somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুভূতির কথাগুলি !

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৫:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব একটা জগত থাকে, থাকে কিছু স্বপ্ন, কিছু ভাল লাগা, কিছু ভালবাসা আরও থাকে একান্ত কিছু কষ্ট। যা কখনো খুব কাছের কাউকেও বলা যায়না। বুঝানো যায়না চিরদিনের সাথীকেও। আসলে নিজ মনোজগতে, চিন্তায়, কষ্টে, না পাওয়ার মাঝে সব মানুষই একা। অল্প সময়ের জন্য কেউ বন্ধু হয়ে আসে, কেউ আসে আরও কাছের হয়ে, আর কেউ চিরদিনই একা রয়ে যায়। না নিজে কারো আপন হতে পারে, আর না কাউকে আপন করতে পারে। কষ্টই হয়ে থাকে চির আপন। আর যারা একষ্ট সহ্য করতে না পারে, তারা হয়ে যায় চির একাকি ঘরের বাসিন্দা। আসলে মনের মানুষ বলতে যদি প্রিয়তমকে বুঝায়, যার ঘরে মরন পর্যন্ত থাকার কথা বলে দেন বড়রা। তবে মনে হয় একযুগ থাকার পরও কেউ কাউকে চিনবে না। কারন হিসেবে বলা যায় কেউ যদি মনের কোন কথা কাছের লোককেও জানাতে না চায়, তবে জানবে কেমন করে? আগে তো বলতে হবে। না বললে তো কোনদিনই জানা যাবে না সেই প্রিয়জনকে। চেনা যাবে না তার মনকে

একাকি থাকার কষ্ট কেউ কখনো বুঝবে না, বুঝবে না তা কতটা কষ্টদায়ক, একমাত্র যে একা থাকে সে ছাড়া। মনের আবেগ, অনুভুতিকে যদি প্রিয়জনে মনে করে দোষ, তখন আর কিই বা করার থাকে অপর জনের মেনে নেয়া বা ছেড়ে যাওয়া ছাড়া। কবি তার কষ্টকে কবিতার ভাষায় ফুটিয়ে তোলে, গায়ক তা গেয়ে প্রকাশ করে, শিল্পকার তা রঙ তুলিতে বিন্যাস করে, আর মনীষিরা তা প্রকাশ করে তাদের নতুন কোন সৃষ্টিতে বা কোন কাব্য কথার গাঁথুনিতে, বোবাজন প্রকাশ করে ঈশারায়, আমি তো সাধারণ মানুষ আমার কষ্টের ভাষা আমি কি করে প্রকাশ করবো আমি বুঝিনা। কি করে তা বললে সে বুঝবে তা অভিনয় নয়? কিভাবে শুনলে সে বুঝবে তা আমার মনের কষ্ট? কিভাবে করলে জানবে তা আমার বুক ভরা ভালবাসা? আসলে বিশ্বাস করাই অপরাধ। কাছে টানাই অপরাধ। নয় তো দু’বছর পর কাছে পাবার পরও কেন এত কষ্ট পেতে হল? কেন মাঝে মাঝে নতুন করে কষ্ট এসে বাসা বাঁধে? কেন সুন্দর একটি সকালের প্রত্যাশা করতে পারিনা আমি? প্রত্যাশা করতে পারিনা একটি ছোট নীড়ের। যেখানে সব কষ্টকে দু’হাতে সরিয়ে উদয় হতে সুযোগ দিতে পারি সুখের সূর্যকে।

আমরা মানুষ হয়তো অল্প চাওয়ার মাঝে আশা বেশি করি ফেলি, যে কারনে কষ্টও হয় বেশি। প্রত্যেক মানুষ যদি হৃদয় দিয়ে অনুভব করে তখন অনুধাবণ করতে পারে যে আমরা সত্যিকারোর্থে কে কাকে কতটুকু ভালবাসি, আর কতটুকু আশাকরি, আর কার মনে মানুষের জন্য কতটুকু সহানুভূতি, বাস্তবতার দিক দিয়ে মানুষ যখন কাউকে বেশি ভালবেসে ফেলে তখন অন্য সব কিছুকে তুচ্ছ মনে করতে থাকে, আর যখন সেই প্রিয় ব্যক্তি থেকে কষ্ট আসে অনাকাংখিত ভাবে তখন সত্যিকারোর্থে সে বুঝে আসলেই পৃথিবীতে কেউ কারো আপন হতে পারে না। আপন শুধু একজনই, যিনি কষ্টে রেখে যাচাই করেন। যিনি রোগ দিয়ে পরীক্ষা করেন, যিনি মন্দের মাঝে রেখে খাঁটি স্বর্নের মত করেন, পরোমূহূর্ত্বে আবার কাছে টেনে নেন, কোন স্বার্থ ছাড়াই। প্রকৃত ভাবে তারই কাছে প্রিয় হওয়া উচিৎ। আমরা মানুষ তা কখনো পেরে উঠিনা। কারন হিসেবে বলা যায় মাঝে মাঝে মানুষ তাকে ভুলে যায়। আপন মনে করে সাধারণ বন্ধুদের। সবার উচিৎ সেই প্রিয়জনকে খুশি করতে চেষ্টা করা জীবনের বিনিময়ে হলেও।

সবাই বলে না পাওয়ার মাঝে কষ্ট। আমরা সবাই একথাটি জানি। তবে এখন মনে হয়, না পাওয়ার চেয়ে পেয়েও কাছে না পাওয়ার কষ্ট অনেক অনেক গুণে বেশি। আমি মনে করি আপন করে না পাওয়ার কষ্ট একটি। আর পেয়েও কাছে না পাওয়ার কষ্ট অনেক, সিমাহীন। সেই কষ্ট যারা দেয় বা যাদের থেকে তৈরি হয়ে আসে তাদের সকলের বুঝা উচিৎ আমিও মানুষ, আমি যেমন ব্যথা পাই, সে ও পায়, আমার যেমন ভাললাগা আছে তার ও আছে, আমার যেমন অনেক বিষয় খারাপ লাগে, তেমনি তার ও লাগে, আমরা মানুষ নিজস্বার্থে বিভোর বলেই অন্যের মনে কষ্ট দিতে পারি অনায়াসে। বিবেক খাটে না অপরের উপর। বিবেক শুধু নিজের সব চাহিদা পূরণে ব্যস্ত। কেন এমন হয়? কেউ সব ছেড়ে এসে, আপন করতে চেয়েও পারে না। আবার কেউ নিজের ষোল আনা বুঝেও খুবই আপন হয়ে যায়। কত বৈচিত্রময় তৃভূমি? কত স্বার্থমূখর এজায়গার মানুষ গুলো। খারাপের দিকে বিচার করলে আমরা বেশির ভাগ লোকই চ্যাম্পিয়ান হবো। তবে ভালর দিক দিয়ে বিচার করলে তা মোটেই কিছু হবো না।

প্রত্যেক মানুষের আলাদা আলাদা কিছু গুণ থাকে যে গুণের কারনে মানুষ তাকে ভালবাসে, কাছে টানে, সহানুভুতি করে, অথবা নূন্যতম ভাল ধারনা করে তার প্রতি, আমার সে যোগ্যতাও নেই, যে মানুষকে ভালবেসে কাছে টানবো বা কাছে যাবো, বা কাউকে ভালবেসে কাছে রাখবো, কি করা এমন অযোগ্য ব্যক্তিও সেই একজনের হাতেই গড়া। তবে তার দয়ার যে শেষ নেই সে কারনে আমি বা আমার মত এমন অনেক অযোগ্য লোক এখনো বেঁচে আছে এই ধরাধমে। চলছে, ফিরছে, হাসছে, কাঁদছে সব অযোগ্যতার মাঝেও। কাউকে ভাল বুঝাতে চাইলে বুঝে বসে উল্টোটা, আদর করতে চাইলে উপহাস মনে করে, আর কষ্ট দিলে তো কথাই নেই একেবারে ভুলে বসে। বড়ই কঠিন এই মহা জগত সংসার, কত কি যে আছে এই স্বার্থময়, জ্বালাময়ী পৃথিবীতে এক সৃজন করেছে যে, সে ছাড়া কেউ জানেনা। জানতে পারবেও না। কারন এসবের মাঝেও আছে অজানা রহষ্য। আসলেই এই রহষ্যময়ী জগতের মানুষ গুলো আরও রহষ্যময়ী।

কষ্ট কঠিন তবে মাঝে মাঝে মেনে নেয়া যায়। আবার কখনো কখনো মেনে নেয়া যায়না। কিন্তু কিছু কিছু কষ্ট আছে যা মানতে এবং মানাতে খুবই কষ্ট হয়। কখনো বা এই কষ্ট গুলো মানাতে গিয়ে হার মানতে হয়। সে গুণটাও আমাদের মানুষের। ভালবাসার বিপরীত শব্দটা যে এত কঠিন তা বুঝছি জীবনের এই বাঁকে এসে। হয়তো কেউ আরও আগেই বুঝেছে, সাবধান হয়েছে, এবং কষ্ট সহ্য করার শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছে, আমি তা পারিনি ইতিপূর্বে, পরে পারবো কি না জানিনা। আমার আবেগ অনুভুতি একজনের কাছেই তো রাখবো আর সে হলে তুমি। নাকি বিকল্প কেউ আছে যে আমাকে কষ্টের মাঝে শান্তনা দিবে, হতাশার মাঝে প্রত্যাশার আলো ছড়াবে, আমার নিরবে ঝড়ে যাওয়া চোখের অশ্রু মুছে দেবে, সব কষ্ট, সব হতাশা, সব গ্লানি, সবের পরেও তুমিই আমার চূড়ান্ত চাওয়া/পাওয়া। জীবনে পূর্ণতার চাবী কাঠি, তুমি কি মনে কর বা ভাবো আমি জানি না। আমি শুধু জানি কেউ যদি কাউকে ভালবাসে তবে তার জন্য সেও কষ্ট পায়, আর সে ভাবে আমিও তোমাকে ভালবাসি, আর ভালবাসি বলেই আমি ও কষ্ট পাই এবং নিরবে অশ্রু ঝড়াই। তোমাকে দেইনা তা নয়। আমিও তোমাকে পাল্টা কষ্ট দেই। সাথে এই প্রত্যাশা করে যে, তিনি যেন তোমাকে কোন কষ্ট না দেন। যতটা আমি তোমাকে দেই।

শেষ বলে কিছু নেই। সব শেষের পরেই আবার শুরু হয়। আর সে শুরুর কোন শেষ নেই। প্রত্যেক ছোট থেকে ছোট, আর বড় থেকে বড় সব কষ্টের পরেই কিছু অভিজ্ঞতা হয়। জ্ঞানী জনেরও আবার অজ্ঞগণেরও। আর আমার চোখে সেই জ্ঞান ধরা পরে যখন তুমি কষ্ট পাওয়ার পরে অনেক কথা বলো, আসলেই তুমি জ্ঞানী। আমি তখন সাঁতরে বেড়াই বা বেড়াতে চাই তোমার সেই জ্ঞানের সাগরে। তুমি তখন আমার অজ্ঞাতাকে উপহাস করো না। মনে রেখ আমি তোমার সেই শুভাকাংখি যাকে তুমি পাওনি, তোমাকে দেয়া হয়েছে উপহার স্বরুপ, আর আমিও তোমাকে পেয়েছি সে রুপে যা আমি চিনতাম না, তোমাকে পরিচিত করা হয়েছে আজীবনের বন্ধু রুপে। তুমি সেই জন, সেই চির আপন, সেই তো আমার সুখের মাঝে কান্নার অতীত, আর কষ্টের মাঝের কাংখিত তীব্র সুখ। আর সেভাবেই থেকো বিদায় ক্ষনে। অভিনেত্রী ভেবনা কখনো, আমার অন্য রকম কষ্ট ভাগাভাগিতে তুমিই একজন পরম বন্ধু। পরম সাথী, আমার শেষ ক্ষনেও তোমার ভাল চাই, আমি যে তোমার শুভাকাংখি তাই, মনে রেখ আমিই তোমার সেই বন্ধু, সেই প্রিয়া, সেই অংশীদার যাকে পেয়েছো এক মহীয়ানের শক্তি বলে। যার ঈশারায় আমি তোমার হলেম। তিনি যেন রাখেন একে অপরকে একসাথে অনন্ত প্রহরে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৫:৪৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×