somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ড্রাগনের দেশ ভুটান.....

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বজ্র ড্রাগনের দেশ ভুটান......
একদিকে বিশাল চায়না আরেকদিকে জায়ান্ট ভারত। মাঝখানে এক শান্তির নিবাস ভুটান। দ্রুত কিছু মানুষের মিলিওনিয়ার হওয়ার রেকর্ড যেমন ভুটানে নেই, ঠিক তেমনি ভুটানে একজন হোমলেস মানুষও নেই। স্বাস্থ্য চেকআপে ভুটানে কেউ যেমন-সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইউরোপ -আমেরিকা ছুটোছুটি করেনা- তেমনি ভুটানে হেলথকেয়ার সম্পূর্ন রুপে ফ্রি। ভুটানের হেল্থ মিনিস্ট্রির মূল লক্ষ হলো "এ নেশন উইথ দ‌্য বেস্ট হেলথ"।

২০১০ সাল থেকে ভুটানে যেকোনো রকম তামাক, ড্রাগ জাতীয় দ্রব্যের উৎপাদন,বন্টন,বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ভুটান হলো পৃথিবীর সর্বপ্রথম ধূমপানমুক্ত দেশ। ভুটানের টার্গেট হলো- "দেশের মূল সম্পদ যুব সম্প্রদায়কে বাঁচাতে হবে। ডাক্তার, হাসপাতাল, ক্লিনিকে ছুটোছুটি করার আগে রোগ প্রতিরোধের কার্যকরী উপায় বের করতে হবে। রোগের সাম্রাজ্যে বাস করে শুধু ল্যাব, ক্লিনিক, হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করলে কিছুই হবেনা। শারীরিকভাবে অসুস্থ জাতি সামনে এগোতে পারেনা"।

ভুটানের সবচেয়ে মনোহর দিকটি হলো তাদের ইকোলজি সিস্টেম। আমরা যখন গাছ কাটো, খাল, নদী ভরাট করে শুধু নিজের মুনাফাটাই বাড়ানীর চিন্তায় বিভোর, ভুটান তখন সম্পূর্ণ রুপে উল্টো। তাদের লক্ষ্য হলো- ব্যক্তিকেন্দ্রিক মুনাফা নয়, সামগ্রিক মুনাফা। ইকোলজি সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেলে উঁচু ভবন নির্মাণ, পারমানিবক প্রকল্প ইত্যাদিতে দেশ রক্ষা পাবেনা। ভুটানের আইন অনুয়ায়ী দেশের ৬০% বনভূমি থাকতে হবে। কিন্তু এই বনভূমি ওদের রয়েছে ৭১%। যেখানে আমাদের মাত্র ১৪%। ভুটান দুনিয়াতে এক অবাক কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা হলো- ভুটানই পৃথিবীর একমাত্র 'কার্বন নেগেটিভ' দেশ। যার অর্থ হলো- এখানে যত কার্বন প্রডিউস হয় তার চেয়ে বেশি কার্বন প্রকৃতি এ্যবজর্ভ করে। আহা! পুরো ভুটানই আক্ষরিক অর্থে এক বিশুদ্ধ বাতাসের কলোনি।

শুধু যে বিশুদ্ধ বাতাসের কলোনি তাই না ভুটানের কেউই নিজের খাবারে নিজে বিষ মিশানোর চিন্তাও করতে পারেনা। ঐ যে আগেই বলেছিলাম-সবার আগে স্বাস্থ্য। পুরো ভুটান শতভাগ অর্গানিক। যে কোনো ধরনের কেমিক্যাল প্রডাক্টের আমদানী এবং ব্যবহার সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। সবকিছুই একেবারে ন্যাচারালি কাল্টিভেটেড।

ভুটানের আরেকটি অবাক করা সুন্দর দিক হলো-পৃথিবীতে একমাত্র ওদেরই রয়েছে-"দ্য মিনিস্ট্রি অব হ্যাপিন্যাস"। ২০০৮ সালে গ্রোস ন্যাশনাল হ্যাপিন্যাস কমিটি গঠিত হয়-যারা মানুষের ইনার পিসের খেয়াল রাখে। লক্ষ রাখে কেউ যেন মানসিক অবসাদ, ডিপ্রেশন-হতাশায় আক্রান্ত না হয়। এগুলো যত বাড়বে অশান্তি,নৈরাজ্য তত বাড়বে।

"জিডিপি"বা গ্রোস ডমেস্টিক প্রোডাক্টের চেয়ে ওদের গুরুতৃ "জিএনএইচ"বা গ্রোস ন্যাশনাল হ্যাপিন্যাসের প্রতি। ২০১৫ সালে ওরা দেশব্যাপী একটা সেন্সাস করে -যেখানে একটা প্রশ্ন ছিলো- ভুটানে বাস করে আপনি কতটুকু সুখী। ৯১% মানুষ নিজেকে সুখী বলে, ৪৩% নিজেদের ডীপলি সুখি বলে। তাই জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে ভুটান ভুটানের মানুষ পৃথিবীর অষ্টম সুখী দেশ।

বাংলাদেশের সরকারের মতো ভুটান নিজেদের জাপান, কানাডা, মালেশিয়া, সিংগাপুর বানাতে চায়না। ভুটান নিজেদের ভুটানই বানাতে চায়। ভুটান আগামী এতো বছরের মধ্যে পৃথিবীর সব দেশকে লোন দিবে বলে চীৎকার করেনা। নিজেরাই যেন ঋণমুক্ত থাকতে পারে সেই টার্গেটই তৈরি করে। ভুটানের কাজ বেশী, অনেক বেশী। উল্টোটা না বলাই ভালো বরং বলাই বাহুল্য।

ভুটানের সকল উন্নয়নের সূত্র "আমরা ভুটানের জনগণ", " আমি" কিম্বা কোনো একক "পরিবার" নয়।

সব চাইতে আশ্চর্যজনক হচ্চে- ভুটানে এতো এতো অগ্রগতি বাস্তবায়নের পরেও ভুটানের কাছে বিদেশীরা "উন্নয়নের রহস্য জানতে চায়না" এবং ভুটান সরকার "উন্নয়ন রপ্তানি"র ঘোষণা দেয়না!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৫
৩১টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×