somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

A Short-story of LOVE...

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

A Short-story of LOVE...

চারপাশে অন্ধকার। রক্ত। বুলেট। মৃত্যু। সেই আশ্চর্য মহালগনে, ওদের দুজনের দেখা হয়েছিল।
জের্জি বিয়েলেস্কি রোমান ক্যাথলিক, ইহুদীদের সাহায্য করার অপরাধে ওকে বন্দী করে আনা হয়েছিল আউৎস্ভিৎস-এ। সাইলা সাইবুল্স্কা অবশ্য নিজেই ইহুদী, ফলে তাকে তো মরতেই হবে আজ না-হয় কাল। তার পরিবারের সবাইকে তারই সামনে একে একে হত্যা করা হয়েছে। এবার একদিন তার পালা।
ওই কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সহ-বন্দী হিসেবে অনিবার্য এক মৃত্যুনদীর কিনারে দাঁড়িয়ে ওদের যখন প্রথম একে অন্যকে ভালো লাগছিল অল্প অল্প করে, তখন ওরা দুজনেই একটা কথা খুব ভালো করে জানত: শিগগির একদিন গ্যাস চেম্বারের ভিতর ঢুকে যাওয়ার আগে শেষ অভিবাদন জানাতে হবে একে অন্যকে!
যেদিন কড়া-চোখের গার্ডগুলোকে লুকিয়ে সাইলাকে প্রথম চুমু খেয়েছিলাম, সেইদিন হঠাৎ মনে হয়েছিল, দুজনে মিলে একবার বাঁচার শেষ চেষ্টা করলে কেমন হয়!

যেমন ভাবা তেমনি কাজ। প্রায় আট মাসের ঝুঁকিপূর্ণ গোপন চেষ্টায় জোগাড় হল এস.এস. গার্ডদের একটা ইউনিফর্ম আর দুটো নকল পাস। ১৯৪৪ সালের ২১ জুলাই সাইলার হাত ধরে বিয়েলেস্কি মৃত্যুক্যাম্পকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে পড়ল পথে। দশদিন একটানা অরণ্য-মাঠ-নদী পেরিয়ে তারা এসে পৌঁছল এক আত্মীয়ের বাড়ি।

কিন্তু এখানে অনির্দিষ্টকাল থাকা খুব নিরাপদ নয়। আর দুজনে একসঙ্গে একই জায়গায় লুকিয়ে থাকাও অসম্ভব। বিয়েলেস্কি সাইলাকে একটা নিরাপদ আস্তানায় রেখে যখন শেষবারের মতো চলে যাচ্ছিল নিজের জন্য একটা ভিন্ন ঠিকানার খোঁজে, সাইলা বলেছিল, "অপেক্ষা করব তোমার জন্য। বিয়েলেস্কি বলেছিল, নতুন ভোরে দেখা হবে সাইলা"।
কিছুদিন পির গোপন ডেরায় বসেই খবরটা পেল সাইলা- পোলিশ রেজিস্ট্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে নাজি সৈন্যদের গুলি বিনিময়ে মৃত্যু হয়েছে বিয়েলেস্কির। ও আর কখনও ফিরবে না!

সাইলা বেরিয়ে পড়ে পথে। ওয়ারশ হয়ে, সুইডেন হয়ে একটা সময়ে ও আমেরিকা চলে যায়।
আসলে সাইলার কাছে পৌঁছোনো খবরটা ছিল মিথ্যা। প্রায় ৪০ কিলোমিটার লম্বা বরফে-ঢাকা-পথ পেরিয়ে বিয়েলেস্কি যেদিন সাইলাকে নিয়ে যেতে সেই গোপন ডেরায় এসে পৌঁছোল, তার চারদিন আগে সাইলা ওখান থেকে চলে গেছে!
বিয়েলেস্কি সাইলার অনেক খোঁজ করেছিল নানা জায়গায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত, খবর আসে, সুইডেনে পৌঁছে সাইলার মৃত্যু হয়েছে।
বলা বাহুল্য যে, এই খবরও ভ্রান্ত!
তারপর যেমন হয়। জীবন তার ছন্দে বয়ে চলে। দুজনেরই নতুন প্রেম, বিয়ে, সংসার, সন্ততি সবই হয়। আর দুজনেই একে অন্যকে ধরে রাখে ব্যক্তিগত স্মৃতিতে। অবশ্য পুরোটা ব্যক্তিগত না। স্বামী-স্ত্রী-নাতি-পুতিদের কাছে এই গল্প ভাগ করে নিতে ভালোবাসত ওরা দুজনেই।

১৯৮৩ সালের মে মাসের এক দিন, এইরকমভাবেই, নিউইয়র্কে নিজের বাড়িতে বসে সাইলা এই গল্পটা বলছিল দু-একজনকে। কথাগুলো বাড়ির পরিচারিকার কানে যেতেই তিনি থমকে যান। বলেন, 'ম্যাডাম, আপনার এই গল্পটা আমি অন্য একজনের মুখে শুনেছি!'
- "কার মুখে?"
- 'একটা টিভি চ্যানেলে এক ভদ্রলোক ঠিক এই গল্পটাই বলছিলেন একদিন। তাঁর জীবনের গল্প!'
টিভি চ্যানেলের সূত্রে বিয়েলেস্কির ঠিকানা আর ফোন নম্বার জোগাড় করতে সাইলাকে পরিশ্রম করতে হয়েছিল বটে....
১৯৮৩ সালের ৮ জুন পোল্যান্ডের ক্রাকো এয়ারপোর্টে সাইলা যখন নামল, ধীরে ধীরে তার একেবারে সামনে এসে দাঁড়াল বিয়েলেস্কি। ষাঠোর্দ্ধ এক প্রৌঢ় সর্বসমক্ষে হাঁটু-মুড়ে বসল সমবয়সী এক নারীর সামনে। তার হাতে ছিল ৩৯টা রক্তগোলাপ। বিয়েলেস্কি বলল, "গ্রহণ করো, সাইলা।"
দুজনের শেষবার দেখা হয়েছিল ৩৯ বছর আগে!
তারপর কী হল?
সব গল্পের শেষে সবসময় কিছু হতেই-বা হবে কেন?

নিউইয়র্কে ফিরে যাবার আগে সাইলা বলেছিল, এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে একবার-যে তোমার সঙ্গে দেখা হল, জীবনের কাছে বড্ড কৃতজ্ঞ লাগছে আজ! বিয়েলেস্কি বলেছিল, ভালো থেকো সাইলা।
এরপর ওরা ফিরে গেল নিজের নিজের দেশে।
দেশ তো নয়, দুটো আলাদা মহাদেশ। মধ্যিখানে অতলান্ত সমুদ্র। তাতে অনেক ঢেউ। আমৃত্যু ওরা এইটুকু বিশ্বাস করত, অনেক দূরে ওদের একজন বন্ধু আছে। সে-ও এক মস্ত ‘থাকা’!
এই হল মৃত্যু-অতিক্রমী জীবনবোধ। সহজ করে, সাদা করে জীবনকে দেখতে পারার এই এক আশ্চর্য ক্ষমতা। সহজের সাধনা আসলে ততটা সহজ না।
বেশ কয়েক বছর আগে পড়া ‘ব্ল্যাক বুক অব পোলিশ জিউরি’ - থেকে একটি ঘটনা নিজের মতো করে প্রকাশ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:১৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×