somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিলু চলে যাবে এটাই স্বাভাবিক

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সকাল থেকেই নেওয়াজের অনেক ব্যস্ততা। চোখে পড়ার মতো। যেন সে যুদ্ধ জয়ে যাচ্ছে। বহুত কষ্টে নিজের উত্তেজনাকে দমিয়ে রেখেছে।তবে যুদ্ধ জয় বাক্যটি আসলে তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
নেওয়াজের ওয়াইফ নিলু রেডি হচ্ছে। আজকে সে চ’ড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অবতীর্ন হতে যাচ্ছে। সে যে এই স্টেজ পর্যন্ত আসতে পেরেছে। এতেই সে মহাখুশি। দ্বিতীয় রানারআপ হলেও এতে তার কোনো আপত্তি থাকবেনা। আর এসবের জন্য সে তার স¦ামীর অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। নিজের অফিস সামলেছে, ঘর সামলেছে, বাচ্চাদের দেখভাল করেছে। পাশাপাশি সে মনে মনে বেজায় রোমাঞ্চ অনুভব করছে। এতদিনে সে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে আজকের পর সেটা কোথায় যাবে তা ভেবেই সে রোমাঞ্চিত।
নেওয়াজের এখন কাজ হলো বাচ্চাদেরকে নাস্তা করাবে। তারপর তাদেরকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসবে। অফিসে সে আজকে একটু লেট করে যাবে। বসকে বলা আছে। তার আগে নিলুকে ঢাকা আইডল অনুষ্ঠানস্থলে দিয়ে আসবে। নেওয়াজ তার স্ত্রীর এই সাফল্যে গর্বিত। সাধারণ জীবনযাত্রার মানুষ সে। তার স্ত্রীও ছিলো একজন সাধারণ গৃহিনী। সংসার বাচ্চা কাচ্চা সামলানো ছিলো যার কাজ। আর আজকে সে তার পরিবারের জন্য কত বড় সম্মান বয়ে আনতে যাচ্ছে! বউয়ের পরিচয়ে নেওয়াজ নিজেও অনেকটা পরিচিত হয়ে উঠেছে। অফিসের সবাই তাকে সমীহ করে। পাড়া প্রতিবেশীরাও এখন আগ বাড়িয়ে কথা বলে।
‘এই শোনো, বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে সোজা বাসায় চলে আসবে। দশটার মধ্যে অবশ্যই বের হতে হবে! কত কিছু এখনও করা বাকি।’
‘তুমি চিন্তা করোনা। তোর টেনশন ফ্রি থাকাটা খুব জরুরী। আল্লাহ ভরসা। আমি যাচ্ছি। তুমি দরজাটা লাগিয়ে দাও।’
নিলু আবার নিজের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তার দুচোখে অনেক স্বপ্ন, রঙ্গিন জীবনের হাতছানি।
ঢাকা আইডলে নিলু হয়েছে দ্বিতীয় রানারআপ। এতেই বাড়িতে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সবাই শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, নিলুর প্রশংসা করছে। পাড়া প্রতিবেশিরা আনন্দ করছে। তারা দুজন গর্বিত যে সবাইকে আনন্দ উদযাপনের একটা উপলক্ষ্য করে দিতে পেরেছে। নেওয়াজের ইচ্ছে করছে ব্যান্ডপার্টি নিয়ে সে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। সেই হবে বাদক দলের প্রধান। আসে পাশের সব বাড়িতে মিষ্টি বিতরন করা হয়েছে। বন্ধু বান্ধব আতœীয় স্বজন সবাই এসেছে বাসায়। উৎসব মুখর পরিবেশ। তাদের ছা পোষা জীবনে এমন স্মরনীয় মুহূর্তের জন্য নেওয়াজ মনে মনে নিলুকে ধন্যবাদ জানায়। অফিসের অনেকেই তাকে ফোন করেছে। আগামীকাল তাদের সবাইকে মিষ্টি মুখ করাবে। নিজেকেও নেওয়াজের সেলেব্রিটি মনে হচ্ছে।
নিলুর জীবন এখন আর আগের মতো নেই। সে এখন মহা ব্যস্ত। টাইট তার শিডিউল। আজ এখানে প্রোগাম, কাল টিভি চ্যানেলে, পরশু অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি। রাতে বাসায় ফিরতে লেট হয়। সমস্যা হয়না কারণ তার যাতায়াত এখন গাড়িতে। এমনকি অনেক রাতে বাসায় ফিরতে পারেনা। বিশেষ করে যখন দূরের কোনো গানের প্রোগামে যায়। নেওয়াজ এ সবই মেনে নিয়েছে। মেনে নেওয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। কারণ সে তার বউয়ের সফলতাই চেয়েছিলো। তাকে সর্বদা উৎসাহ আর সমর্থন যুগিয়ে তাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। নেওয়াজের মনটা অনেক সময় খারাপ হয়। কারণ নিলু তাকে একদমই সময় দিতে পারে না। ওর সঙ্গ থেকে সে পুরোপুরি বঞ্চিত। বাচ্চারদরকে নিয়েই এখন নেওয়াজের সময় কাটে।তাদের কে সঠিকভাবে প্রতিপালনেই তার ব্যস্ততা।
এভাবে আরো বেশ কিছুদিন কেটে যায়। চারদিকে কানাঘুষা, ফিসফাস। মিডিয়াতেও অনেক খবর বেরোয়। হতে পারে সত্যি হতে পারে মিথ্যা। তারপরও নেওয়াজ তার বউয়ের প্রতি আস্থা বিশ্বাস ভালোবাসা রাখে। নিজেকে স্বান্তনা দেয় একজন সেলেব্রিটির হাসব্যান্ড সে। আর সেলেব্রিটিকে নিয়ে মিডিয়া গসিপ থাকবেই। তাদেরকেও বাজার ধরে রাখতে হবে।
নিলু গত এক সপ্তাহ ধরে বাসায় ফিরছে না। মোবাইলেও নেওয়াজ তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। এটা অবশ্য নতুন কিছু নয় । মাঝে মাঝেই তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তার কয়েকটি নাম্বার। নেওয়াজের কাছেও সবকটি নেই। নেওয়াজ ভাবে কতদিন বাচ্চারা তার মাকে মা বলে ডাকতে পারেনা। বাচ্চারা মায়ের অপেক্ষায় থেকে অবশেষে ঘুমিয়ে পড়ে। একজন মানুষের আর কত ধৈর্য থাকে। সেও তো রক্ত মাংসের মানুষ। এবার নিলু বাসায় ফিরে এলে নেওয়াজ তার সাথে এসব ব্যাপারে কথা বলবে। বলাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার সকালে নিলু বাসায় ফেরে। সাথে করে নিয়ে এসেছে ডিভোর্স লেটার। নেওয়াজের আর কিছু জিজ্ঞেস করা হয় না।


tanim jubair
all rights reserved
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু ছবি ‍কিছু কথা-----------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

-----------------



ব্লগে পোস্ট দিব দিব করে আর দেওয়া হচ্ছে না্। ঈদের ছুটিতে প্রায় ১৫ দিন ছিলাম গ্রামের বাড়ি। তখনও লিখবো করে আর মোবাইল হাতের কাছে পাই না..........বাচ্চা কাচ্চা খেলা ধুলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×