
আইন অন্ধ জানি, তবে আইন যে বাক প্রতিবন্ধী আজ তারও প্রমাণ হলো। গত ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪ কাপ্তাই উপজেলার ব্যাঙছড়িতে ৮ম শ্রেণী পড়ুয়া উম্রাচিং মারমা (ছবি) কে ধর্ষণ চেষ্টার পরবর্তী গলা কেটে হত্যা করে মানুষরূপী সেটালার বাঙালি নরপশু।
গত ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪ কাপ্তাই উপজেলার মুসলিম পাড়া থেকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোঃ রানা, মোঃ হোসেন, মোঃ নিজামউদ্দিন নিজাম'কে আটক হয় এবং কাপ্তাই থানার এসআই আসাদুজ্জামান জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেসময় আসামী মোঃ রানা হত্যাকাণ্ডের দ্বায় স্বীকার করলে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয় এবং ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪ নিজাম উদ্দিনকে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। পরবর্তীতে কাপ্তাই থানার এসআই কামাল উদ্দিন এর তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত মোঃ রানা ও মোঃ নিজামউদ্দিন নিজাম স্কুলছাত্রী ছবি মারমাকে জবাই করে হত্যা করার বিষয়টি স্বীকার করে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেওয়া হয়। এবং গ্রেফতারকৃত রানা রাঙ্গামাটি আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটি আদালতের আইনজীবী হ্লা থোয়াই মারমা।
মুসলিমপাড়া এলাকা জনৈক মাহতাব উদ্দিনের ছেলে আসামী মো.রানা জবানবন্দি অনুযায়ী-
ছবিকে একাকি পাহাড়ে কাজ করতে দেখে তাকে প্রথমে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে রানা। এই সময় রানা তার অপর বন্ধু নেজাম উদ্দিনকেও ডেকে নেয়। তারা দুইজন পরিকল্পনা করে একজনের পর একজন ছবি মারমা ধর্ষণ করবে। একজন যখন ধর্ষণ করবে অন্যজন তখন পাহারায় থাকবে। এই পরিকল্পনা মতে রানা প্রথমে ছবি মারমাকে পাহাড়ের ওপর ঝোঁপের মধ্যে নিয়ে যায় এবং নেজাম উদ্দিন তখন পাহারা দিতে থাকে। ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে ছবিকে ধর্ষণের চেষ্টা করতে থাকলে ছবির চিৎকার এবং বাধা দেওয়ায় ধর্ষণ করতে ব্যর্থ হয় রানা। এই সময় ব্যর্থ হয়ে পাহারায় থাকা নেজামকেও ডেকে নেয় রানা। এই সময় ছবিকে গলায় ধারালো দা ধরে রাখে একজন, অপরজন ছবিকে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টা করতে থাকে। ছবি মারমা বাধার কারণে গলায় দা ধরে রাখার পরও ধর্ষণে ব্যর্থ হয় ওই দুই তরুণ। তারা অনেক চেষ্টার পরও ধর্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক পর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে দেয় দুজন মিলে। ছবির মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে ঝোঁপের মধ্যে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় দুই তরুণ।
প্রসঙ্গত, সেই কাপ্তাই উপজেলার বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মী কংচ্যাই মারমা বরাতে জানতে পারলাম সেই হত্যাকান্ডের আসামী মোঃ নিজামউদ্দিন নিজাম আজ ০৫ এপ্রিল ২০১৬ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
আমি আইন বিশেষজ্ঞ নই তাই আইনের সঠিক ব্যাখা দেওয়াটাও আমার পক্ষে সম্ভব না। তবে আপনাদের সাধারন দৃষ্টিকোণে কি মনেহয়, মোঃ রানা ১৬৪ ধারা জবানবন্দী অনুযায়ী মোঃ নিজামউদ্দিন নিজাম কি এই হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্তটা নেই ? আর মোঃ রানা জবানবন্দী মোতাবেক মোঃ নিজামউদ্দিন নিজামের যদি সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে এই নিজাম কিভাবে জামিনে মুক্তি পাই ?
ধর্ষণ চেষ্টার পরবর্তী হত্যাকান্ডের আসামী যদি আইনের চাতুকারিতাই ফাঁকি দিয়ে জামিনে বেড় হয়ে আসতে পারে তাহলে সেই অন্ধ আইনের কি প্রয়োজন আছে(?)। রাষ্ট্রিয় আইনে তবে ধর্ষণ, হত্যাকান্ডকে বৈধ বলে নিবন্ধন জারি করে দিলেই তো হয়ে যায়। কি দরকার বিচার ব্যবস্থার। দিনের পর দিন বছর পর বছর এই বিচারহীনতা ও আইনের ফাঁক আছে বলেই পার্বত্য অঞ্চল এখন ধর্ষকের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। যদি এখনি এর ব্যবস্থা গ্রহণে কোন উদ্যোগ নেওয়া না হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যৎতে ধর্ষণ মহামারি আকার ধারন করবে সুনিশ্চিত।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


