somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই রিভিউঃ Playing It My Way

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


"ক্রিকেট" যদি একটা বইয়ের নাম হয়, তবে সেই বইয়ের সবচেয়ে মনোযোগী পাঠক শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। ২৪ বছরের "ক্রিকেটীয় জীবন" এ যিনি একের পর এক অবিস্মরণীয় কীর্তি করে গেছেন। মাঠে নেমে রেকর্ড ভাঙ্গাগড়াই ছিলো তাঁর প্রিয় কাজ। এই ২৪ বছরে কত রেকর্ড, কত ইতিহাস, কত অর্জন যে তিনি তাঁর নামের পাশে যোগ করেছেন, সেগুলো বলে আর কালক্ষেপণ না করাই ভালো।

যারা ক্রিকেটকে ভালোবাসেন, তারা অনেকেই শচীন টেন্ডুলকারের ফ্যান। তাঁর "ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান" হয়তো আমাদের অনেকেরই নখদর্পণে, কিন্তু ব্যক্তি শচীনকে আমরা কতটুকু চিনি? তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কতটুকুই বা ওয়াকিবহাল আমরা? মুখচোরা স্বভাবের এই মানুষটি মিডিয়ায় ক্রিকেটের বাইরে খুব একটা কথাও বলতেন না। সুতরাং, "ব্যক্তি শচীন " সম্পর্কে জানা একরকম দুরূহ ব্যাপারই ছিলো এতদিন। কিন্ত, শচীন রমেশ টেন্ডুলকারই এই দুরূহ ব্যাপারটাকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছেন তাঁর আত্মজীবনী "Playing It My Way" লিখে। ব্যক্তি শচীনকে জানার এক অপূর্ব সুযোগ এই বইটা।

বইটিতে লেখা কিছু ঘটনা এখানে সংক্ষেপে লিখে দিচ্ছি।

শচীন টেন্ডুলকার ছোটবেলায় বেশ ডানপিটে ছিলেন। তাঁর অত্যন্ত প্রিয় একটা কাজ ছিলো, ৪ তলার বারান্দা থেকে পথচারীদের মাথায় পানি ঢেলে দেওয়া, এক রবিবারে, আমগাছ থেকে আম চুরি করতে গিয়ে গাছ ভেঙ্গে পড়ে গিয়েছিলেন আমগাছের মালিকের ঘরের উপর, বাইসাইকেল না কিনে দেয়ায় জেঁদ করে ঘরের মধ্যে কাটিয়েছিলেন কয়েকদিন।

যখন কোচ রমাকান্ত আচরেকারের কাছে ক্রিকেট ট্রেনিং নিতেন, তখন প্রতিদিন শচীনকে সন্ধ্যাবেলা বাসে করে বাড়ি ফিরতে হতো। সারাদিন ট্রেনিং করার পর বাসে কোনোরকমে সীট পেলেই ঘুমিয়ে পড়তেন শচীন, সীট না পেলে দাঁড়িয়ে থাকতেন। সারাদিন ক্রিকেট ট্রেনিং করার ফলে শার্টে ময়লা লেগে থাকতো, তাই বাসে তাঁর পাশে অনেকেই বসতে চাইতোনা। হাতে বিশাল একটা কিটব্যাগ থাকতো, একারনে অনেক সময় বাসের হেল্পার তাঁর কাছ থেকে দ্বিগুন ভাড়া চাইতেন এই বলে যে, এই কিটব্যাগ আরেকজনের জায়গা দখল করছে। কিন্তু, শচীনের কাছে একজনের ভাড়াই থাকতো। ফলে, হেল্পারের কটূক্তিও অনেকসময় তাকে শুনতে হয়েছে।

আগেই সব লিখে দিলে আর আকর্ষন থাকবেনা, তাই আর কিছু লিখলাম না
এটুকু শুধু বলছি, তাঁর জীবনের বিভিন্ন স্তরের বৈচিত্র্যময় ঘটনার অসাধারণ বর্ণনা আছে বইটিতে। তাই, বইটা যখন কেউ পড়বেন, তখন বিরক্ত হবেন না এতটুকু গ্যারান্টি দেয়াই যায়।

ইংরেজী ভাষায় বইটি লেখা হলেও, ভাষা বেশ প্রাঞ্জল এবং সাবলীল। সত্যি কথা বলতে, আমি ইংরেজী ভাষায় লেখা বই খুব একটা পড়িনি। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো বইটা পড়তে সমস্যাই হবে। কিন্তু, সহজ শব্দের ব্যবহার আর প্রাঞ্জল শব্দবিন্যাস থাকার কারনে কোনোরকম সমস্যা ছাড়াই বইটি পড়তে পেরেছি।

সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে বইটা পড়ার জন্য। অসাধারণ একটা বই "Playing It My way"

শেষ করার আগে বইটা থেকে কয়েকটা লাইন তুলে দিচ্ছি পাঠকদের জন্যঃ

So here I am, at the end of my final innings, having taken that last walk back to the pavilion, ready to recount as many incidents as I can remember from a career in which I was lucky enough to be able to spend my time playing it my way.
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×