somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাঁটুর ব্যথায় হাঁটুন

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৬:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাঁটুর ব্যথা মানেই কি বাত? নাকি আর্থ্রাইটিসের সমস্যা? অন্তত ২৮-এর যৌবনে হাঁটুর ব্যথা এমনই চিন্তাদায়ক হয় বইকি। হাঁটু-কোমরের ব্যথা এখন বয়সের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেভাবে সর্বজনীন হয়ে পড়েছে, তাতে এহেন চিন্তা খুব অলৌকিক নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে বেশি চিন্তা না করে এক্সারসাইজ করা ভাল। দৌড়সর্বস্ব জীবনে যেভাবে কায়িক পরিশ্রম কমছে, তাতে শরীরের নানা অংশে এমন ব্যথা হামেশাই দেখা দিচ্ছে। প্রথমেই অপারেশনে না গিয়ে বাড়িতেই নানা এক্সারসাইজে, বা সামান্য হাঁটাহাঁটিতে সারতে পারে হাঁটুর ব্যারাম। ডাক্তাররা বললেন, খানিক ফিজিওথেরাপি আর নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম হাঁটুর ব্যথা কমিয়ে, জয়েন্ট মাসলও একেবারে টানটান করবে অল্প সময়ের মধ্যেই।

প্রাত্যহিক দিনের স্ট্রেচিং বা ফি-হ্যাণ্ড হাঁটুর ব্যথায় খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফাস্ট ফুডের অপকারিতা আর দিনভর কম্পিউটারনির্ভর জীবনে, মাসল অকেজো থাকতে থাকতে ব্যথা করে। হাঁটু ব্যথা মানেই আর্থ্রাইটিসের ভয় সব সময় থাকে না। আর প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে হালকা ফিজিও আর দরকার ব্যায়াম। 'পেন কিলার দিয়ে ব্যথা সারাবার চেষ্টা করবেন না। পেন কিলারে সময় নষ্ট হলে আমাদের কাছে আসেন অনেকে। তখন অপারেশন ছাড়া আর উপায় থাকে না। আর হাঁটুর জয়েন্ট পেন তো আকছার হচ্ছে সব বয়সের লোকের। প্রথমেই বলি, সোজা, সুঠাম হাঁটতে হবে। নিয়মিত কেউ যদি অন্তত আধ ঘন্টা চিন্তাহীন সোজা পা ফেলে হাঁটেন, তাহলেই তিনি লক্ষ্য করবেন যেকোনো জয়েন্ট পেন কীভাবে সেরে যাচ্ছে। আর যাদের ইতিমধ্যেই ব্যথা শুরু হয়েছে, তারা আর্থ্রাইটিসের ভয়ে অপারেশনে ঝুঁকবেন না। অধিকাংশেরই আর্থ্রাইটিস হয় না। আমরা কিছু ফিজিও থেরাপি রেকমেন্ড করি। সেশন শেষ হয়ে গেলে সামান্য ব্যায়াম করুন। নির্দিষ্ট ধরনের মাসল এক্সারসাইজ ছোটখাট ব্যথা সারিয়ে দেবে। বরং কয়েকদিন পর ফিল করবেন, পায়ের মাসল-জয়েন্ট শক্তিশালী হয়েছে', জানাচ্ছেন ডাক্তার চিণ্ময় রায়।

তবে এক্ষেত্রেও আরও কিছু সমস্যা থেকে যায়। বাড়িতে আলস্য নিয়ে অনেকেই ব্যায়াম করতে চান না বলে জিমে যান। সঠিন ট্রেনিং না পেলে হাঁটু জখম হবার চান্স বেশি। ডাক্তারের কথায়, 'জিমে অনেক সময় ভুল চার্ট দেয়া হয়। মানে ধরুন ট্রেডমিলে হাঁটার সঠিক মাপ আছে, বা সাইকেলেও নির্দিষ্ট সময়ই হাঁটা উচিত। অনেকেই আবার না জেনে ভাইব্রেটর নেন। সব কিছু মিলিয়ে হিতে বিপরীত হলে তখন অপারেশন ছাড়া গতি নেই। তাই একদম প্রফেশনাল জিমে যান, যেখানে সঠিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ট্রেনার আছে।’

যারা জিমে যেতে চান না তাদের জন্য বাড়িতেই হাঁটু সারানোর নানা ব্যায়াম মজুত- তা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরাই। প্রথমেই আসে চেয়ার স্ট্রেচিং। চেয়ারে বসে সামনে পা টানটান করে মেলে দিন। একটু মাটি থেকে তুলে ৫-১০ সেকেন্ড রাখুন। দিনে ৪-৫ বার করুন। হিল সাইড নি-এক্সটেনশনও খুব উপকারি। উপুড় হয়ে শুয়ে একদিকের পা একবার ভাঁজ করুন। অন্য পায়ের গোড়ালি সামান্য একদিকে কাত করুন। ১০ সেকেন্ড রেখে আবার উল্টো পায়ে করতে হবে। হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচিং মূলত কমবয়েসীদের জন্য। সোজা দাঁড়ান। এক পা তুলুন। পায়ের পাতা সোজা থাকবে। এই অবস্থায় পিঠের দিকে তাকাতে চেষ্টা করুন। ব্যালেন্স রাখতে দেওয়ালের সাহায্য নিতে পারেন। এটাও ১০ সেকেন্ড করে তিন সেট করবেন।

একটু কঠিন এক্সারসাইজের উপকারিতাও বাড়িতেই নেওয়া যায়। ওয়াল সাইড যেমন। দেওয়ালে পিঠ রেখে হাঁটু ৩০ ডিগ্রি ভাঁজ করে রাখুন ১ মিনিট। এভাবে তিন সেট। বেন্ট লেগ রেজ করতে পারেন। চেয়ারে সোজা বসে, হাঁটু না ভেঙে যতটা পারেন ওপরে তুলুন। এক মিনিট রাখবেন প্রথম দিকে। তারপর যত বাড়ানো যায়। স্ট্রেট লেগ রেজে দুটো চেয়ার লাগবে। একটায় বসে অন্যটায় পা তুলে দিন। অন্য পায়ের পাতা সোজা রেখে সেই পাটা আকাশের দিকে তুলুন। ১ মিনিট রাখার চেষ্টা করুন। অন্তত তিন বার করবেন দু-পা বদলে। স্টেপ আপে চর্বিও ঝরবে। উঁচু সিঁড়ি বা চেয়ারে হাত রেখে হাফ বেন্ট হতে হবে। লাফিয়ে পা সামনে-পিছনে আনতে হবে। ১০ বার করে শুরু করুন। পরে ৩০ বার করবেন।

এছাড়া আছে জিম বাইক। হাঁটু অন্তত ১৫ ডিগ্রি মুড়ে এক্সারসাইজ করবেন। প্রথমে পাওয়ার থাকবে একেবার হালকা। পরে স্ট্রেংথ অনুযায়ী বাড়াবেন। বাড়াবাড়ি হবার আগে পেন কিলারে কাজ না সেরে এক্সারসাইজ যদি অপারেশনের খরচা বাঁচায় তাতে ক্ষতি কি? সোজা হাঁটা দিয়েই না-হয় শুরু হোক হাঁটুর ব্যারাম সারানো।

(সংগৃহীত)

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৬:২৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×