somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়নাল পরিচয় পর্ব

২১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেড়া যখন ক্ষেত খায় তখন পাহাড়ার প্রয়োজন কি বলেন? প্রশ্নটা শুনে বুঝতে পারলাম না কিছুই, জয়নালের কথাগুলো মাঝে মাঝেই স্বগতোক্তি মনে হয় আমার। জয়নালের হাতে খবরের কাগজ, তার পেছন দিয়ে ধোঁয়া উঠছে, বললো, নাহ আজকের পেপার পড়ছেন? লিখছে সেন্ট্রাল জেলে নাকি মাদক ব্যাবসা চলে, ওখানে নাকি সব এক নম্বর মাল পাওয়া যায়, তা অপরাধিদের সংশোধনের জন্য জেলখানা কিংবা অপরাধীদের সমাজ থেকে আলাদা করে রাখার জন্য জেলখানা?
আমরা কেনো জেলখানা বানিয়েছি? প্রশ্নটা সরল, কিন্তু উত্তরটা কি হবে তা আমার নিজেরও জানা নেই সঠিক, জেলখানার পরিবেশ মানুষকে অপরাধপ্রবন করে তুলতে পারে, যদি মানুষকে কারাগারে রাখার উদ্দেশ্য হয় সে কারাগারে থাকার সময় নিজস্ব কৃত কর্মের জন্য অনুশোচনা করে নিজেকে সংশোধন করে সমাজের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিবে তবে বাংলাদেশের কারাগারে এমন শোধন সম্ভব হবে না। ধারনক্ষমতার চেয়ে বেশী অপরাধী সেখানে, জীবনের নু্যনতম প্রয়োজংুলো মিটলেই কি সব হয়? মানুষতো একেবারে পশুপর্যায়ভুক্ত না, তার বিনোদন, সংস্কৃতির চর্চা এবং মননশীলতার চর্চা তাকে পশুসমাজে আলাদা একটা অবস্থান দিয়েছে, কিন্তু ভেতরের পশুত্ব প্রকাশিত হলে আমরা তাদের আলাদা করে খোয়ারে ভরে রাখি, এ জন্যই কারাগার ব্যাবস্থা?
জয়নালকে বললাম, তোমার অভিজ্ঞতা আছে নাকি চৌদ্দ শিকে থাকার?
আমি যেই ব্যাবসা করি তাতে মাঝে মাঝে যেতে ই হয় লাল দালানে কিন্তু এখনও ব্যাকিং আছে ভালো তাই বেশী দিন থাকতে হয় নাই, মাঝে মাঝে বাজার গরম বুঝলে নিজেই চলে যাই, আমাদের মতো মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা কারাগার। তবে প্রথম বার যাওয়ার পর বেশ কষ্ট হইছিলো, যাউকগা ঐসব কথা কইয়া লাভ নাই, আপনি কি এই খানেই থাকবেন? আমি একটু মোহাম্মদপুর যামু, কাম আছে,
ঠিক আছে যাও ।
জয়নাল যাওয়ার পর আসলেই আমার তেমন কোনো কাজ থাকে না, জয়নালের সাথে আমার পরিচয়ের সূত্র এক বন্ধুর বন্ধু,সেবার উত্তরা ক্লাবে খুন হলো একজন, তার পেছনে ক্ষমতাসীন এক মন্ত্রিপূত্রের হাত আছে, এমন জনরব, সেই মন্ত্রিপূত্র উত্তরার একটা মাঠ দখল করে রাতারাতি বাজার বসিয়েেিছা,চাঁদা সংক্রান্ত বিরোধে সে এই খুন করেছে, আমি উত্তরায় গিয়েছিলাম সরোজমিন তদন্ত করতে, রাজলক্ষি কমপ্লেক্সের সবাই বোবা, কেউ কোনো কথা বলে না, কথা বলে না উত্তরা ক্লাবের অন্য সব সদস্য, সেখানে ক্লাব টেন্টে থাকা ছেলেরাও কেউ কিছু জানে না, কি এমন ভয়ের রাজত্ব এখানে, কেউ সত্য উচ্চারন করতে সাহস পায় না, মন্ত্রিপূত্রের এমন দাপট? আমার এক বন্ধুর াফিস ছিলো বনানী, সেখানে গেলাম দুপুরে, অনেক দিন পর দেখা, ভালোই একটা অফিস সাজিয়ে বসে আছে, সফটওয়্যার ফার্ম সাথে আরও কি সব এক্সে সরিজের ব্যাবসা। ভালোই চলে মনে হয়।
আমাকে দেখেই বললো আবে হালায় ব', কোনো কামে আইছিলি এই দিকে নাকি হবাহবাই আইছস,
আসছিলাম উত্তরা ক্লাবে যে এক পোলা খুন হইলো ঐ বিষয়ে।
আবে হালায় হিসাবতো বরাবর দীপু চৌধুরি মারাইছে ওরে, মালপাত্তি নিয়া গেঞ্জাম, এইটা কওনের কথা? ওরে সবাই মাইপা চলে, এখন ওর হেভী পাওয়ার, বাপে মন্ত্রি হইছে, আইন আদালত হালায় পকেটে নিয়া চলে।
তোরে এক পোলার নাম্বার দিটাছি দীপুর লগে পড়তো স্কুলে, ওর লগে কথা কইয়া দেখ কিছু বাহির হয় কিনা।
হালায় আমারেও নোটিশ দিছে, 30 হাজার চান্দা দেওন লাগবো এই খানে ব্যাবসা করতে হইলে। হালায় টেকা কি বলদের পুটকি দিয়া পড়ে? যাউকগা তুই একটু খোজ খবর নিয়া রিপোর্ট লেখ, কিছু হইবো না জানি তারপরও একটু সান্তনা আর কি।
আমি বিকালে সেই ছেলের সাথে যোগাযোগ করি তার অফিসে। চমৎকার সাজানো েগোছানো অফিস। ডিশের লাইনের ব্যাবসা। কয়েকজন পার্টনার নিয়ে চালায়। তার কাছেই শুনলাম সামনের একটা হোটেলে সুব্রত বাইন, শুভ্র, সগির, সবাই আড্ডা দেয়, মোহাম্মদপূর থেকে এই দিকে কেউ আসে না এখন, ঐ দিকের ক্যাডারদের সাথে এদের গেঞ্জাম চলতেছে এখন, ওর কাছেই শুনলাম জয়নালের কথা, বললো এই ছেলেটার কাছে আরও খবর পাবেন, ভালো ছেলে নতুন আসছে এই লাইনে কিন্তু শার্প পোলা। সব দিক হিসাব করে চলে। কারো সাথেই বড় কোনো ঝামেলায় নাই। অবশ্য এরা নিজেরা নিজেরাই এলকা ভাগ করে নিছে, কেউ কারো এলাকায় যেয়ে কোনো গেঞ্জাম করে না। সেই হোটেলে গেলাম সন্ধ্যায়, কোনার টেবিলে বেশ ক'জন বসে আছে, তাদের তোয়াজ করছে সব বয় বেয়ারা। আমার হাসি লাগছইলো এটা ভেবে যে এখানে যে কয়জন আছে তাদের নাকি পুলিশ খুঁজে পায় না। তারা আত্মগোপন করে আছে পুলিশের ভয়ে।
আমার ধারনা পুলিশ সব জানে, কে কোথায় আড্ডা দেয়, কার কোথায় গোপন ঠেক আছে, কিন্তু পুলিশ ভদ্্রলোক, এদের ঘাটায় না, এরাও পুলিশদের ঘাটায় না, শান্তিপূর্ন সহাবস্থান যাকে বলে।
জিগাতলায় একজন সন্ত্রাসি নিহত হওয়ার পর এই বিষয়ক উন্মাদনা কমে যায়, মানুষের মনোযোগ এই আকাশ সংস্কৃতির যুগে খুব দ্্রুত পালটায়। একটা ক্লিকেই যেখানে নতুন একটা চ্যানেলে চলে যাওয়া যায় সেখানে দৈনিকের ধারাবাহিক অপরাধ প্রতিবএদন শুধুমাত্র সাংবাদিকদের পেটের রসদ, এমন কি এত খেটে করা রিপোর্টগুলো দেখেও পুলিশ কোনো ব্যাবস্থা নিবে না, কেউই স্পষ্ট করে রিপোর্ট লিখে না, সবারই প্রাণের মায়া আছে, জনৈক প্রভাবশালী সাংসদের পূত্র জড়িত এমন কথা পেপারে পাওয়া যাবে কিন্তু একেবারে তথ্যনির্ভর স্পষ্ট কথা লেখার মতো দৈনিক নেই, সবাই রাজনৈতিকদের আনুকল্য চায়, কেউই তাদের ঘাটাতে চায় না, এই সাংসদপূত্রেরা সব দেশের অঘোষিত রাজপূত্র, রাজাধিরাজ সব,
জয়নালের চেহারায় কোনো ভয়ংকর ভাব নেই, একেবারে সাদামাটা চেহারা। পাশের বাসার ছেলের মতোই সাধারন, তার কথা যেমন শুনি ঠান্ডা মাথার খুনী, ভাড়াটে খুনী ভাবটাই নেই ওর মধ্যে, অবশ্য কেউ যদি ভাবে আমি প্রতিদিন সকালে এসব ভারাটে খুনীর সাথে প্রাতঃরাশ সারি তাহলে ভুল হবে, আমার ধারনা ছিলো যারা ভাড়াটে খুনী তাদের চেহারায় একটা নৃশংস ভাব থাকবে, একটু ডাকাবুকো ভাব যাকে বলে, কিন্তু জয়নালের চেহারা দেখে আমার সেই প্রত্যাশার বেলুন চুপসে যায়।
অফিস থেকে দায়িত্ব দেয় নি, আমি নিজেই ভাবি একটা প্রতিবেদন লিখবো এই সব তথাকথিত আন্ডার ওয়ার্লডের লোকদের নিয়ে, তাদের জীবন যাপনের কথা লিখবো, তারা কোন উপায়ে এখনও পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছে, তাদের ক্ষমতার নেপথ্য উৎস করা, কারা তাদের ব্যাবহার করে, তাদের সেবা নিয়মিত ক্রয় করে কারা।
জয়নালের সাথে দেখা হওয়ার পর ওর কাছে এসব জানতে চেয়েছিলাম, বললো, সব খবর জাইনা কি করবেন, এই খবরতও সকলেই জানে, কে কোন থানায় কত নাজরানা দেয় এই হিসাব পাবেন আপনি থানার ওসিদের কাছে, পুলিশের আই জি কোথা থেকে টাকা পায়, এইসবতো গোপন বিষয় না, সবাই জানে, সবাই বুঝে, কেউ কথা বলে না, বাংলাদেশের রাজনীতির প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মানানসই এই ছবি, তাই এর ব্যাতিক্রম হলেই সেটা খবর হয়।
আপনি অবশ্য একটা কাজ করতে পারেন, সৎ পুলিশ অফিসারের একটা তালিকা তৈরি করেন, প্রতি সৎ পুলিশ অফিসারের জন্য 10 হাজার টাকা পুরুষ্কার। আপনার পুরুস্কারে অংক কত হবে এটা বলেন?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***


রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।

জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির যারা আজ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কথা ভাবছেন...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০


১. শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার বলেছেন, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর ছিলেন, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। এমনকি তাকে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও বলতেন…
২. খালেদা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধন্যবাদ ড. ইউনূস। আপনিই দেখিয়ে দিলেন।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হাসিনা বিগত ৩টি নির্বাচন এমনভাবে করেছিল যে সেখানে কোন নাগরিককে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হতোনা। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগের দিন হয়েছে অথবা তাহাজ্জোত পড়ে হয়েছে। এই আগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাবেন না, প্লিজ!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৭



জনাব তারেক রহমান,
আসসালামু আলাইকুম।

আমি প্রথমেই জানাতে চাই, ভারতের সাধারণ জনগণের সাথে বাংলাদেশের মানুষের কোন বিরোধ নেই। ঐ দেশের সাধারণ জনগণ আমাদের সাথে শত্রুতা পোষণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজাকারনামা-২ (অপরাধির জন্য আমাদের,মানবতা ! বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!)

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৫



সনজীদা খাতুন তখন ইডেন কলেজে কর্মরত ছিলেন । ইডেনের মেয়েরা 'নটীর পূজা' নামে একটা নাটক করেছিলো। সেই নাটকে একেবারে শেষের দিকে একটা গান ছিলো। তিনি ছাত্রীদের সেই গানটা শিখিয়েছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×