তুমি বাতাসে উড়াও হস্তির পাল,
গলায় বেঁধে অহমিকার তাবিজ,
পর্বতের কান ধরে পকেটে রাখো,
আহ্লাদী বালকের চকলেটের মতো।
কথার তুবড়িতে জয় করো, যুদ্ধ,
দেশ মহাদেশ, গ্যালাক্সী আর ছায়াপথ।
তোমার সম্মুখে জ্ঞানী বিজ্ঞানী নস্যি!
গুলিস্তাঁ বোঁস্তা, রুমি জামি সামছ তিবরিজ
তোমার মননে মগজে,
তুমি ধন্য, তুমি অনন্য, মহামান্য।
তোমার ঢোলা আলখেল্লায় গর্বিত সুরত।
তোমার সুমিষ্ট পারস্য কাসিদায় সুমধুর ঝংকার,
তোমার উর্দু গজল আর কবিতায় সাহিত্যরসের মাদকতা,
তোমার পান্ডিত্য সুখ্যাত, প্রজ্ঞাময়।
হায়, মূর্খরা যদি বুঝতো!
ভিন্নদেশীয় রসতত্ত্ব,
তাহলে বর্তে যেত, ফজিলত এনায়েত হতো।
তোমাদের বাজারের পথ পাড়িয়ে
মার্কেটে গিয়ে যদি হয় কেউ মূল্যমান,
নিজের মায়ের ডাকে দেয় জবাব - মাগো,
নাপাক হবে কি সেইজন?
ঘোড়া উটের বিপরিতে সুপার সনিক আকাশযান,
ডাকিয়ার ঝোলার দিন শেষে,
ক্লিকের নিমিষে দুনিয়া পার,
বৈদ্য হাকিম বুডিয়ে গিয়ে
কাঁশে বসে মডার্ন মেডিকেল সাইন্সের দুয়ারে।
তুমি তবু জায়নামাজ উড়ানোর তাহলিলে ব্যস্ত,
নতজানু ধ্যানে বসে।
পেট্রিয়ট, এটম, ড্রোনের মোকাবেলায়,
ঢাল মস্তকে তরবারির শান দাও,
তীক্ষ্ণ থেকে তীক্ষ্ণতর তোমার বর্শার শলা।
যুদ্ধের ময়দানে কোটি মুসলীম হাঁক তোল -
আল্লাহু আকবর,
বাতিলের বোম্বারু বিমান
শহীদের মর্যাদা এনে দেয় মুহুর্তে।
লুটে পড়ে লক্ষ লক্ষ পবিত্র শরীর,
আহ! কি সহজ স্বর্গপ্রাপ্তি।
ঐশীগ্রন্থের বিজ্ঞান চুষে নেয় তারা,
তোমরা নাও ফজিলতের আয়াত।
তারা বনে মনিব,
আর তোমরা নিরিহ ভৃত্য!
যাদের পক্ষে থাকতো বাদশাহী,
তারাই আজ শোষিত,
নেতৃত্বে ছিলে যারা সহস্রাব্দ ধরে
তারাই আজ শাষিত।
আড়মোড়া ভেঙ্গে ঝামটা দিয়ে জাগো,
কথায় নয় কাজে শিক্ষায় জ্ঞান বিজ্ঞানে
ফিরিয়ে নাও, হারানো সম্ভ্রম।
স্বাক্ষী ছিলেন নবী তোমাদের তরে,
তোমরা স্বাক্ষী হও আমাদের পরে,
ফিরিয়ে আসুক
খালিদ বিন ওয়ালিদ,
কারীম কারীমভ,
ইবনে সিনা,
ইবনে তাইমা, আল কিন্দি, ইবনে শিরিন, আল ফারাবী।
জ্ঞানের বিজ্ঞান ভুলে ভিখারির
বেশে কেন আজ হে মুসলমান???
.
----- মুখোশের অন্তরালে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


