সবাই ঘটা করে শতক বক্তৃতা দেয়, আমিও কয়েক খন্ডে শতক বক্তৃতা দিবো ঠিক করেছি, তবে কিছু কথা না বললেই নয়, আমি লিখি আমার আনন্দে, কেউ পড়লো কি পড়লো না, এইটা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথ্যা নেই, মন্তব্য, প্রশংসাবানী যা পেয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি, উল্কার ছাই আমি, কোনো এক কালে নিয়মিত চর্চা ছিলো সাহিত্যের এখন তেমন মানসিক শক্তি নেই, আর বড় মাপের লেখা লিখতে অনেক পরিশ্রম, আন্দালিফের গদ্য লিখতে গিয়ে বুঝছি বিষয়টা গোদের উপর বিষ ফোড়ার মতো হয়ে যাচ্ছে, যদিও এখানে আমার কবিতা দেওয়া হয় নাই তেমন, মানে আমি যেগুলোকে কোনো এক কালে কবিতা বলতাম তেমন কবিতা এখানে দেওয়া হয় নি, আজ কয়েকটা কবিতা দিবো, অনেক দিন আগে লেখা কবিতা, তখন ভিতরে রোমান্টিসিজম ছিলো, যাকে বলে বুক ভরা প্রেম ভালোবাসা, এবং সাথে একটা প্রেমিকা ছিলো, যাকে কল্পনায় নির্মান করেছিলাম, অনেক অনেক দিন ধরে নির্মিত সেই প্রেমিকার প্রতি কাতরতা স্পষ্ট হয়ে গেলো, যা কখনই প্রকাশ করতে চাই নি সেসব গোপন প্রেমের দলিল ঘাটাঘাটি হয়ে গেলে কারও এই মুহূর্তে ক্ষতির কোনো সম্ভবনা নেই, আমরা সেই সব বিপজ্জনক দিন পার হয়ে এসেছি।
এটা 99 এ লেখা একটা কবিতা-
শিরোনাম ছিলো, নাকি আমার ওসব ইচ্ছে হতেও নেই
আমারও তো ইচ্ছে করে
তুমি আমার পাশেই বসো
চুপটি করে।
গেরস্থালীর ফাঁকে ফাঁকে হঠাৎ উঠে
চালধোয়া হাত গন্ধ লাগাও
আমার ঠোঁটে।
ইচ্ছে করে সবটা সময় কুনসুটিতে
মেতেই থাকি তোমায় নিয়ে
দিনে রাতে
মান অভিমান রাগ অনুরাগ
সবটা নিয়ে
তুমি আমার পাশেই থাকো
আমার হয়ে।
তোমার কাছেই বেড়াতে আসি
তোমার বুকেই শীতল পাটি
বিছিয়ে বসি
ইচ্ছে করে তোমার চুলে
হরেক রকম মেঘের আলো
সাজিয়ে দেই সন্ধ্যে হলে।
দিনে রাতে এমন ওমন
ইচ্ছে করে নানা রকম
ইচ্ছে করে এটুকুই
শুধু আর কিছু নয়
নাকি আমার ওসব ইচ্ছে হতেও নেই ।।
পরবর্তি কবিতার বিষয়বস্তু খুবই সামান্য, আমার চমৎকার একদল বন্ধু আছে যাদের সবাই সেন্ট গ্রাগরির ছাত্র, সে সুবাদে ওদের স্কুলে অনেক দিন বিকালে গিয়ে খেলাধুলা হয়েছে, সেখানে একটা চার্চ আছে, কোনো এক দিন বিকালে আমি সেই চার্চে বসে ছিলাম, সেখান থেকে প্রার্থনার আগে আগে আমাকে চলে যেতে বলা হয়, মর্মাহত হয়েছিলাম,
গীর্জার উঁচু ছাদ
বাইবেল, ক্রুশবিদ্ধ যূশুর স্মিত হাসি
প্রণত নান
প্রার্থনারত রূপসী তরুনী, জানলাগলে আসা বিকেলের
একটুকরো বিহবল রোদ
আর একজন সংকীর্ন মানুষ.........
উপাসনালয়গুলো সব তাদের দখলে
তারা, ধর্মের বোসাতি করে যারা
যারা মানুষের মধ্যে
গড়ে তুলে বিচ্ছিন্নতার প্রাচীর
যারা মানুষের মধ্যে গড়ে তুলে
কখনও জাতিয়তা, কখনও ধর্ম
কখনও বা দেশ কাল ভূমির প্রাচীর.....
অকস্ম্যাৎ গীর্জার উঁচু ছাদ
স্পর্শ করে ভূমি
প্রণত নানা
প্রার্থনারত রূপসি তরূনী
বাইবেল
ক্রুশবিদ্ধ যীশুর স্মিত হাসি
আর বিকেলের সাহসি রোদ্দুরের উপর
জমাট অন্ধকারের থাবা
ক্রুশবিদ্ধ ইশ্বরের ক্রান্দন
স্পর্শ করে আমি চিৎকার করে বলতে চাই
" আমিও মানুষ
আমার কোনো ধর্ম নেই
জাতিয়তা নেই
দেশ নেই
আমি নির্বাসিত একজন মানুষ
শুধু এক জন মানুষ.......
আমার আশ্রয় নেই
আমার উপাস্য নেই
আমার সব আলো চুরি গেছে
আজ এ মুহূর্তে আমি নিঃস্ব
আমার দেবার মতো কিছু নেই
মানুষ সংকীর্নতায় অবরূদ্ধ করেছে আমাকে
আমার জন্মপত্রে লেখা বাবার নাম
আমার নামের আগে জুড়ে দেওয়া এক টুকরো শব্দ
আমার ইশ্বর
এ মুহূর্তে বন্দ ী....
সংকীর্ন মানউষ আমার শুভ্রতা
আমার শুন্যতা
সব কিছুই নিজের ভিতরে লুকিয়ে রেখেছে
আমি ক্রুশবিদ্ধ ইশ্বরের ক্রন্দন
স্পর্শ করে বলতে চেয়েছি
ধর্ম কিংবা জাতিয়তা
ভাষআা কিংবা সংসক্বরতি
কখনই বিচ্ছিন্ন করতে পারে না
মানুষের কাছ থেকে মানুষকে
রক্তের ভেতর থেকে রক্তকে
বিচ্ছিনণ করতে পারে না
পাখীর আকাশ আর মাঠে র বাতাস
গন্ধ আর আলো
কখনও বন্দি থাকে না
মানুষের হাহাকার
মানউষের আর্তনাদ
মানুষের ইশ্বর
মানুষের মধ্যে মিশে থাকে
কেউ আলাদা করতে পারে না কখনও..
আজ আমি ফিরে যাবো ফিরে যেতে হবে
আবু আবার ফিরে আসব একডিন
সবকিছু বদলে দেওয়ার সময় এসেছে
রক্তের ভেতর থেকে আবর্জনা
উচ্ছারনের ভেতর থেকে দ্্বিধা
সংস্কৃতির ভেতর থেকে সংকীর্নতা
আলোর ভেতর থেকে লুষতা
উপড়ে দেবার সময় এসেছে
তাই
এ মুহূর্তে যখন
গীর্জার উঁচু ছাদ স্পর্শ করেছে ভূমি
প্রণত নান
প্রার্থনারত রূপসী তরূনি
শেষ বিকেলের একটুকরো
বিহবল সাহসী রোদ্দুর
আর একজন সংকীর্ন মানুষ
গীর্জার ঘন্টাধ্বনির অসম্ভব অনুরণন
ক্রুশবিদ্ধ ইশ্বরের কানে
ইশ্বর জেগে উঠেন
ইশ্বর নেমে আসেন মানুষের উঠোনে
এটুকুই সত্য
বাকি সব কথার ফানুস
রোদ্দুরে অন্ধকার থাবা
কড়িকাঠে ঝোলে ইশ্বরের ক্রুশ .......
যাই হোক সবার মতো এত সাবলীল বক্তিমে দেওয়ার ক্ষমতা নেই, যারা এ পর্যন্ত পড়েছে ধৈর্য ধরে তাদের অভিনন্দন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



