মায়ের কাছে খোলা চিঠি....
‘ও তোতা পাখিরে, শেকল খুলে উড়িয়ে দেবো- আমার মাকে যদি এনে দাও’....
তোতা পাখি,
তুমি আমার মাকে খুঁজে এনে দিতে পারবেতো, নাকি মাকে খুঁজে আনতে যেয়ে তুমিও হারিয়ে যাবে মায়ের মতো! আবার সত্যিই যদি তুমি আমার মাকে ফিরিয়ে আনতে পারো তাহলে আমার মা কি আমাকে চিনতে পারবে? নাকি মা আমাকে একেবারেই ভুলে গেছে? না না, মা কি কখনও তার সন্তানকে ভুলতে পারে!
মা, জানি আমায় তোমার মনে আছে, হয়তো মনেও পরে। কিন্তু জানি তুমি আমায় এতো বছর পরে দেখলে চিনতে পারবে না। আমিতো আর সেই কুতকুতে ছোট্ট আমিটি নেই। আমিও জানি না তুমি কেমন দেখতে। আমার জন্মের সময় তুমি কি আমাকে চোখ মেলে দেখেছিলে? কিম্বা তোমার মৃত্যুর সময় আমি কি আমার আধখোলা চোখ দিয়ে তোমার চলে যাওয়া দেখেছিলাম? ওসব কিচ্ছু আমার মনে নেই। ঘন্টা গোনা বয়সে আমার কি আর সেই বোধ শক্তি ছিল, বলো! তাই তোমার মুখটাও আমি কল্পনায় খুঁজে পাইনা। তোমার ছবিটাও নষ্ট হ'য়ে গেছে-যা দেখে তোমাকে মেলাতে পারিনা। কিন্তু জানি তুমি আছো, কোথাও নিশ্চই আছো, ভীষণ ভাবে আছো- হয়তো মাটির সাথে মিশে কিম্বা দূর আকাশের তারা হয়ে। আমার মা আছে আমার নজরের বাইরে, আমার মা আছে আমার বোধে, আমার মা আছে আমার অন্তরে।
আমাকে অতটুকুন রেখে কেন পরোপারে চলে গিয়েছো সেই কৈফিয়ত আমি চাই না। আমি শুধু একবার তোমায় দেখতে চাই মা। ছোঁয়া নাইবা পেলাম, শুধু একবার! হোক না তা স্বপ্নে। তবুও জানবো এই বিশ্ব সংসারে স্পর্শের বাইরে হলেও আর পাঁচটা মায়ের মতো আমারও মা আছেন! আমার গর্ভধারিণী, আমার জন্মদাত্রী! আমায় কেন ফেলে চলে গিয়েছিলে আমি জানতে চাই না মা। কারণ আমি বিশ্বাস করি, পৃথিবীর অমোঘ নিয়মে তুমি চলে গিয়েছো সময়ের অনেক আগেই না ফেরার দেশে- তোমার শরীরের একটা অংশকে ছেড়ে।
জানো মা, কল্পনায় পৃথিবীর সব মায়ের মুখের সাথে তোমার মুখ মিলিয়ে আমার হৃদয় জুড়ে এক ভিন্ন রকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়। সেই অনুভূতি গভীর শ্রদ্ধার, ভালোবাসার, খুব বেশী কষ্টের.....
জানি না কখনও তোমার হাতে এই চিঠি পৌঁছবে কিনা। যদি পৌঁছায়, একটিবারের জন্য তুমি এসো মা। আমি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবার আগে, আমার এই সাধ পূর্ণ করে যেতে চাই। জীবনে তোমার কাছে কখনও কোন বায়না করার সুযোগ পাইনি, তোমায় পাইনি তাই। আমার এই প্রথম আর শেষ বায়নাটা তুমি নিশ্চই রাখবে। কোনো সীমাবদ্ধতা আমি বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি- সকল সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে তুমি আসবে...আমি আমার এই বিশ্বাসটুকু শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত লালন করবো।
(অভিশপ্ত তিন এক উনিশশো উনষাট)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



