বিপননের দোষ সব
আপাতচাহিদা জাগায় মনে
অন্তত আমাদের অপরিহার্য ছিলো না কিছুই
দু বেলা দু মুঠো খুদ জুটলেই
জয় জগন্নাথ বলে পেন্নাম ঠুকতাম চৌকাঠে
আজকাল সোনার জলে লেখা না হলে ইশ্বরই বিরাগভাজন
"ইশ্বর বাস করেন ঐ ভদ্্রপাড়ায় "
যেখানে বানের জল জমে না
আমরা গরিব ভুখা নাঙা
পিন্দনের ত্যানা জুটে না
সোনার জলে ইশ্বরের নাম লেখা নেই তাই
ইশ্বর আসেন না এই পাড়ায়
কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির বর্জ্য ছড়ায়
বলে দেয় জীবনকে জীবন বলতে কত কিছুর প্রয়োজন আজকাল।
তৈজস এবং বেশবাসের হাজার রকম ধাঁচ
জানালার রং ফিকে আকাশী দেয়ালের রং নীল
সেখানে বেড়ে না উঠলে
শিশু কি ভাবে সমূদ্্র আর গাংচিল খুঁজে পাবে
যদি বাসার সামনে উঠান না হয়ে থাকে একটুকরো ঘেসোজমি
গেরস্থের সম্মান বাড়ে এবং
সেখানেই দেখতে পাই সুবেশী ছেলের হাতে হাত রেখে সুখী মা
গদ গদ স্বরে বলছে
বাবা অনেক হলো এবার একটা বৌ নিয়ে আয় ঘরে
আমাদের 2 বেলা আহার জুটে না ঠিক মতো
চাহিদা চাগালেই বা কি?
স্টেশনের ওয়াগনের পারুমালতি মিতা
আর হাতে ফুটা পয়সা না থাকলে শ্র ীহস্ত
উর্বশী মেনেকা
সকালের নাস্তায় বিশিষ্ট মাখন পনির প্রয়োজন স্কুলের টিফিনে ওমুকের স্যান্ডউইচ
দুপুরে তমুক কোম্পানির প্লেটে সাজিয়ে খেলে খাবারের পুষ্টিগুন বাড়ে
নিত্য নতুন অজানা সংবাদ জানি প্রতিদিন
অথচ আমাদের চোখের নীচে কালি
একটা ভদ্্রখোলসে নিজেদের ঢাকতে কয়েকদিন উপাস দিতে হয়
আমাদের ঘরের ছেলেরা মেয়েরা ফ্রি স্কুলের চৌকাঠ পাড়ি দিতে পারে না
ওদের পাঠিয়ে দেই স্বঅন্নসংস্থানে
সেখানে তাদের পিঠে খুনতির ছ্যাঁক, যৌনাঙ্গে প্রহার
এবং ক্লিষ্ঠ গৃহকর্তার যৌবনরক্ষার বাতিক থাকলে তিনি কন্যাসম পরিচারিকায় উপগত হন
এবং এই যাত্রা বেঁচে গেলে হয়তো গারমেন্টে
নাইটশিফট,
স্রাবের রক্ত মুছে ফেলে রাখি ছুট কাপড় আর
21 ইঞ্চি পর্দায় লাফায় কোমল কিশোরী
সেই সব বিশেষ দিনের কথা ভেবে কি হবে যখন সবকটা দিন একই রকম
2 বেলা 2 মুঠো হলেই আমরা যখন জয় জগন্নাথ বলে পেন্নাম ঠুকতাম ঠাকুরের দরবারে সেসব দিন অতিক্রান্ত
এখন 21 ইঞ্চি পর্দায় আমাদের জীবন শেখাতে চায় বহুজাগতিক বিজ্ঞাপন
বলে দেয় জীবনের কি এবং কত কি প্রয়োজন
এখন সেখানেই শুনছি
পর্দা করা অতীব প্রয়োজন নাহলে আজ ধর্ম থাকে না
মিলের মোটা শাড়ী আর রাবারের চপ্পলে এখন সম্পুর্ন নারীত্ব ফুটে না
অত এব অনুষঙ্গ চাই
মেয়ে কে মেয়ে করে তুলার অনুষঙ্গ চাই আজকাল
ধর্মবাঁচাতে এবং ইশ্বরের লালসা থেকে নারিকে বাঁচাতে আবরন চাই বক্ষঢাকা
কামুক ইশ্বরের লোল পড়ে দিনরাত আর সেই লালা দিয়েই না কি বাচ্চা হয় কুমারির গর্ভে
আমাদের যখন দিনান্তে উনুনে পাতিল চড়াতে হিমসিম সময় যাচ্ছে
যখন পিরানের বুক পিঠ আর পকেটে অবিরম রিফু করে করে করে আমরা সাধের শারীর ঢেকে বাইরে যাই
তখন সেই দুরের উপাসনালয় থেকে ভেসে আসে
গরীব স্বর্গে যাবে
ধনলোভী পুরুষের স্বর্গে ঠাঁই নেই।
আপাতত স্বর্গ চাই না আমি দিনান্তে আহার চাই শুধু,আর কিছুই না শুধু পেটপিঠআলাদারাখারমতো 2 বেলা অন্ন চাই প্রভোঃ
আর 21 ইঞ্চি পর্দায় ভেসে আসে বেপর্দা নারীর মুক্তি নাই,
স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো হিজাবও না কি অতিপ্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ জীবনের
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



