হ্যালো আম্মু.....!!
কেমন আছো তুমি? জানো আমি এখন মাত্র ৩-৪ইঞ্চি লম্বা!! আমার হাত-পা সবই আস্তে আস্তে প্রসারিত হচ্ছে, আমি তোমার স্পন্দন পাই, কথা শুনতে পাই, ভালো লাগে শুনতে। --- প্রথম মাসের শিশু ভ্রুণের কথা .....
আম্মু, আমি হাতের বুড়ো আঙ্গুল চুষা শিখছি, তুমি আমাকে এখন দেখলে বেবি বেবি বলবে! না এখন আসবো না, বাইরে আসার সময় এখনো হয়নি আমার, এখানেই উষ্ণ উষ্ণ অনুভবে আরামে আছি। --- দ্বিতীয় মাসের শিশু ভ্রুণের কথা .....
আম্মু তুমি কি জানো আমিও একটি মেয়ে শিশু? পরী পরী লাগবে আমাকে, আমাকে দেখলে তুমি অনেক খুশি হবে, তুমি মাঝে মাঝে কাঁদো কেনো আম্মু? তুমি কাঁদলে আমারও কান্না পায়। --- তৃতীয় মাসের শিশু ভ্রুণের কথা .....
আম্মু আমার মাথায় ছোট্ট ছোট্ট চুল গজিয়েছে আমি হাত-পা ভালো ভাবে নাড়াতে পারি, অল্প অল্প মাথাও নাড়াতে পারি, এখন অনেক কিছুই করতে পারি। --- চতুর্থ মাসের শিশু ভ্রুণের কথা .....
আম্মু তুমি ডাক্তার আংকেলের কাছে কেনো গিয়েছিলে? ডাক্তার আংকেল কি বলেছে? আমি তার কথা শুনতে পাইনি, তোমার কথা ছাড়া আমি কারো কথা শুনতে পাইনা। --- পঞ্চম মাসের শিশু ভ্রুণের কথা .....
আম্মু! আম্মুউ!! আম্মুউউউ!!! আমি অনেক ব্যথা পাচ্ছি আম্মুউউউ! ডাক্তার আংকেল লাঠির মতো কি দিয়ে আমার শরীর থেতলে দিচ্ছে, আম্মুউউউ! ওদের থামাও, আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি! আম্মুউউউ! আমি কি মরে যাচ্ছি? আম্মুউউউ! ওরা আমাকে মেরে ফেলবে? বলো না আম্মু আমি কি তোমার চেহারা দেখতে পাবোনা? আম্মুউউউ! মনেহয় জন্ম নেয়ার আগেই মরে গেলাম! কেন আম্মু? কেন? কি দোষ করেছি আমি? তোমরা সবাই মিলে কেন আমাকে মারলে? --- ষষ্ঠ মাসের শিশু ভ্রুণের কথা .....
আম্মুনি কেমন আছো? আমি এখন বেহেশতে আছি, ফিরিশতারা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে, আমি ফিরিশতাকে জিজ্ঞেস করেছি - আমাকে কেন দুনিয়া দেখতে দেয়া হয়নি? আম্মুকে কেন দেখতে দেয়া হয়নি? ফিরিশতারা বলেছে - তোমার আম্মু আর ডাক্তাররা মিলে তোমাকে এবরশন করেছে, তারা তোমাকে হত্যা করেছে, খুন করেছে খুন।
পাষানি আম্মুনি! তুমি আমাকে হত্যা করেছো? আর হত্যাই যদি করবে তাহলে নিজের রক্ত মাংস দিয়ে পেটে কেন ধরেছিলে? জান? জান্নাতে থেকেও আমার খুব রাগ হচ্ছে - আমি আল্লাহকে সব সত্যি সত্যি বলে দিয়েছি।
আল্লাহ্ কি বলেছে জান? আল্লাহ্ বলেছে - সকল অপরাধ ও কূ-কর্মের বিচার হবে। অবশ্যই বিচার হবে। আল্লার সেই বিচার হবে জমিনে, কবরে ও হাশরে। আলবৎ বিচার হবে আর তা হবে ধাপে ধাপে তিলে তিলে। আম্মু জেনে রেখো তোমরা কেউ আল্লাহর পাকড়াও থেকে রেহাই পাবেনা। --- এবরশন করা সেই শিশু ভ্রুণের কথা .....
প্রতিটি Abortion মানে হত্যা, খুন, একটি হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়া... একটি অনাগত জীবনকে থামিয়ে দেওয়া।
Abortion জিনিস টা কি???
বাচ্চা নষ্ট করার সব পদ্ধতিতেই এক ধরণের লম্বা নল জরায়ুতে ঢুকিয়ে গর্ভের শিশুটিকে প্রথমে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। পরে ভ্যাকুয়াম সাকারের মাধ্যমে শিশুটিকে শুষে আনা হয়। গর্ভপাতের সময়কার শিশুটির অব্যাক্ত বেদনা কারো কানে পৌঁছে না। মানুষ নামের নরপশুর নির্মমতায় একটি নিষ্পাপ শিশু মৃত নরম মাংসপিণ্ডের টুকরায় পরিণত হয়। যেসব মা ক্ষণিকের সুখের জন্য নিজ গর্ভের সন্তানকে পাশবিকভাবে হত্যা করে তাদের জন্য হৃদয় উগড়ে দেয়া সীমাহীন ঘৃণা।
প্রতিটি ডাক্তারকে, বাবাকে আর বিশেষ করে মাকে অনুরোধ করবো - এমন ঘৃণ্যতম কাজ করবেন না, যা প্রচলিত দেশীয় আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, মনুষ্য আর মানবতার জন্য অপরাধ আর ইসলাম শরীয়া ও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছেও জঘণ্যতম অপরাধ।
পবিত্র আল কোরআনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা বলেন -
''তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রকীট থেকে, তারপর রক্তপিন্ড থেকে, তারপর তিনি তোমাদের বের করে আনেন শিশুরূপে, তারপর যেন তোমরা বাড়তে পারো তোমাদের পূর্ণযৌবনে, তারপর যেন তোমরা বৃদ্ধ হতে পারো, আর তোমাদের মধ্যে কাউকে মরতে দেওয়া হয় আগেই, -- কাজেকাজেই তোমরা যেন নির্ধারিত সময়সীমায় পৌঁছুতে পারো, আর যেন তোমরা বুঝতে-সুঝতে পারো। (Ghaafir: 67)
আল্লাহরই হচ্ছে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব। তিনি যা চান তাই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে চান কন্যাসন্তান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা করেন পুত্রসন্তান দেন, (Ash-Shura: 49)
আর যখন জীবন্ত-প্রোথিত কন্যাসন্তানকে প্রশ্ন করা হবে -- (At-Takwir: 8)
আর তোমাদের সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না দারিদ্রের ভয়ে। আমরাই তাদের রিযেক দিই আর তোমাদেরও। নিঃসন্দেহ তাদের মেরে ফেলা এক মহাপাপ। (Al-Israa: 31)
ওহে মানবগোষ্ঠী! তোমরা যদি পুনরুত্থান সন্বন্ধে সন্দেহের মধ্যে থাক, তাহলে আমরা তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, তারপর রক্তপিন্ড থেকে তারপর মাংসের তাল থেকে -- গঠনে সুসমঞ্জস ও সামঞ্জস্যবিহীন, যেন আমরা তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট করতে পারি। আর যাকে আমরা ইচ্ছা করি তাকে মাতৃগর্ভে থাকতে দিই নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত, তারপর তোমাদের বের ক’রে আনি শিশুরূপে, তারপর যেন তোমরা তোমাদের পূর্ণজীবনে পৌঁছুতে পার। আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় আর তোমাদের মধ্যে কাউকে আনা হয় জীবনের অধমতম দশায় যার ফলে জ্ঞানলাভের পরে সে কিছুই না-জানা হয়। আর তুমি পৃথিবীকে দেখতে পাচ্ছ অনুর্বর, তারপর যখন আমরা তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা স্পন্দিত হয় ও ফোলে ওঠে, আর উৎপন্ন করে হরেক রকমের সুন্দর শাকসবজি। (Al-Hajj: 5)
নিঃসন্দেহ তোমাদের ধনদৌলত ও তোমাদের সন্তানসন্ততি তো এক পরীক্ষা। আর আল্লাহ্, তাঁরই কাছে রয়েছে বিরাট প্রতিদান। (At-Taghaabun: 15)
এই অসহ্য তিক্ত নোংরা অভিজ্ঞতার মূল লিখা সামুর "নিস্সঙ্গ যোদ্ধা"র - সেটিকে আমি সম্পাদনা ও কোরআনের আয়াত সংযোজন করেছি। আমরা এই অভিশপ্ত কুকর্ম থেকে মুক্ত থাকার আওয়াজ তুলছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


