somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাসিদ

১১ ই এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাসিদ, বান্ধুরা বলে মিলেনিয়াম মজিদ, বা ভন্ড সুফী,
পড়তে পড়তে অবশেষে প্রেমে পড়লো মাহিজাবীনের, প্রেমে পড়া খারাপ এমন কেউ বলে নি, কিন্তু এখানে ক্রিয়ার ব্যাবহারটা দেখতে হবে। এমনিতে মাহিজাবীন কে দেখে নি কাসিদ, পড়েছে তার লেখা, সেই লেখা পড়ে পড়েই কাসিদের ভেতরটা উলোটপালোট হয়ে গেলো। এখন সে অপেক্ষায় থাকে কখন মাহিজাবীন লিখবে।
মাহিজাবীনের সব লেখাই তার কয়েকবার করে পড়া, মনে হয় তার চেয়ে ভালো ভাবে কেউ মাহিজাবীনের লেখা পড়ে নাই কখনই। কি শানিত যুক্তি, কি সাবলীল ভাষার ব্যাবহার, তার লেখা পড়লেই মনে হয় এভাবে আগে কেউ কখনও ভাবে নি, কত জানাশোনা তার, বয়েস অল্প হলে কি হবে, সব কিছু কি আর বয়েসের মাপে মাপা যায়?

আচ্ছা মাহিজাবীনকে আমাকে পছন্দ করবে, আমাকে যে লোকজন মিলেনিয়াম মজিদ বলে, বলে ভন্ড সুফী এই ভাবমুর্তি কাটিয়ে নতুন আদর্শবাদী ভাবমুর্তি গড়ে তুলতে হবে। জীবনে কখনই ভাগ্য গননায় বিশ্বাস করে নি, কিন্তু ঐদিন সে ফুটপাত থেকে হাতের রেখায় বিশ্বজয় বইটা খুঁজে কিনে এনেছে, সাথে 20 টাকা দিয়ে এখটা আতশীকাঁচ।
সংখ্যার রহস্যভেদ, দুনিয়াকাঁপানো 7সংখ্যা, সংখ্যাজ্যোতিষ সব সে এখন বিশ্বাস করে, কত দিন ফুলের পাঁপড়ি ছিড়ে ছিড়ে বলেছে, সে আমাকে ভালো বাসে- সে আমাকে ভালো বাসে না।
কি আশ্চর্য বিষয়, বেশীরভাগ ফুলই বেজোড় পাঁপড়ির, তাই সব সময় শেষ পাঁপড়িটা ছিড়লেই সে আমাকে ভালোবাসেতে স্থির হয় সব জল্পনা। এই যে ফুলের পাঁপড়ি বেজোড় এটাও কি আল্লাহর কুদরত? কতখানে কতভাবে যে তিনি তার নিশানা ছড়িয়ে রেখেছেন বোধা ভার।
সবাই কে সেই গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেন নি রাব্বুল আল আমিন, সবাই কি আর সে রূপ অবলোকন করতে পারতে? তারে ভাবলে কি আর জুড়ায় রে প্রান না দেখিলে নয়নের কোনেরে বন্ধু, কররে বন্ধু যাহা লয় যাহা লয় তোমার মনে- এটা কি শুধু প্রেমের গান? সাদামাটা দেখলে এটা প্রেমের গান কিন্তু এখানে যে ইশ্বরপ্রেমের বানী আছে এটা কি কেউ খতিয়ে দেখেছে।
সত্যি মানব সন্তানরা বড় ব্যাগ্র জীবন যাপন করে, চারপাশে এত নিদর্শন ছড়ানো কিন্তু কেউ এক পলকের জন্যও এই দিকে তাকিয়ে ভাবে না কত রহস্য গাছের পাতায় পাতায়।যত ভাবে তত আশ্চর্য হয়, ঐ দিকে মাহিজাবীনের লেখার ধারে হৃদয় ক্ষত বিক্ষত হয়, না বলা প্রেম অনলের মতও সর্বাঙ্গ পুড়িয়ে কালা করে ফেললো। কিন্তু অপ্রকাশিত প্রেমে এখন রবি ঠাকুর ভরসা। গীতাঞ্জলি খুলে পড়ে ইশ্বর প্রেমের গান। আহা রবীন্দ্রনাথও বড় সুফী ছিলেন, খৈয়াম রূমি, কবির সবাই সুফিবাদের চর্চা করেছেন, বুদ্ধদেবও সুফী ছিলেন, সুফি ছিলেন বাৎসয়ন ঋষি। আহা কি প্রেমময় পুস্ত লিখেছেন ঋষিবর। শরীরে শরীর ঢেকে প্রেম আর প্রেম, প্রতি অঙ্গ কাঁদে তব প্রতি অঙ্গ লাগি, এটা কে ম্লেছরা বলে দেহবাদী গান। আর মুর্খরা এই গানের বানী বুঝতে হলেও তোদের 36 মাস কোরান পড়তে হবে, পড়তে হিল্লাজির কথা, পড়তে হবে আনাল হক আনাল হক, দমে দমে ইসমে আজমের কথা, বুঝতে হবে কিভাবে বড়পীর জিলানী মাতৃগর্ভ থেকে বাঘবেশে হালুম লাফিয়ে পড়লো ধর্ষকের ঘাড়ে, বুঝতে হবে কিভাবে বানে ডোবা নৌকাকে নদীর গভীর থেকে তুলে আনে ইশ্বরের বিশ্বাস।
2 /4 পাত াবিজ্ঞান পড়া লোকজন ভাবে এসব বুজরুকি, ওরা বুঝে না এটাই সেই কেতাব যেখানে বিশ্বাসীদের সব সংবাদ দেওয়া আছে, ভাবে নদীতে ডুবে যাওয়া নৌকা, মৃতু্য সব এক কালীন বিষয়, কিন্তু যিনি জীবন নেন তিনিই জীবন ফিরিয়ে দিতে পারেন, এই সব কেরামতির কথা বললে তাকে মিলেনিয়াম মজিদ বলে আর আড়ালে মুখ টিপে হাসে লোকজন,
ওরা মুড়ি খাক সব। আমাকে যা খুশী বলুক কিন্তু ঐদিন এি কয়পাতা বিজ্ঞান পড়া লোকজন মাহিজাবীনের নামে যা তা কথা বললো? এর একটা উপযুক্ত জবাব দিতে হবেই হবে।
আমি সাংবাদিক সম্মেলন করবো, আমি স্মারক লিপি দিবো বাসসে। এক প্রস্থ লিখতে বসে কাসিদ।
সুফীবাদি মরমী মনের ভাবনায় সৌন্দর্যপুজা।
পরে সামান্য ভেবে টাইটেল বদলে ফেলে। মারমীর হৃদয়ে প্রকৃতির রহস্য, নাহ ঠিক ফুটছে না বিষয়টা তেমন করে, এক মরমী মনের প্রকৃতিদর্শন, এই প্রকৃতির ভাঁজে ভাঁজে নিশ্বাসেরই ছোঁয়ায় আছে ভালোবাসা আদর, নাহ এমন করে বললে এটা দেহবাদী সাধনের গান হবে। আবার কলম বদলে লিখতে বসে।
দিব্যি তরতর করে লেখা এগিয়ে যায়, ধর্মকে বুঝতে
হলে বুঝতে হবে ধর্মগ্রন্থের বানী। ধর্মগ্রন্থের সব কথাই আক্ষরিক নয়, ওটার অনেকটাই রূপক, রূপকের আড়ালে অনেক গুঢ় কথা বলা আছে, যার দিব্যদৃষ্টি আছে সেই দেখতে পারে এসব।
অনেক তথ্যপ্রমান উপাত্ত দিয়ে লেখাটা সাজায়।
পড়ে সেখানে কয়েকপাতা বিজ্ঞানপড়া জ্ঞান ঢুকিয়ে দেয়।
আহা কি আনন্দ, এইযে খাম্বা ছাড়া আকাশ খাড়া হয়ে আছে এটা যে খোার কুদরত এইটা কয়জনে বুঝে? কোথাও সেলাই করা নাই তার পর গাছের পাতা গাছের সাথে লেগে থাকে এইটা কতবড় মির্যাকল এইটা ওরা বুঝে।
কিছু বললেই িন্টারনেট ঘাটে বেটারা, ইন্টারনেটে কি আর সব সত্য লেখা থাকে, সত্য লেখা থাকে বিশ্বাসীর হৃদয়ে, প্রেম সত্য, সত্য বিশ্বাস, বিশ্বাস কখনই পাহাড় টলে না কিন্তু বিশ্বাসীর হাতের মুঠো চোখের সামনে ধরে পাহাড়কে মুছে দেওয়া যায় দিগন্ত থেকে।
মানুষ এমনই হয়েছে আজকাল। ক্ষীনদৃষ্টি মানুষ, কাছের টা দেখে, দুরের মহান আল্লাহর কুদরত বুঝতে চায় না।

লিখে লিখে কলমের কালি শেষ হয়।
তার কয়েকদিন পড় আসে সেই নীল খামের চিঠি, এত দিনের প্রত্যাশাপুরন হলো তার।
পড়তে পড়তে প্রেমে পড়ে যাওয়া মাহিজাবীনের কোমল গন্ধ লেগে আছেংোলাপি পাতায়। গোলাপের পাঁপড়ির মতো ফুটে আছে অক্ষরগুলো।
বন্ধুদের খবর দিতে হবে ভেব কাসিদ সজ্জিত হয় বাইরে যাবে বলে।
দোকান থেকে বিশেষ অর্ডার দিয়ে সে রাগবি খেলোয়ারের পোশাক আনিয়েছে, বুকের পাঁজর আর মেরুদন্ড রক্ষা করতে হবে যেকোনো মূল্যে।
ওখানে আঘাত লাগলেই পুরুষত্ব হানী হয়, পুরুষের উত্থান হয় না, বীর্যউৎপাদন ব্যাবস্থা ভেঙে পড়ে।
কিন্তু প্রকৃতির লক্ষ্য হলো সন্তান উৎপাদন , নারীর মূল লক্ষ্য সন্তান ধারন, এই ভাবেই প্রকৃতির নিয়ম চলছে, হালের সমকামীরা এই সত্য বুঝে না বলেই তারা পাপিষ্ঠ, কিন্তু আমাকে আমার বীর্য উৎপাদন ব্যাবস্থা নষ্ট হতে দেওয়া চলবে না, বাইরে জৈষ্ঠের কাঠফাটা গরম তবুও কোনো মতে পাঁজরে প্যাড লাগিয়ে, মাথায় হেলমেট পড়ে রাস্তায় নামে,
রাস্তার কোনায় দাড়ানো টোকাই ছেলেগুলো খিলখিল করে হাসে, কাসিদ পাত্তা দেয় না, অন্য দিন সামান্য রাগ হতো, কয়েকটা গালি দিয়ে শুরু হতো দিন আজ দইনটাই অন্য রকম।
বুক পকেটে মাহিজাবীনের চিঠি, এই বার প্রকৃতইর কাজটা সম্পন্ন করতেই হবে, মাহিজাবীনকে ফুসলিয়ে একটা বাচ্চা সেধিয়ে দিতে পারলেই মাহিজাবীনবশ হয়ে যাবে, তার পর বছর বিয়োনী গাইয়ের মতো প্রতিবছর একটা করে চলতেই থাকবে, পবিত্র কেতাবে বলা আছে, তোমরা অভাবের তাড়নায় সন্তন হত্যা করো না, রিযিকের মালিক স্বয়ং আল্লাহ, আলট্রা মর্ডান মাহিজাবীন কি এটা বুঝবে না? বছর বছর বাচ্চা হলে আর ব্যাভিচার করার সম্ভবনা কম, কোলের ছেলে সামলাবে না লীলা করবে। মায়ের মন সব সময় কোলের ছাওয়ালের দিকে থাকে,
নারী একা পুর্নাঙ্গ নয়, ওদের সব সময় দেখে রাখতে হবে, অরক্ষিত নারীর কামবোধ বেশী, ওরা যার তার সাথে মিলিত হয়ে যায়। আগুন আর ঘি পাশাপাশি রাখা ঠিক না।
এর পর সে মাহিজাবীনকে বলবে পড়াশোনা ছেড়ে একেবারে গৃহের অন্ধকার কোনে লুকিয়ে পড়ার জন্য, আলোবাতাস নারীর গায়ে যত কম লাগে তত ভালো।
আর বাইরে বের হওয়ার সময় যেনো আরও ঢেকে ঢুকে বের হয়। ভাবতে ভাবতে চলতে থাকে আমাদের কাসিদ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×