somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞানকল্পকাহিনী রবিন্দ্রনাথ লিখিত

০৮ ই মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞানকল্পকাহিনী এই শিরোনাম পড়েই যারা অস্তিন উঠিয়ে মারমুখি হয়ে যাচ্ছেন সেই সব রবিন্দ্রপ্রেমী পুরুষের জন্য হতাশার কথা হলো 1930 সালে জুলাই মাসের 14 তারিখে রবীন্দ্রনাথ আইনস্টাইনের সাথে দেখা করতে যান বার্লিনে, সেখানে তাদের মধ্যে উচ্চমার্গিয় অনেক আলোচনা হয়, আইনস্টাইন অবাক হয়ে বলেন জয়তু গুরুদেব আপনি যদি পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়তেন তবে আপনি পদার্থবিজ্ঞানেই নোবেল প্রাইজ পেতেন। আপনার মতো মেধাবি মানুষ কেনো যে স্কুল পাশ করতে পারলো না এটাই আমার কাছে বড় বিস্ময়, প্রতু্যত্তরে রাবীন্দ্রনাথ বলেন শ্র ী যুক্ত আইনস্টাইন আমার বসবাস আপনার বিজ্ঞানের যেখানে শেষ তারও কয়েক বিঘত উপরে, আমি এখান থেকে বিজ্ঞান স্রষ্টা এবং সৃষ্টির সব দৃশ্য অবলোকন করতে পারি, এখানে অসীম প্রশান্তি। আপনি একবার এসে ঘুরে যান বেলপুরে।
আইনস্টাইন কথা দিয়েছিলেন কিন্তু আসার সময় হয় নি। এবং এই আলোচনায় উদ্্বুদ্ধ হয়ে রবিন্দ্রনাথ একটা সায়েন্স ফিকশন লিখে ফেলেন।
সেই গোপনা পান্ডুলিপি তার গৃহপালিত ছাপাখানায় ছাপা হয় নি, অনাদরে পরে ছিলো সেরেস্টাখানায়, বাতিল কাগজের সাথে, রবীন্দ্র গবেষক সুরেন্দ্রনাথ মিত্র সেখান থেকেই এই পান্ডুলিপি উদ্ধার করেন। তার কিয়দংশ এখানে তুলে দিচ্ছি সেই সব আম জনতার উদ্দেশ্যে ।

পশ্চিমাকাশে এক খন্ড কালোমেঘ দিনমনিকে ক্রমশ গ্রা করিতেছে দেখে বায়ুশকটের অধিকারি চিন্তত স্বরে কহিলেন উপেন গতিক সুবিধের দেখছি না, যেভাবে বত্যাবায়ু ধেয়ে আসছে আজ ঝড়ের সন্ধ্যায় এই উদাসি হাওয়া বায়ুশকটকে লয়ে চেলেখেলায় মত্ত হতে পারে। তুমি গিয়া বায়ুশকটের যাত্রিদের কহ তাহারা যেনো বন্ধনি কষে বাঁধে। আমি বায়ুশকটটিকে কোথায় নিরাপদে স্থাপন করিতে পারিবো এমন বিশ্বাস আমার নেই।
উপেন ভুপেনের দিকে চাহিয়া কহিল তবেতো সবনাশ হয়ে যাবে, আজ বিজ্ঞানপরিষদের মহাসভায় যোগদানের জন্য মহামান্য বিজ্ঞানি সুরেশ মিত্র এবং তাহার সহকারী বায়ুশকটে উঠিয়াছেন, তাহাদের গন্তব্যে নিরাপদে পৌছাইয়া না দিতে পারিলে আমাদের বায়ুশকট কোম্পানির সম্মানহানী হইবে,
তখনই বতয়াবায়ুর প্রথম ছোঁয়ায় যাত্রিগন কেঁপে উঠেন। যেন পুষ্পক রথে রাধিকার নিস্পন্দ কোমল শরীর এলিয়ে পড়িল এমন ভাবে বায়ুশকটটি ভুমিঅভিমুখি হইলো।
ভুপেন এহেন পরিস্থিতিতে আগে কখনও পরে নাই, শীতের ভিতরেও তার কপাল ঘেমে যায়। তাহার দিগদর্শন যন্ত্র অবিরাম ঘুরিতেছে, দিগচিহ্নবিহীন পতিত হইতেছে বায়ুশকটখানি,
একটু নীচে নামতেই উজ্জল আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেলো সুরেশ মিত্রের। একটি চাকতিসদৃশ্য যান তাহাদের শকটের পাশে ভেসে আছে, সেখান থেকে বিদু্যৎস্ফুলিঙ্গ চারপাশে মনোহর বিভ্রম তৈরি করিয়াছে। সুরেশ মিত্র আপনি যাহা ভাবিয়াছেন তাহা সঠিক নহে, মেঘনাদ সাহার সমীকরনের শেষাংশের সমাধানকল্পে আপনার বিবেচনা সঠিক নহে, কোথা হতে কথাগুলো ভেসে আসে সুরেশ মিত্র বুঝিতে পারেন নাই, বোধ হয় মস্তিস্ক বিকৃত ঃইয়াছে তাহার এমনটাই কল্পনা করেন তিনি, শুনিয়াছেন খুব দ্্রুত যদি উচ্চতার পরিবর্তন হয় তবে মস্তিস্কে অম্লজানের ঘাটতি দেখা যায় এবং মস্তিস্ক সঠিক ভাবে কর্মসম্পাদন করিতে পারে না।
সুরেশ মিত্র কোথাও নূপরের নিককন শুনিতে পান, যেনো গোপিবালা কৃষ্ণকে খুঁজিতেছে বৃন্দাবনে, এমন করূন একটা সূর ভাসে চারপাশে।
কুশন বিস্ফোরিত হয় অতঃপর সুরেশের আর কিছু মনে নেই।
যখন তাহার চেতনা ফিরিয়া আসে তখন তিনি নিজেকে দেখতে পান বিস্তৃর্ন একটি মাঠের মাঝে, আদিগন্তবিস্তৃত এই মাঠের কোনো শেষ আছে বলিয়া তাহার মনে হয় না।
------------
অবশেষে তিনি সন্ধ্যাঘনানোর আগ পর্যন্ত হাঁটিয়া যান সূর্য্যকে লক্ষ্য করিয়া, অবশেষে এই ঘাসের বনে সন্ধ্যা নামে চুপিসারে, তাহার অবস্থান কোথায় সুরেশ মিত্র জানেন না, সাথের দইগদর্শন যন্ত্রটি সেই বিস্ফোরনের সাথে কোথায় যেনো উড়িয়া গিয়াছে, এক স্থানে দেখিলেন ধোঁয়া উঠিতেছে মৃদু, তিনি সামান্য আড়াল রেখে এগিয়ে যান সেখানে, গিয়া দেখনে একদল সবুজমানব উদ্দাহূ নৃতয় করিতাছে, তাহাদের সামনে বন্দি অবস্থায় রহিয়াছে ভুপেন, উপেনকে চক্রাবাহী একটি বিছানায় শোয়ানো হইয়াছে, তাহার হাত পায়ের অনেকাংশ ছড়ইয়া গেছে, রক্তক্ষরণে দূর্বল উপেন খিলেন, বাপু সবুজ মানুষের ছা, বড্ড তেষ্টা পাইয়াছে, একটু বারি দাও।
সবুজ মানুষের সামনে রাখা চতুষ্কোন যন্ত্রে টেককা টেককা টরে টরে আওয়াজ হয় এবং একটি সবুজ মানুষ একটি লৌহ শলাকা দিয়া উপেনের পিঠে কষে ঘা বসিয়ে দেন।

পরবর্তি অংশ জানতে চাইলে আমাকে জানাবেন, সময়ের অভাবে সম্পুর্নটা লিখিয়া দেওয়া সম্ভব হইলো না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×