ব্রাম্মন মায়ের লিখা নও মুসলীম ছেলেকে পাঠানো শেষ চিঠি...
ছেলে যখন চিঠি পড়ছে মা তখন আর এই দুনিয়ায় নাই!
হিমাদ্রি,
দুনিয়ায় এগিয়ে চলো তুমি। তবেই বুঝবো তুমি আমার সন্তান। সত্য আর ন্যায়ের পথে চল। মাথার উপর রচনা কর এক নতুন আকাশ।
মাটির বুকে জ্বালিয়ে দাও এক নতুন জ্বলন্ত আগুন।প্রাণের অনির্বাণ বহ্নি।
যে মহান নবী প্রেমে ও আল্লাহ্ প্রেমে দিক্ষা নিয়েছ তুমি, নতুন জীবন জন্ম নিচ্ছে সেই প্রেমের আগুন থেকে।
কে নেভাবে এই আগুন?
কার সাধ্য আছে?
আগুনের ফুলকির মত বুকের গাভীর থেকে উথলে উঠবে নতুন বিশ্বাসের আলোয় উদ্ভাসিত সেই মন্ত্র।
ঈমানী শিখার জয় হোক।
আমার স্বপ্ন, আমার সন্তান সারা দুনিয়া জুড়ে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে চলছে একই পথে, সত্যের পথে, ঐশী প্রেমের পথে।
মিথ্যা শক্তিকে পায়ে থেঁৎলে পিষে গুঁড়িয়ে চলছে। শিরকের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। মহা পরাক্রমশালীর আশ্রয় থেকে তোমার সুস্থ দেহের সমস্ত দুর্নিবার শক্তির একটাই দাবী হোক, যেন মৃত্যু হয় ঈমানের সাথে, নবীর পথে।
সারা দুনিয়ার মুশরিকদের দেখাবে তুমি এক আল্লাহ্র পথ, এই হোক তোমার ব্রত।
হিমাদ্রি,
আমি তোমাকে বুঝাতে পারবো না, কত আনন্দ আমার, আমার ছেলে আমারই রক্তে মাংসে তৈরী, সে তাকে গ্রহণ করেছে বিশ্বপতি স্বয়ং। এখন মৃত্যু হলেও আমার আর কোন দুঃখ নাই, যে মিশন ঈশ্বর আমাকে দিয়েছিল, তা সফল হয়েছে সার্থক হয়েছে। আনন্দের স্পন্দন জাগুক তোমার বুকে।
বিশ্ব সংসারের মানুষকে আলো দেওয়ার মতো আলো তোমার ভেতর আছে, একদিন সবারই চোখে পড়বে সে আলো। সবাই এই আলোতে সম্মিলিত হবে।
বসন্ত সূর্যের সৃষ্টিময়ী শক্তিময়ী আলোয় উদ্দিপ্ত দীপ্তিতে ভাস্বর হয়ে জ্বলবে তুমি, সেদিন আমার বিজয়ী হৃদয় কোমল গর্বে ভরে উঠবে।
কৃতজ্ঞতায় মাথা নোয়ালাম বিশ্বপতির দরবারে। ভালো থেকো সমস্ত কষ্টকে সামাল দিও আপন শক্তি আর ধৈর্য্যে। কারো কাছে সাহায্য প্রার্থী হয়ো না। আমি তোমার একাউন্টে টাকা দিয়ে দিলাম। ঈশ্বর তোমার কোন অভাব রাখবে না কষ্টও হবে না তোমার। আমার আশিষ রইলো তোমার জন্য।
তোমার সুহৃদ শুভাকাঙ্ক্ষীর অভাব হবেনা, তুমি কারো কথায় নিমরাজি হয়ো না, ইচ্ছা হলেও এদিকে ফিরে এসো না। অনর্থক চিন্তা করে শক্তি ক্ষয় করো না।
তোমার জন্য আমার কলিজায় ঘা আছে, দগদগে জ্বলে, তবুও আমি শক্ত থাকি।কারন, পরম পিতার ইচ্ছায় তোমার কোন অমঙ্গল হবে না।
তোমার ঈমানের আগুন কেউ নেভাতে পারবে না। আমার মন আসীম শান্তিতে ভরে যায় তোমার কথা ভাবলে।
তোমার কিছুটা কষ্ট হবে, কারন, তোমার বেড়ে উঠা বড় হওয়া সবই হয়েছে ঐশ্বর্য্য আভিজাত্যের ভিতরে।
একটা কথা মনে রাখো - কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। নশ্বর দুনিয়া তুমি বিসর্জন দিয়েছো অবিনশ্বর জগতে তুমি থাকবে সুখে। তোমার পরশে আরো হাজারো জন পাবে সেই ঠিকানা, সুতরাং সাবধান!
কোন কিছুই যেন তোমাকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে।
তোমার রাগ বেশী, মনে রেখো - তুমি এখন মুসলীম, তোমার রাগ করা যাবে না।
মাছ মাংস না খেতে পারলে ভালো হবে, পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করিও।
আমার ইচ্ছা হলে তোমার সাথে কথা বলবো, তোমার ফোন করার দরকার নাই। ল্যাপটপ কিনে নিও।
ভাল থেকো, অটল থেকো, সাবধান থেকো।
পরম পিতা তোমার সাহায্য করবে।
আশীর্বাদ রইলো।
------ তোমার মা
আলোরাণী চক্রবর্তী
১৬.০৯. ২০১৩
--------
নও মুসলীম ছেলেটি যখন উচ্চ বংশীয় ব্রাম্মন পরিবার ছেড়ে পালিয়ে গেল, সত্য শ্বাস ধর্মের খোঁজে, আর ইসলামের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নিল। তখন তার পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় গোষ্ঠী ছেলেটিকে তন্ন তন্ন করে খুঁজছিল।
আর মমতাময়ী মা ছেলেকে এই চিঠি ইমেইলের মাধ্যমে পাঠিয়েছিল।
পরে কিছুদিনের মধ্যে, ছেলেটি যখন গোপন স্থানে ছিল - স্নেহময়ী এই মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরে যখন ইমেইল চেক করে তখন মায়ের এই চিঠি পাওয়া যায়!
আমার সৌভাগ্য আমি সেই মহান ব্যক্তিত্ব যার আইডি চক্রবর্তি থেকে ফারুকী এর সাথে দেখা করেছি, অনেক্ষন কথা বলেছি, আর এই চিঠি তার কাছ থেকে নিয়েছি।
আমি এই নব মুসলীম ভাইয়ের উভয় জাহানের সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


