somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ক্ষয়ে যাওয়া ভালবাসার গল্প- সত্য ঘটনা অবলম্বনে (পর্ব-২)

০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথম পর্ব এখানে Click This Link

ক্লাশ শেষ হলে আদিল মেয়েটার সাথে পরিচিত হয়। ওর নাম সুমাইয়া চৌধুরী, বাড়ী ব্যাঙ্গালোরেই। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান সে। প্রথম দিন কথা বার্তা খুব বেশী দূর এগোয় না। আলাপচারিতা শেষে সুমাইয়া এক সময় নিজের বাড়ীর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। তখন আরেকটা ধাক্কা খায় আদিল। দেখে সুমাইয়া হোন্ডা ব্যবহার করে। স্কুটি না, সেসময় স্কুটির চল ছিল না। হোন্ডা চালকের ভূমিকায় ওকে পুরা বাঘিনীর মত লাগছিল। আদিল মুগ্ধ চোখে চেয়ে থাকল ওর চলে যাওয়ার দিকে। হাজার হোক বাঙালী ছেলেরা মেয়েদের হোন্ডা চালানো দেখে অভ্যস্ত নয়। মুগ্ধ বিস্ময় ভাবতো কাজ করবেই।

শহরেই এক রুমের এক বিশাল ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে আদিল। ভাড়া মাত্র ৬০০ টাকা। এক বুয়া আছে, সেই মহিলাই সকালের নাস্তা আর দুপুরের রান্না করে দিয়ে যায়। ঘরটা আদিলের খুব পছন্দ হয়েছে, এক রুম হলে কি হবে-ঘরতো নয় যেন হলরুম, এত্ত বিশাল। ঘরের ছাদ দেয়াল থেকে দুই ফিট উপরে ফলে আলো বাতাসে ঘর ভেসে যায়। বৃষ্টি এলে কাচের জানালা গুলো বন্ধ করে দিলেই হোত।

নাম শুনে বুঝা না গেলে কি হবে সুমাইয়া ধর্মের দিক দিয়ে ক্রিশ্চিয়ান ছিল। এ কথা আদিল সপ্পর্কের শুরুর দিকেই জানতে পারে। তখনও ভালবাসাটা সেভাবে গড়ে উঠেনি। বুঝতেও পরেনি এই মেয়ের প্রতি সে এক সময় গভীর আবেগ বোধ করবে। আসলে ভালবাসাটা কখন যে ডালপালা মেলে হৃদয়ের চারপাশ ছেয়ে ফেলেছে আদিল তার কিছুই টের পায়নি। মেয়েদের সেভাবে কখনও যে তার কাছ থেকে দেখা হয়ে উঠেনি। সারা জীবন বাবা মা বোন আর বন্ধু বান্ধবের সাথেই দিন কেটেছে। এই সব ছক বাধা সম্পর্কের বাইরে সুমাইয়াই তার প্রথম ভালবাসার মানুষ।

দিন গুলো কেটে যেতে থাকে ক্লাশ, নোট, লাইব্রেরীর মধ্য দিয়ে। নতুন নতুন বন্ধুদের পরিধি বাড়তে থাকে। সবাই মিলে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে একত্রে নোটস ও সাজেশন তৈরী করে, শেয়ার করে। বেশীর ভাগ সময় লাইব্রেরীতেই বসা হয়। কখনও কখনও আদিলের ঘরেও বসা হয়। সবাই একত্রে থাকলেও তারা দুজন যেন একটু আলাদা। বন্ধুরা সেটা টের পায়। কেউ কিছু বলে না। এমনটাতো হতেই পারে। তবুও তারা দুজনের ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কা বোধ করে। এর মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল বের হয়। দুজনেরই রেজাল্ট ভাল হয়েছে। রেজাল্ট শুনে বাবা মা তো মহা খুশী। আর তাদের খুশীতে বহু দিন বুকের উপর চেপে বসে থাকা ভারটা নেমে যায় আদিলের। অবসর পেলে সুমাইয়ার হোন্ডার পিছনে বসে শহর দেখতে যাওয়া হয়। এক্ষেত্রে সুমাইয়াই গাইডের ভূমিকা পালন করে।

এর মধ্যে এক দিন সব বন্ধুরা মিলে সুমাইয়াদের বাড়ি যায়। সারা রাত পার্টি করে। হৈ হুল্লড়, নাচ,গান,বিয়ার সব ছিল সেই পার্টিতে। সুমাইয়ার বাবা মা বেশ আধুনিক। তারা এসব কিছুতে কিছু মনে করেন না। মেয়েকে তারা যথেষ্ট স্বাধীনতা দি্যেছেন। তাই বলে যা খুশী তাই করতে সুমাইয়াকে কখনও দেখেনি আদিল।

দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে যায়। ইউনিভার্সিটির দিন শেষ হতে আর বেশী দিন বাকী নেই। প্রতি দিন দেখা হওয়া কথা হওয়া যেন একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে ওদের। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসাতেই হয়ত হারানোর আশঙ্কা কাজ করে আদিলের মাঝে। আদিল এত দিনে বুঝেছে সে সুমাইয়াকে ভালবাসে। তাকে ছাড়া জীবনের বাকী দিন গুলো কাটানো সম্ভব হবে না। সুমাইয়াও যে আদিলকে ভালবাসে সেটা তার আচরনেই প্রকাশ পায়। মেয়েদের ম্যাচিওরিটি যে ছেলেদের তুলনায় একটু আগেই আসে। তবুও ও চাইছিল আদিলই আগে বলুক। যতই বাঘিনীর মত লাগুক না কেন মেয়েদের সনাতন একটা ধ্যান ধারনা এই আগে বলাবলির ক্ষেত্রে কাজ করে। ভালবাসি কথাটা বলতে আদিল তিন বছর লাগিয়ে ফেলল। মনে মনে সুমাইয়া ওকে টিউবলাইট বলে ডাকে।

আদিল প্রস্তাব করার পর সম্মতি দিতে এক দিন সময় নিয়েছিল সুমাইয়া। আদিলের বিশ্বাস ছিল তার শিক্ষীত বাবা মা এই সপ্পর্ক মেনে নেবেন। সে বরঞ্চ ভাবছিল সুমাইয়ার বাবা মায়ের কথা। কিন্তু সুমাইয়া তাকে আশ্বাস দিল,বলল ও ওর বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান, ওর খুশীতেই ওর বাবা মা সুখি হবেন। আদিল সুমাইয়াকে এও বলল তার পরিবার স্বচ্ছল কিন্তু যথেষ্ট ধনী নয়। সুমাইয়া সে কথা হেসেই উড়িয়ে দিল। বলল তার বাবা বিরাট ব্যবসায়ী। তাদের বিশটির মত চা বাগান রয়েছে, এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য ব্যবসা। ঐ মুহূর্তেই সুমাইয়ার নামে ছিল বিশাল বাগান বাড়ী। একদিন সেই বাড়ীতে আদিলকে নিয়ে বেড়াতেও গেছে সুমাইয়া। তারা দুজনই তাদের সম্পর্ককে কখনও কোন গোপন অভিসারে নিয়ে যায়নি। আদিল চাইলে হয়তো তা করতে পারতো। কিন্তু সে এই নিতীতে বিশ্বাসী নয়। এক্ষেত্রে হয়তো তার বাবা মায়ের পারিবারিক শিক্ষাটা বাধা দি্যেছে।

এক দিন সুমাইয়া ওর খাটের তলা থেকে তালা দেওয়া একটা বড় কাঠের কারুকাজ করা বাক্স বের করে দেখাল। তালা খোলার পর যা দেখল আদিল তা বহু দিন মনে রাখবে। দেখল কত রকমের, কত জাতের পদের অলঙ্কার- বেশীর ভাগই সোনার, কোন কোনটা হীরা, পান্না, মনি-মুক্তার। টিভিতে দেখা খুজে পাওয়া গুপ্তধনের বাক্স গুলো যেমন হয় দেখতে, ঠিক তেমন। এখানে কত কেজি সোনা যে আছে সুমাইয়া নিজেও তা জানে না। না আদিলের এই সব ধন সম্পদের প্রতি খুব একটা মোহ কাজ করেনি তবে অস্বীকার করা যাবে না এক ধরনের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা কাজ করেছে।

চলবে.......।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৮
২২টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×