"দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন"......
জন রিড এর অবিস্মরণীয় "দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন" বইটি পড়লাম। সত্যিই অসাধারণ একটা বই!
রুশ বিপ্লবের অনেক আগে থেকেই মার্কিনী জন রীড সাম্যবাদী। পেশায় ছিলেন সাংবাদিক আর আদর্শ সমাজতন্ত্র। সেই আদর্শের টানেই রাশিয়া সোভিয়েতে রূপান্তর কালের দশটি উত্তাল ঘটনাবহুল দিনে বলশেভিক, মেনশেভিক, সোশালিস্ট রেভলিউশনারিসহ অন্যান্য দলের ভূমিকাকে নিজে যেভাবে দেখেছেন এবং তৎকালীন রাশিয়ার সংবাদপত্রে যেসব বিবৃতি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাকে রেফারেন্স ধরে জন রীড বইটি লিখেছেন। যা বিশ্বের সচেতন পাঠক সমাজ পড়ে অন্তঃচক্ষু দিয়ে দেখেছেন সমাজতন্ত্রের বিজয়গাথা।
সমাজতন্ত্রের বিজয়গাথা লেখার জন্য সেদিন একজন জন রিড ছিলেন। নিদ্রাহীন রাতের উপাখ্যান লেখার জন্য সেদিন একজন জন রিড সারা রাত জেগে ছিলেন। সেদিন আরকেন্জেল থেকে ব্লাডিভোস্টক, গোটা রাশিয়া জুড়েছিল সেই চলমান ইতিহাস, মানুষের বাঁধন ছেঁড়ার ইতিহাস-সমাজতন্ত্রের ইতিহাস।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ফিলিস্তিনের নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলমান, রোহিঙ্গা মুসলমান, সিরিয়া, ইয়েমেন, চীনের উইঘুরের মুসলমান, কাশ্মীর তথা গোটা ভারতবর্ষের নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলমানদের দুরাবস্থার কথা নিয়ে লেখার মতো একজন 'জন রিড' নেই!
'তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরশাসক' কতৃক দেশ বিদেশের গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যার শোকগাথা লেখার জন্য কোনো জন রিড নেই। শুধু রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণেই দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মী এমনকি লক্ষ লক্ষ সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, নির্যাতন জেল জুলুম করে ঘরছাড়া করেছে সেই শোকগাথা লেখার জন্য একজন জন রিড নেই। উন্নয়নের নামে লুটপাট করার কথা লেখার জন্য একজন জন রিড নেই!
হতাশার মধ্যেও স্বপ্ন দেখি একদিন না একদিন, কেউ না কেউ লিখবে। বিশ্বাস করি- কেউ জেগে আছেন বিবেকহীনদের মাঝে নিজের বিবেক নিয়ে আমাদের কথা লেখার জন্য
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



