যারা চিলেকোঠার সেপাই পড়েছেন তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই, 69এর গন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় লেখা এই উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্রই আখতারুজ্জামানের কলমে জীবন্ত হয়ে আছে, কিভাবে একটা মানুষের পরিচয় এবং বোধ বদল হয়ে অন্য সবার মতোই একটা স্বর হয়ে উঠে এই বিবর্তনের গল্প চিলেকোঠার সেপাই। কিন্তু এই আন্দোলনের পটভুমি কি? কেনো তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে এমন উত্তাল আন্দোলন করলো যার প্রভাবে আইয়ুব খান ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। এই পরিপ্রেক্ষিতটা বিচার করতে হবে, বাঙালি মনস্তত্ত্বের সাথে মধ্যে প্রভাবিত হয়ে যাওয়ার একটা বিষয় আছে।
আমার কথা শুনতে খারপ লাগতে পারে কিন্তু হুজুগে বাঙালি কথাটা আসলেই ফেলনা কোনো কথা না, জনতার একটা অলীক ধারনা ছিলো পাকিস্তান মানেই সব পরিবর্তন হয়ে যাবে, মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই এবং যদি মুসলিমদের হাতে ক্ষমতা আসে তাহলে কোনো শোষন হবে না, আমরা সাবই ভাতৃপ্রতিম বসবাস করবো। যদিও ভৌগলিক ভাবে বিচ্ছিন্ন 2টো আলাদা ভুখন্ডের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ মোটেও ছিলো না, তার পরও একটা ধর্মিয় সংস্কৃতির ভিত্তিতে দেশ তৈরি করে ফেললো , ধর্ম পালনে বাঙালি কখনই কট্টর নয়, বরং ধর্মের সম্মিলনের ভাবনায় কাতর, কিন্তু ব্রটিশ শাসন ব্যাবস্থার শেষার্ধে এসে কংগ্রেসের সাথে ক্ষমতার দন্দ্ব এবং গান্ধিবাদের দিকে ঝুকে পড়া দেখে এক মদ্যপ পার্সি জিন্নাহ যার সাথে ধর্মের যোগাযোগ পূর্ব পাকিস্তান পাশ্চিম পাকিস্তানের মতো সেই কি না পাকিস্তানের জাটীয় পিতা হয়ে গেলো। এই সময়টার কথা চিন্তা করে দেখো, মুসলিমরা সিপাহীবিদ্্রোহ করেছিলো লক্ষ্য ছিলো মুঘল বাদশাহকে আবার ক্ষমতায় নিয়ে আসা, কিন্তু এই লড়াইয়ে মুসলিমদের নিজেদের ভিতরের ঐক্যের অভাব প্রকট হয়ে গেলো। আর এর পরবর্তিতে স্বদেশী আন্দোলনের মূল স্রোতে মুসলিম যুবকদের অংশগ্রহন ছিলো সীমিত, হিন্দু বিদ্্বেষের একটা ধারা তৈরি হয়েছিলো, এই ধারা তৈরিতে সাম্রাজ্যবাদি কুটবুদ্ধি যেমন ছিলো তেমনই ছিলো মুসলিমদের নিজেদের ভুল। একটা অলীক কল্পনাকে ধারন করেছিলো মুসলিমরা, অন্তত 400 বছর একটা বিশাল ভূখন্ডের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে যারা শাসন করতো সিপাহী বিদ্্রোহের পর পর সেই ক্ষমতা থেকে একেবারে নির্বাসিত হয়ে গেলো মুসলিমরা। এবং এই অবসরে বনিক শ্রেনীর প্রতিভূ হিসেবে হিন্দু গুজরাতি তথা ভিন্ন ধর্মালম্বি ব্যাবসায়িদের মুনাফা এবং 2য় বিশ্বযুদ্ধের ফটকা বাজারে হিন্দু প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ীদের সাথে অর্থনৈতিক সংঘাত সদ্য তৈরি হওয়া মধ্যবিত্ত মুসলিমদের ভিতরে একটা তীব্র হিন্দু বিদ্্বেষ তৈরি করে, জয়নাল একবার চিন্তা করে দেখো মুসলিম লীগের অধিকাংশ সমর্থকই কিন্তু এই উঠতি বনিক শ্রেনীর, বা জোতদার শ্রেনীর প্রতিভু। জয়নাল মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো না কোনো কথাই বরং একমনে শামীম ভাইয়ের হাতের মূদ্্রা দেখছিলো, এই পর্যায়ে শামীম ভাইয়ের হাতে জ্বলে উঠে প্রজাপতির পাখনা থেকে আগুন, সাদ্দাম সিঙারা আর চা দে, তুমি খাবে , না কি দুপুরের খাবার খেয়ে বসবে আবার। যা বলছিলাম, শামীম ভাই আবার 71এর পটভুমি বিশ্লেষন শুরু করেন, এই জোতাদার শ্রেনী ক্ষমতাকে নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টায় মানুষের ধর্মবোধকে ব্যাবহার করে, সব সমাজেই এটা প্রযোজ্য, শোষনের প্রয়োজনে রাষ্ট্র আবহমান কাল ধরে ধর্মকে ব্যাবহার করছে, আর এই সেন্টিমেন্টের বাজার ছিলো সেই সব উঠতি ব্যাবসায়িদের ভেতরে, তাদের এবং তাদের সহযোগিদের হাতে হিন্দু বিদ্্বেষ একটা চরম মাত্রায় পৌছানোর পর হুট করেই 2য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ, তখন ব্রিটশদের সামরিক শক্তি অনেকাংশে নিঃশেষ, এত বড় একটা দেশকে ধরে রাখা সম্ভব নয়, এই দিকে গান্ধির অসহযোগের অহিংস পথ কংগ্রেসের ভিতরে প্রূর প্রভা ব তৈরি করে, কংগ্রেস ক্রমশ একটা হিন্দুঘেষা দলে পরিনত হয় এবং এই সাম্য বজায় রাখতে মুসলিম লীগ জোতদারের সংগঠন হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়, এবং অবশেষে 47এ দীর্ঘ এক বছর আলোচনা পর্যালোচনা শেষে জিন্নাহর অনড় দাবি জয়যুক্ত হয়, এক মদ্যপ পার্সি অবশেষে ধর্ম নিয়ে রাজনীতিতে বিজয়ি হয়। জিন্নাহর কথাটা মনে রাখবে " আমি একটা টাইপরাইটার দিয়ে পাকিস্তান তৈরি করেছি" যাই হোক যদিও বাঙলা ভাগ করা কখনই লাহোর প্রস্তাবে ছিলো না কিন্তু হঠাৎক রেই পাঞ্জাবের অর্ধেকের বিনিময়ে অর্ধেক বাংলা পাকিস্তানের জিম্মায় চলে যায়, এবং জাতিগত দাঙ্গায় হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে নিহত হয়। এবং এই রাজনৈতিক ডামাডোলে ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে মূলত বাঙালি অধু্যষিত পশ্চিম বাংলার কোলকাতার আশেপাশের এলাকা থেকে প্রচুর বাংলা ভাষি মুসলিম এই দেশে চলে আসে, এই বাংলাভাষি মুসলিমদের ভিতরেও মুসলিমলীগ প্রিতি প্রবল ছিলো, ঠিক তেমন ভাবেই কংগ্রেসের সমর্থক অনেক হিন্দুই ভারতে রওনা দেয়, একটা সাম্যাবস্থা ফিরে আসে সীমান্তে। যদিও বাংলা ভাগ হয় কিন্তু এদের ভিতরে সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং অসাম্পরদায়িক মনোভাবে ফাটল ধরানোর জন্য বাঙালি সংস্কৃতিকে ধংসের একটা প্রচেষ্টা শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানে, এই কাজটায় বাঙালি অনেক বুদ্ধিজীবির হাত ছিলো। তবে এ দেশের ছাত্ররা কখনই সংস্কৃতিকে হীন করার চক্রান্তে সামিল হয় নি, বরং রাজপথে রক্ত দিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার স্ব ীকৃতি দিয়েই থেমেছে। এই ধারাবাহিকতার এক পর্যায়ে মুসলিম লীগ ভেঙে মুসলিম আওয়ামি লীগের জন্ম, তখন ছাত্র ইউনিয়নের এবং বামপন্থিদলগুলোর দাপট ছাত্র রাজনীতিতে,সেই সময়ের আন্দোলনের কোথাও আওয়ামি লীগের তেমন ভুমিকা নেই, মুজিব তখন একটা মাথাগরম ছোকরা, এখন যতই দাবি করুক 52র ভাষা আন্দোলনে মুজিবের সক্রিয় ভুমিকা ছিলো কিন্তু মিজিব কখনই তেমন বড় মাপের ছাত্রনেতা ছিলো না সেই সময়, বরং একটা শান্তিপূর্ন প্রসেশনে হুট করে মাথাগরম মুজিব এসে ছাত্রদের উত্তেজিত করে তোলে এবং পুলিশ লাঠিচার্জ করে সেই সমাবেশে, এবং একটা পর্যায়ে মুজিব গ্রেফতার হয়ে জেলে যান, জেলে বিভিন্ন নেতাদের সাথে পরিচিত হওয়ার পর মুজিবের পরিচিতি বাড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে, এই দিকে যুক্তফ্রান্ট ক্ষমতায় আসে, ক্ষমতার মিউজিক্যাল চেয়ারে যখন কয়েক বার স্থায়ী কোনো সংসদ দিতে ব্যার্থ হয় একটা পর্যায়ে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন একটা ধারা তৈরি হয়, সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই, সামরিক শাসকনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। 1966তে আওয়ামি লীগের ছয় দফা প্রচন্ড আলোড়ন তুলে বাঙালিদের ভেতরে, মুসলিম লীগের অনেক নেতাই তখন পাকিস্তানের উপর বিরক্ত, পাকিস্তান তৈরি সাথে কল্পনার দেশ ব্যাপী সাম্য এবং সহনশিলতার যেই ভ্রান্ত স্বপ্ন দেখেছিলো সেটা ভেঙে যেতে বেশি সময় লাগে নি, বরং শোষনের একটা নতুন মাত্রা তৈরি হয়, এই শোষনের বীপরিতে আওয়ামি লীগের 6 দফা ছিলো বাঙালি যুবকদের দাবি, এই সময় আন্দোলনগুলোর মধ্যে ছাত্ররা ছিলো প্রানভোমড়ার ভুমিকায়, বামপন্থি দলগুলো এবং আওয়ামি লীগের সমর্থকরা 66র 6 দফাকে বাঙালিদের মুক্তি সনদ বিবেচনা করলো।
ছাত্র আন্দোলন দমাতে এন এস এফ এর ক্যাডাররা সহিংস প্রতিরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে সন্ত্রাস আনার জনক এই এন এস এফ।
কি ছিলো ছয় দফায় যার জন্য বাঙালি এমন হুজুগে মেতে গেলো?
বাঙালি পূর্ব পাকিস্তানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি হবে এই দাবিটাই প্রধান ছিলো, স্বায়ত্ব শাসনের দাবি ছিলো প্রথম দাবি। ছিলো পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদের উপর পূর্ব পাকিস্তানের সর্বময় কতৃত্বের দাবী।
এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক সেনাবাহিনি গঠন করা,
বস্তুত এমন একটা ফেডারেল সরকার গঠনের প্রস্তাব ছিলো যেই সরকারে প্রতিরক্ষা এবং বৈদেশিক নীতি ছাড়া বাকি সব ক্ষমতাই প্রাদেশিক সরকারের কাছে থাকবে, নিজেদের জন্য পৃথক পুলিশ বাহিনি গঠন, নিজেদের জন্য ব্যাংকিং ব্যাবস্থা গড়ে তোলা এবং বাঙালির সম্পদে যেনো পশ্চিম পাকিস্তানে সৌধ গড়ে না উঠে তা প্রতিরোধ করার ব্যাবস্থা। এই অর্থনৈতিক অসাম্য পাকিস্তান ভাঙে যাওয়ার একটা নিয়ামক। কিন্তু এই শোষনে সহকারির ভুমিকায় ছিলো এই দেশের জোতদার ব্যাবসায়িরা, এবং অবশ্যই অধিকাংশ ভারতত্যাগি মুসলিমরা।
এর মধ্যে শত্রু সম্পত্তি আইন বাস্তবায়ন হয়। যেই আইনের বলে যেকোনো লোককে রাষ্ট্রদ্্রোহি বলে তার সম্পদ জব্দ করা যায়, এবং এই আইনের ফলে এই দেশের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারে রসীমা বেড়ে যায়, সব জোতদার মনস্তত্ত্বের লোক জন পাকিস্তান রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষক হবে এমনটাই স্বাভাবিক। তারাই গোড়া মুসলিম লীগ এবং জামায়াতে ইসলামির সমর্থক হয়ে উঠে।
এই 6 দফা আন্দোলন মূলত একটা প্রদেশিক আন্দোলন ছিলো, এই প্রাদেশিক আন্দোলনকে একটা জাতিয় আন্দোলনের রূপ দেয় ছাত্রদের 11 দফা দাবির পক্ষ্যে লড়াই।
এই 11 দফা দাবিতে সকল সংস্কৃতির মানুষের জন্য ন্যায্য অধিকারের দাবি জানিয়েছিলো ছাত্ররা। তাই সিন্ধু প্রদেশ বেলুচিস্থান, পাঠান সব গোত্রের মানুষের ভিতরে স্ব অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টা দেখা দেয় এবং 11 দফার আন্দোলন যখন দেশব্যাপি গনজোয়ার তৈরি করে আইয়ুব খান ক্ষমতা ত্যাগ করেন। এবং ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় এসেই নতুন নির্বাচনের ঘোষনা দেন। এই নির্বাচনে যখন আওয়ামি লীগ প্রায় সবকটা আসনে জয়লাভ করলো তখন মূলত প্রাদেশিক সরকারের নয় সমস্ত পাকিষতানের প্রতিনিধিত্ব করা সংসদে তারাই সংখ্যাগুরু। সংসদে নিজেদের দাবী আদায়ের সপক্ষে তাদের কোননো লবিংয়ের প্রয়োজন নেই বরং তারা একাট্টা হলেই যেকোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন, এই একটা ধাককা লাগে ইয়াহিয়া খানের পাঠান রক্তে। ভুট্টোর ধারনা ছিলো তার পি পি পি ক্ষমতার অনেকাংশ নিয়ন্ত্রন করবে কিন্তু তার আসন সংখ্যা ছিলো আওয়ামি লীগের অর্ধেকের মতো। তাই ইয়াহিয়ার সাথে 2য় সংখ্যাগুরু দল হিসেবে মুজিবের সাথে ক্ষমতা বাটোয়ারার আব্দার নিয়ে আসে ভুট্টো। এবং 25শে মার্চ ক্রাক ডাউনে গোটা দেশের 1 লক্ষেরও বেশি লোককে হত্য করে পাকিস্তানি সৈন্য বাহিনী এইং এদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে জামায়াতে ইসলামি এবং মুসলীম লীগের কিছু নেতা কর্মি এবং ভারতত্যাগি মুসলিমরা। ওরাই লুটতরাজে অংশগ্রহন করে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপি মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়,
এই সময়টাতে পার্টি হাই কমান্ড ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। একটা জিনিষ খেয়াল করবা এই যে বড় বড় ছাত্র আন্দোলনগুলা হইছে তার নেতৃত্ব ছিলো সাম্যবাদী চেতনায় বিশ্বাসি ছাত্রনেতারা। আওয়ামি লীগের ছাত্র সংগঠন তেমন প্রভাবশালী ছিলো না এই আন্দোলনগুলোতে,
পার্টি কমান্ডের ধারনা হলো পূর্ব পাকিস্তানের সবার ভেতরেই সাম্যবাদি চেতনা গ্রহন করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে, এই মুক্তি যুদ্ধের মধ্যেই এই খানে সমাজতন্ত্র কায়েম হবে, বরং 2 জোতদার দলের প্রতিভুদের মধ্যে বিরোধে সাম্যবাদি চেতনার সংমিশ্রন ঠিক না। পার্টি হাই কমান্ড যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এবং একাংশ যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকবে ঠিক করে বাকি কর্মিরা নিজ উদ্যোগে যুদ্ধে যায়, এবং কোনো কোনো সাম্যবাদি দল নিজেরাই মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করে। সব দলেই কিছু না কিছু নেতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো, তবে আমাদের পার্টির হাই কমান্ড যুদ্ধের বিরুদ্ধে নয় বাঙালি জোতদারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানিদের সহয়তা নিয়েছিলো এই ভাবনায় যে শত্রুর শত্রু মিত্র।
তবে আদর্শিক বিরোধে অনেকেই পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন কিন্তু আল বদর এবং আল শামস নামে পাকিস্তানি সৈন্যদের সহায়তার জন্য যে বাহিনি গঠিত হয় তার অধিকাংশই ছিলো কট্টর মুসলীম লীগের কিংবা জামায়াতে ইসলামির কর্মি নেতা।
একটু বিচার করলেই বুঝবে তাদের সবাই পাকিস্তানি সাম্রাজ্যবাদের প্রভাবে সুবিধাভোগি গোষ্ঠি, এদের আর্থিক বিবেচনা কিংবা আদর্শিক বিবেচনায় পাকিস্তানিদের কার্যক্রমকে সমর্থন যোগ্য মনে হয়েছিলো।
জয়নালের ভেতরটায় কি যেনো দানা বাধে, একটা রাজনৈতিক দল যেই রাজনৈতিক দল 71এ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধি ভুমিকা নিয়েছিলো আদর্শিক কারনে সেই দলকে সমর্থন করে এত দিন মিছিল মিটিং, পাঠসভা, চাঁদাতোলার কাজ করেছে সে, একটা স্বাধিনতা বিরোধি শক্তি যতই সাম্যবাদের কথা বলুক না কেনো তার আদর্শিক অবস্থান যদি জনমানুষের চেতনার সাথে সহাবস্থান ন করে তাহলে কোনো ভাবেই পরিবর্তন সম্ভব নয়, তার সীমিত বস্তুবাদি চেতনায় যা বুঝেছে সে পরিবর্তন বিশেষত সামাজিক পরিবর্তন কখনই চাপিয়ে দেওয়া যায় না, বরং এই দাবির সপক্ষে জনগনকে তৈরি করতে হয়, জনগন চাইলেই লাল নীল হলুদ বিপ্লব সম্ভব, এ খানে এই নেতারা 71এ বাঙালির নাড়ীর টান বুঝে নাই, তারা জনগনের জন্য রাজনীতি করে না, আদর্শ জনগনের দাবির সাথে সমতা রেখে তৈরি হবে, সাম্যবাদি দলে এমনটাই রীতি হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে তার মনে হয়।
মাঝে মাঝে পাঠসভায় এই নিয়ে বলেও ছিলো পার্টির মাঝারিগোছের নেতারা এই মত মানেন না, তাদের আসলে কোন ধরনের বিপ্লব পছন্দ তাও তারা নিশ্চিত জানেন না। ঐ দিকে আদর্শিক বিভ্রান্তিতে ভুগে একদল সর্বহারার নামে জোতদারের শোষনের কায়দায় চাঁদাবাজি করে অস্ত্র বাড়াচ্ছে, ওরা আদর্শ বিচু্যত লুম্পেন হয়ে ঘেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাদঃি, যদিও নেতাদের ধারনা তারা এই সব নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখেন কিন্তু একটা প্রাতইষ্ঠানিক স্ব ীকৃতি এবং আদর্শিক সমর্থন পেলে যেকোনো অপরাধিই দিন দইন অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এক জন ইটের ভাটায় মানুষ পুড়াচ্ছে, সেও নাকি সাম্যবাদি চেতনা ধারন করে। প্রশ্নঅনেক কিন্তউ নেতাদের কাছে সদুত্তর নেই এবং আজ এই আঘাত, জয়নাল ম্লান স্বরে বলে শামিম ভাই আজকে উঠি। পরে আসবো।
দুপুরের তীব্র রোদ ঘাই মারে করোটিতে, নাসিমের দোকানের সামনে দাড়িয়ে সিগারাটে হাতে নিয়ে চিন্তা করে ঠিক কোথায় যাওয়া যায় দুপুরে খাওয়ার জন্য, পাবলিক লাইব্রেরি, চারুকলা, নীলক্ষেত , পলাশি যেকোনো দিকেই যাওয়া যায়, সব খানেই সস্তা হোটেল আছে, তবে হলে যাওয়া যাবে না, ওখানে সদ্য ক্ষমতা বদল হয়েছে, হলের ডাইনিংএ বসে পাহাড়া দেয় ক্যাডারের দল, ওদের ফ্রি খাওয়া এবং সামন্তবাদি আচরন পছন্দ নয়, কিন্তু প্রতিবাদও করতে পারে না তাই ভিতরে অক্ষম রাগ পুষে হলে থাকতে হয়।
এর চেয়ে হাকিম চত্তরে গিয়ে দেখি হাসনা মঈন আসছে কি না।
সেন্টরাল লাইব্রেরির সামনে দিয়ে হেঁটে যায় জয়নাল।
(যা ভেবেছিলাম তা করা হবে না কোনো দিন)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



