।
কিন্তু আপনাকে একটা ছাতা কিনে দিতে হবে আমাকে, আমি অবাক তাকিয়ে থাকি বলে কি? এখন খটখটে সরমে ঢাকাবাসী খাবি খাচ্ছে কোথাও বৃষ্টির নামগন্ধ নেই, ছাতা দিয়ে কি হবে? পরে বুঝলাম ভাইসাহেবের মাথা আউলা হইছে শীর্ষাসনে বসার আনন্দে এটা ভুল ভেবেছি, এই কাঠফাটা গরমে এমনই মাথা আউলায় গেছে।
একটা ছাতাতো দেওয়া যাবেই, আমি আশ্বাস দেই, কিন্তু ছাতা দিয়ে কি হবে। উত্তরার বড় বড় ডাস্টবীন আছে , ওটার পাশে ছায়াও আছে, ওখানে আবাস নিলে ভালো হয়, এই গুলশানের আশে পাশে না থাকাটাই নিরাপদ, গ্রামীন ব্যাংক শুনছি সিটি ব্যাংকের সাথে ফকিরমোচন কর্মসূচি শুরু করছে, ওখানের লোকজন খবর পেলে ধরে নিয়ে কাজে লাগিয়ে দিবে, বড় বিপদে পড়বেন, কাজ না করে করে মাংনা কামাইয়ের অভ্যাসটা এই বয়েসে ছাড়তে হবে তাহলে।
বললো না একটা হাসের ডিসেন্ট্রি হইছে, মাথার উপর হাগছে কয়েকবার। দেখেন না কত বড় বড় চুল, একবার শ্যাম্পু দিলে শুকাতে সময় লাগে, শেষে ঠান্ডা লেগে সানি্নপাতিক হবে, নিউমেনিয়া হবে, আমার পঞ্চক আন্দোলন এতিম হয়ে যাবে। দয়া করে একটা ছাতা, আমি আর কিছুই চাই না। বললাম কানা রুশিদের কাছে ছাতা আছে, ওখান থেকে আনলে চলবে না।
আমার উপর হেভি বিলা হইলো, মেয়েদের ছাতা ব্যাবহার করে ও। মেয়দের ছাতা সস্তা,একটু বাতাসে ভেঙে যায়, দুর্বল ছাতা, এখন যখন তখন কালবৈশাখী হানা দিচ্ছে, জোরবাতাসে ছাতা উড়ে গেলে সেই হাসের বাচ্চাতও আবার......... উঁ উঁ উঁ উঁ উঁ। না না কাঁদে না কাঁদে না বললামতো যাওয়ার আগে ছাত া না পেলে মোটা প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে যাবো, শাজাহান সিরাজ মিয়াতো প্লাস্টিকবিহীন বাংলাদেশ আন্দোলন করছে, এখন মোটা প্লাস্টিকই ভরসা। দিবো ক্ষন,
কিন্তু আমার আরও একটা অনুরোধ ছিলো?
কি অনুরোধ বললাম আমি, নাহ মানে সাদিককে কি আমার পাশে মানায়, আপনিই বলেন, একটা বিবেচনা করে বলেন, সাদিক কে কি আমার পাশে মানায়। আমি কবিবর, কবরেজ মানুষ, আমার আশেপাশে মেয়ে না থাকলে চলে।
ঠিক আছে মেয়ে দেওয়া হবে, কাকে চাই বলেন আপনি?
বললো হিজাবওয়ালি কাউকে চাই না, হিজাব ছাড়া যে কাউকে পাশে আনেন, মেয়েদের চুল মেঘের মতো ভাসবে, এলোচুল দেখে ভিতরে কবিতার খই ফুরফুর করবে, কিন্তু হিজাবে কবিতা খুলে না, হিজাব ছাড়া যে কাউকে তুলেন পাশে।
আর সাদিক এই কয়দিনে আমার ধর্মনাশ করে ফেলবে। ও পাশে ঝুলে ঝুলে বুদ্ধের অহিংসার বানী ঝাড়লে আমি সহিংস হয়ে যেতে পারি।
আমি কতৃপক্ষকে মুঠোফোনে কান ধরি, কতৃপক্ষের ভাষ্য হলো, প্রথমে তারা কলু মোর্শেদের কথা ভেবেছিলো, ঝুলিয়েও ছইলো কিনতু এত তেল এত তেল খালি পিছলায় পড়ে যায়, এ জন্যই কলু মোর্শেদকে ঝুলানো যায় নি। সাদিক নির্বিবাদি মানুষ, ওকে তুলে দিয়েছি ।আর আমার ছোটো ভাই এখন তৈলাক্ত বাঁশ এবং সাদিক অংক কষছে, যদি একটি তৈলাক্ত বাঁশে সাদিককে তুলে দেওয়া হয়,সাদিক প্রথমন্দিনেপিছলায় পড়ে 5 ফুট, পরদিন হাঁচরেপাঁচরে উঠে 3ফুট।
যদি বাঁশের উচ্চতা 50 ফুট হয় তবে সাদিকের নেমে আসতে কয় দিন লাগবে?
ও অংকে কাঁচা তাই প্রাক্টিক্যালি দেখাচ্ছি কি হয়, কিন্তু সাদিক উপরে উঠটে চাচ্ছে না তাই ঠেলে রেখেছি জোর করে।এখন রাখি,
আমার আরও কিছু বলার ছিলো কিন্তু এগন ভাবে রেখে দিলো ফোন আর সাহস পাচ্ছি না, কানে সুর ভেসে আসলো, পরিচিত সুর, লালনের গান, আমি অপার হয়ে বসে আছি। নাহ সুরটা ওরকমই কিন্তু কথা মিলছে না, দেখি রাইসু গান ধরেছে।
আমি অপার হয়ে ঝুলে আছি সাথে ছাতা নাই
আমার সাথে ছাতা নাই।
কখন যেনো মাথার উপর হাঁসে হেগে দেয় আমার
হাঁসে হেগে দেয়................
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×