প্রথম পর্ব এখানে Click This Link
ক্লাশ শেষ হলে আদিল মেয়েটার সাথে পরিচিত হয়। ওর নাম সুমাইয়া চৌধুরী, বাড়ী ব্যাঙ্গালোরেই। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান সে। প্রথম দিন কথা বার্তা খুব বেশী দূর এগোয় না। আলাপচারিতা শেষে সুমাইয়া এক সময় নিজের বাড়ীর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। তখন আরেকটা ধাক্কা খায় আদিল। দেখে সুমাইয়া হোন্ডা ব্যবহার করে। স্কুটি না, সেসময় স্কুটির চল ছিল না। হোন্ডা চালকের ভূমিকায় ওকে পুরা বাঘিনীর মত লাগছিল। আদিল মুগ্ধ চোখে চেয়ে থাকল ওর চলে যাওয়ার দিকে। হাজার হোক বাঙালী ছেলেরা মেয়েদের হোন্ডা চালানো দেখে অভ্যস্ত নয়। মুগ্ধ বিস্ময় ভাবতো কাজ করবেই।
শহরেই এক রুমের এক বিশাল ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে আদিল। ভাড়া মাত্র ৬০০ টাকা। এক বুয়া আছে, সেই মহিলাই সকালের নাস্তা আর দুপুরের রান্না করে দিয়ে যায়। ঘরটা আদিলের খুব পছন্দ হয়েছে, এক রুম হলে কি হবে-ঘরতো নয় যেন হলরুম, এত্ত বিশাল। ঘরের ছাদ দেয়াল থেকে দুই ফিট উপরে ফলে আলো বাতাসে ঘর ভেসে যায়। বৃষ্টি এলে কাচের জানালা গুলো বন্ধ করে দিলেই হোত।
নাম শুনে বুঝা না গেলে কি হবে সুমাইয়া ধর্মের দিক দিয়ে ক্রিশ্চিয়ান ছিল। এ কথা আদিল সপ্পর্কের শুরুর দিকেই জানতে পারে। তখনও ভালবাসাটা সেভাবে গড়ে উঠেনি। বুঝতেও পরেনি এই মেয়ের প্রতি সে এক সময় গভীর আবেগ বোধ করবে। আসলে ভালবাসাটা কখন যে ডালপালা মেলে হৃদয়ের চারপাশ ছেয়ে ফেলেছে আদিল তার কিছুই টের পায়নি। মেয়েদের সেভাবে কখনও যে তার কাছ থেকে দেখা হয়ে উঠেনি। সারা জীবন বাবা মা বোন আর বন্ধু বান্ধবের সাথেই দিন কেটেছে। এই সব ছক বাধা সম্পর্কের বাইরে সুমাইয়াই তার প্রথম ভালবাসার মানুষ।
দিন গুলো কেটে যেতে থাকে ক্লাশ, নোট, লাইব্রেরীর মধ্য দিয়ে। নতুন নতুন বন্ধুদের পরিধি বাড়তে থাকে। সবাই মিলে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে একত্রে নোটস ও সাজেশন তৈরী করে, শেয়ার করে। বেশীর ভাগ সময় লাইব্রেরীতেই বসা হয়। কখনও কখনও আদিলের ঘরেও বসা হয়। সবাই একত্রে থাকলেও তারা দুজন যেন একটু আলাদা। বন্ধুরা সেটা টের পায়। কেউ কিছু বলে না। এমনটাতো হতেই পারে। তবুও তারা দুজনের ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কা বোধ করে। এর মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল বের হয়। দুজনেরই রেজাল্ট ভাল হয়েছে। রেজাল্ট শুনে বাবা মা তো মহা খুশী। আর তাদের খুশীতে বহু দিন বুকের উপর চেপে বসে থাকা ভারটা নেমে যায় আদিলের। অবসর পেলে সুমাইয়ার হোন্ডার পিছনে বসে শহর দেখতে যাওয়া হয়। এক্ষেত্রে সুমাইয়াই গাইডের ভূমিকা পালন করে।
এর মধ্যে এক দিন সব বন্ধুরা মিলে সুমাইয়াদের বাড়ি যায়। সারা রাত পার্টি করে। হৈ হুল্লড়, নাচ,গান,বিয়ার সব ছিল সেই পার্টিতে। সুমাইয়ার বাবা মা বেশ আধুনিক। তারা এসব কিছুতে কিছু মনে করেন না। মেয়েকে তারা যথেষ্ট স্বাধীনতা দি্যেছেন। তাই বলে যা খুশী তাই করতে সুমাইয়াকে কখনও দেখেনি আদিল।
দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে যায়। ইউনিভার্সিটির দিন শেষ হতে আর বেশী দিন বাকী নেই। প্রতি দিন দেখা হওয়া কথা হওয়া যেন একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে ওদের। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসাতেই হয়ত হারানোর আশঙ্কা কাজ করে আদিলের মাঝে। আদিল এত দিনে বুঝেছে সে সুমাইয়াকে ভালবাসে। তাকে ছাড়া জীবনের বাকী দিন গুলো কাটানো সম্ভব হবে না। সুমাইয়াও যে আদিলকে ভালবাসে সেটা তার আচরনেই প্রকাশ পায়। মেয়েদের ম্যাচিওরিটি যে ছেলেদের তুলনায় একটু আগেই আসে। তবুও ও চাইছিল আদিলই আগে বলুক। যতই বাঘিনীর মত লাগুক না কেন মেয়েদের সনাতন একটা ধ্যান ধারনা এই আগে বলাবলির ক্ষেত্রে কাজ করে। ভালবাসি কথাটা বলতে আদিল তিন বছর লাগিয়ে ফেলল। মনে মনে সুমাইয়া ওকে টিউবলাইট বলে ডাকে।
আদিল প্রস্তাব করার পর সম্মতি দিতে এক দিন সময় নিয়েছিল সুমাইয়া। আদিলের বিশ্বাস ছিল তার শিক্ষীত বাবা মা এই সপ্পর্ক মেনে নেবেন। সে বরঞ্চ ভাবছিল সুমাইয়ার বাবা মায়ের কথা। কিন্তু সুমাইয়া তাকে আশ্বাস দিল,বলল ও ওর বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান, ওর খুশীতেই ওর বাবা মা সুখি হবেন। আদিল সুমাইয়াকে এও বলল তার পরিবার স্বচ্ছল কিন্তু যথেষ্ট ধনী নয়। সুমাইয়া সে কথা হেসেই উড়িয়ে দিল। বলল তার বাবা বিরাট ব্যবসায়ী। তাদের বিশটির মত চা বাগান রয়েছে, এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য ব্যবসা। ঐ মুহূর্তেই সুমাইয়ার নামে ছিল বিশাল বাগান বাড়ী। একদিন সেই বাড়ীতে আদিলকে নিয়ে বেড়াতেও গেছে সুমাইয়া। তারা দুজনই তাদের সম্পর্ককে কখনও কোন গোপন অভিসারে নিয়ে যায়নি। আদিল চাইলে হয়তো তা করতে পারতো। কিন্তু সে এই নিতীতে বিশ্বাসী নয়। এক্ষেত্রে হয়তো তার বাবা মায়ের পারিবারিক শিক্ষাটা বাধা দি্যেছে।
এক দিন সুমাইয়া ওর খাটের তলা থেকে তালা দেওয়া একটা বড় কাঠের কারুকাজ করা বাক্স বের করে দেখাল। তালা খোলার পর যা দেখল আদিল তা বহু দিন মনে রাখবে। দেখল কত রকমের, কত জাতের পদের অলঙ্কার- বেশীর ভাগই সোনার, কোন কোনটা হীরা, পান্না, মনি-মুক্তার। টিভিতে দেখা খুজে পাওয়া গুপ্তধনের বাক্স গুলো যেমন হয় দেখতে, ঠিক তেমন। এখানে কত কেজি সোনা যে আছে সুমাইয়া নিজেও তা জানে না। না আদিলের এই সব ধন সম্পদের প্রতি খুব একটা মোহ কাজ করেনি তবে অস্বীকার করা যাবে না এক ধরনের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা কাজ করেছে।
চলবে.......।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



