আমাদের প্রিয় ভাইবোনেরা সবাই তাওরাতে বিশ্বাস করেন, বিশ্বাস সবচেয়ে উন্নত বিষয় আমার হবু শ্যালক এক মন্তব্যে বলেছে, বিশ্বাস সব সময় যুক্তির উপরে থাকে, যুক্তি দিয়ে সব হয় না কিন্তু বিশ্বাস দিয়ে হয়ে যায়। একটা ছোটো গল্প মনে পড়লো, এক দম্পতি খুব ধার্মিক, পর্দানশিন, কোমলভাষি, সদাপ্রভুর ধ্যানে মগ্ন, জীবে প্রেম করে, অহেতুক মিথ্যা বলে না এবং বিশ্বাস করে ইশ্বর চাইলেই সব হয়। তাদের বিবাহ হয়েছে 5 বছর হলো কিন্তু কোনো সন্তান হয় না, তারা খোদার দরবারে 4 হাত তুলে প্রার্থনা করে - প্রভু ভক্তহৃদয়ের বাসনা শুনো, আমাদের একটা সন্তান দাও যে তোমার প্রার্থনা করবে, আমরা তোমার আশায় বসে আছি। প্রার্থনা করছি প্রভু একটা সন্তান দাও।
সন্ধ্যা বেলা ঘরে ফিরে তারা প্রার্থনা শুরু করে, মধ্যরাত পর্যন্ত প্রার্থনা, এর মাঝেই খাওয়া দাওয়া করে তারা, আরও এক বছর যায়, কোনো সন্তান নেই, ভক্ত হৃদয়ে হতাশা বাড়ে, অবশেষে এই হতাশা অভিযোগে রূপান্তরিত হয়, সদাপ্রভু তার উদ্যানের বৈচি গাছের তলায় বসে সকলের প্রার্থনা শুনেন, সেখানে এক দিন এই স্বর আসে, আমরা 7বছর প্রার্থনা করছি একটা সন্তানের জন্য যেই সন্তান তোমার প্রার্থনা করে আমাদের মুখ উজ্জল করবে, কিন্তু তুমি আমাদের কথা শুনলে না প্রভু, সদাপ্রভু তদন্তের জন্য 3 জন দেবদুতকে পাঠালেন ইবাদাতকারির গৃহে, তারা 1 সপ্তাহ নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করলো সদাপ্রভুর নিকট-
অবশেষে সদাপ্রভু জিব্রাঈলকে পাঠালেন তাদের গৃহে-
জিব্রাঈলের গাল লাল লজ্জায়, তার সবুজ শরীরে লাল মুখ বাংলাদেশের পতাকার মতো, মিন মিন করে বললো জিব্রাঈল, সদাপ্রভু কৌমার্যব্রত নিয়েছেন তিনি এখন আপনাদের সন্তান দিতে পারবেন না, যদি সন্তানবাসনা থাকে তবে ইশ্বরের বানী হলো, ইশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে, সারারাত প্রার্থনা না করে মাঝে মাঝে মিলিত হলে এত সময় লাগতো না,
ইশ্বর অনেক নয় ছয় করে যীশুর জন্মের পর লজ্জায় পৃথিবীমুখো হন নাই, এই পৃথিবীতে তার অসংখ্য সন্তান থাকলেও তার প্রথম সন্তান আদমকে তিনি জন্ম দিয়েছিলেন গর্দভরে গর্ভে, তাই তার কামনা বাসনা এমন প্রবল ছিলো, স্বর্গের পরিবেশ দুষনের দায়ে তাকে স্বর্গ থেকে বহিস্কার করা হয়, এর বিশদ বৃত্তান্ত পাওয়া যাবে মুখফোড়ের ওখানে, ও ধারাবাহিক ভাবে আদমের স্বর্গজীবন নিয়ে লিখছে, যাই হোক মোদ্দা কথা হলো গর্দভের গর্ভে জন্মানো আদম স্থানকালপাত্রবিবেচনা না করেই উপগত হইতো, জনসমক্ষে যৌনবিহার নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছিলো ইকো পার্কে, সেখানে ইভকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলো আদম, ওখানে কদলীবৃক্ষের সুঠাম শরীর দেখে আদমের ভিতরে কি যেনো একটা হয়ে যায়, সে উশখুশ করিতেছিলো, কিন্তু টসটসে আপেল ঝুলতে দেখে আদম ইভের দিকে তেছরা চোখে তাকালো এবং আদমের ভিতরে কামনার বান বয়ে গেলো, পার্কের অধিকারি তাকে গ্রেফতার করে সদাপ্রভুর ঐখানে নিয়া আসে এবং সদাপ্রভু কঠিন স্বরে বলেন এই হইলো তোমার ডিটেনশন নাম্বার ওয়ান, এর পরও যদি বার তিনে তোমার নামে শৃংখলা ভঙ্গের অভিজোগ আসে বাছা তবে তোমার স্বর্গবাস শেষ, আমি নীচে নতুন একটা বগিচা তৈয়ার করিয়াছি নন্দন কাননের অনুরূপ সেখানে বিভিন্ন প্রজাতিকে বসবাস করিতে পাঠিয়েছি, কিন্তু তারা নাফরমান, আমার কথা স্মরণ করে না, আমি এই পর্যন্ত পঞ্চদশাধিক কাল ইহার অধিবাসিদের সম্পুর্ন ধ্বংস করিয়াছি, সেই দুষিত পরিবেশে যাওয়ার বাসনা না থাকিলে যেখানে সেখানে যৌনবিহার পরিত্যাগ করো বৎস।
আদমের মনে কি ছিলো তা জানি না, কিন্তু বর্তমান গল্পের পটভূমি তাহার আগের সময়ের।
তাওরাতের গল্প: মহাবিশ্বের সৃষ্টিঃ মহাবিশ্ব এবং পৃথিবী সৃষ্টির দ্্বিশস্রাধিক বৎসরপূর্বে ইশ্বার মাত্র 7টি বস্তু সৃষ্টি করিয়াছিলেন, তাওরাত যা কালো আগুন দিয়ে সাদা আগুনের উপর লিখিত হইয়াছিলো, তাহার আরশ, তাহার ডান পাশে স্বর্গ এবং বাম পাশে নরক, সম্মুখে পবিত্র শরণস্থল, যার উপরে মুসার নাম লিখিত, এবং একটি স্বর যা বলিতঃ তোমরা ইশ্বরের নিকট প্রত্যাবর্তন করো,
যখন ইশ্বর মনস্থ করিলেন তিনি মহাবিশ্ব তৈয়ার করিবেন তিনি তাওরাতের সহিত পরামর্শ করিলেন,
তওরাত নতুন কিছু সৃষ্টির কার্যে তাকে নিরূৎসাহিত করার চেষ্টা করেন, ইশ্বর মানুষ সৃষ্টি করিতে চাহিয়াছিলেন তাওরাত তাহাকে বলিল মানুষ পাপপ্রবণ, সুতরাং ইহাকে তৈয়ার করিয়া কি হইবেক, উহারা আপনার নাম স্মরণ করিবে না , নিজদিগের ভিতর বিবাদ করিবে, যাহাই হোক পুরুষ কখনই নারীর সদুপদেশ শুনে নাই, তাই ইশ্বর মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে উদ্যত হইলেন,
এবং এটাই এই রচনার মূল কথা, আরবি ভাষার বর্ণমালার একটা পৌরানিক গল্প, আমি অন্য একটা বিশ্লেষন পড়েছিলাম, ওটাও বেশ আমোদক ছিলো তবে ইহার মজাই অন্য রকম।
ইশ্বর যখন তার স্বর দিয়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করিবেন বলিয়া মনস্থ করিলেন, তার মুকুটে লিখিত 22 বর্ণের বর্ণমালা, তাহাকে পরিবেষ্ঠন করিলো।
প্রথমে আসিল তোয়াহ, আমার দ্্বারাই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করুন প্রভু, আমাকে দিয়েই তাওরাত শুরু হয়, তাওরাতে লিখিত আছে মুসার হাত দিয়াই মানবজাতির পাপস্খলন হইবেক, ইশ্বর বলিলেন, না।
কারন আমি ভবিষ্যতে তোমাকে স্থাপন করিবো মানুষের ললাটে মৃতু্যর চিহ্ন হিসাবে, ইহা শুনিয়া তোয়াহ তৃপ্ত মুখে চলিয়া গেলো।
সামনে আসিলো শীন, ইশ্বর আমার দ্্বারাই তবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করুন, আপনার নামের প্রথম অক্ষর আমি, ইশ্বর খিলেন, তোমাকে দিয়ে মিথ্যা, ছল কপটতাজাতিয় শব্দও শুরু হইয়াছে, তাই তোমার যোগ্যতা নেই।
অতঃপর আসিলো রে, ছল শুরু হইয়াছে রে দ্্বারা তাই রে য়ের প্রার্থনা মঞ্জুর হইলো না,
এর পর আসিলো ক্বফ, যোয়াদ, ফে , আয়েন, শোয়াদ, নুন আসিলো অতঃপর, বলিলো, হে ইশ্বর নুর অর্থ্যাৎ ইশ্বরের প্রদীপ যা বিশ্বাসিদের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করে ওটা শুরু হইয়াছে আমাকে দিয়ে , সুতরাং আমাকে দিয়ে মহাবিশ্ব শুরু করিয়া আমাকে সম্মানিত করা হউক, ইশ্বর খিলেন অবিশ্বসিদের আলোও তোমাকে দইয়াই শুরু হইয়াছে,
মিম আসিলো অতঃপর, মালিক অর্থ্যাৎ সবার সম্রাট, আপনার নাম শুরু হইয়াছে আমাকে দিয়া, আমাকে দিয়া মহাবিশ্ব সৃষ্টি করিয়া আমাকে সম্মানিত করুন,
ইশ্বর কহিলেন মেহমুয়াহ অর্থ্যাৎ বিভ্রান্তিরও শুরু হইয়াছে তোমাকে দিয়া, সুতরাং তুমি এর যোগ্য নও।
লামের আবেদনও গৃহীত হইলো না, ক্বাফের আবেদনও অগ্রাহ্য হইলো,
ইয়াহ সামনে আসিলো, তাহার আবেদনও গৃহীত হইলো না, তে আসিলো সামনে তাহার আবেদনও অগ্রাহ্য হইলো, হে আসিয়া কহিলো মহাপ্রভু , মহাহৃদয় শব্দের শুরু আমাকে দিয়ে, হাকিম শব্দের শুরু আমাকে দিয়ে, আপনি আমাকে গ্রহন করেন,
গাঈনের আবেদনও গৃহীত হইলো না, তদ্্রুপ গৃহীত হইলো না দ্্বালের আবেদন,
অতঃপর সামনে আসিলো বে, তার মধুর ভাষন শুনে মুগ্ধ হইলো ইশ্বর, এবং উহাকে দিয়াই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করিলেন তিনি।
একটা মাত্র বর্ণ যা কোনো রকম দাবি জানায় নি, সেই নম্র, বিশিষ্ঠ আলিফকে বর্নমালার প্রথম হিসেবে সম্মানিত করিলেন ইশ্বর।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



